মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

সিরিয়ায় দীর্ঘ অবস্থানের বিষয়ে ট্রাম্পকে বুঝিয়েছে ফ্রান্স : ম্যাক্রোঁ

এএফপি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে’ সিরিয়ায় অবস্থানের ব্যাপারে প্যারিস ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সঙ্ঘাতপূর্ণ এ দেশের ব্যাপারে মার্কিন মিশনের ‘কোনো পরিবর্তন নেই।’

সিরীয় সরকারের বিভিন্ন অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নজিরবিহীন অভিযানে ফ্রান্স যোগ দেয়ার একদিন পর ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, এ হস্তক্ষেপ আইনসম্মত। তিনি সাত বছরের এ বর্বর যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ দিতে আন্তর্জাতিক ক্ষমতাধরদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

রোববার একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে ৪০ বছর বয়সী মধ্যপন্থী এ নেতা বলেন, ‘আমরা বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি না।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আবারো যুক্তি তুলে ধরে ম্যাক্রোঁ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারকারীরা শাস্তি পাবে না এমনটা হতে পারে না।

পশ্চিমা এ দেশ বলছে দৌমা শহরে বিষাক্ত গ্যাস হামলার জবাবে কথিত রাসায়নিক অস্ত্রের তিনটি স্থান লক্ষ্য করে শনিবারের বিমান অভিযান চালানো হয়।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বৈধতা পরিপূর্ণভাবেই আমাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য রাসায়নিক অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করেই নির্ভুল অভিযান চালায়।

মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশে ম্যাক্রোঁ বলেন, সিরিয়া যুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে ট্রাম্পের মনের পরিবর্তনে ফ্রান্স সহায়তা করে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘মাত্র ১০ দিন আগে ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র যতদ্রুত সম্ভব সিরিয়া থেকে চলে আসতে চায়।’

তিনি তার সাক্ষাতকারীদের বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি যে সিরিয়া যুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমরা ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’

তবে ম্যাক্রোঁর এ সাক্ষাতকার প্রচার করার পরপরই হোয়াইট হাউস জানায়, সিরিয়ার ব্যাপারে মার্কিন মিশনের ‘কোনো পরিবর্তন নেই।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে যত দ্রুত সম্ভব তিনি সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আইএস’কে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া আমরা সেখানে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই যেটা আইএসের ফিরে আসাকে প্রতিরোধ করবে। আমাদের আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদাররা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সামরিক ও আর্থিক উভয় ক্ষেত্রেই আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করছি।’

 

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ও ব্রিটেনের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কারখানা ও অস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যুদ্ধবিমানগুলো সে দেশে ১০৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগন বলেছে, সিরিয়ার তিনটি রাসায়নিক অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে শুক্রবার রাতে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটবার্তায় বলেছেন, হামলা সফল হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ায় হামলায় সমর্থন জানিয়েছে। অন্য দিকে সিরিয়া, রাশিয়া, চীন ও ইরান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়া বলেছে, এই হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এক বছর আগে সিরিয়ায় মার্কিন হামলার চেয়ে শুক্রবার রাতের হামলা ছিল অনেক ব্যাপক। খবর আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির।

শুক্রবার রাতে সিরিয়ার যেসব স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো দামেস্কের বারজেহ জেলায় একটি গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কেন্দ্র। অন্য দু’টি হলো হোম শহরে অবস্থিত দু’টি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান বা অস্ত্রাগার। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় বেসামরিক লোকদের ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দুই দেশ কর্তৃক এমন হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিলেন, তিনি সিরিয়ায় হামলা চালাবেন।

ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর থেকে শতাধিক মিসাইল ছুড়ে একটি রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা, একটি ফাঁড়ি এবং একটি অস্ত্র মজুদের স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করা হয়। সিরীয় বাহিনী দাবি করেছে, পশ্চিমা জঙ্গিবিমানগুলো থেকে ছোড়া ১০৩টির ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্য ৭১টি তারা আটকে দিয়েছে বা ধ্বংস করেছে।

হামলার ছবি প্রকাশ : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের চালানো ৭০ মিনিট স্থায়ী হামলায় সিরিয়ার যেসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে সেগুলোর ছবি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা গেছে, ধোঁয়া উড়তে থাকা ধ্বংসস্তূপে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। হামলার য়তি সম্পর্কে মার্কিন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, হামলায সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি অন্তত তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টোলেনবার্গ বলেছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে তিন দেশের হামলায় ন্যাটোভুক্ত সব দেশ সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র সমতা কমানো ও দোমার মতো বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আবার কোনো রাসায়নিক হামলা বন্ধ করার লক্ষ্যে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার যদি আবারো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শনিবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি খর্ব করতে পেরেছি।

মিশন সম্পন্ন : ট্রাম্পের টুইট

সিরিয়া হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফ্রান্স ও ব্রিটেন অংশ নেয়ায় এ দেশ দু’টিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে ওই হামলাকে পুরোপুরি সফল দাবি করেছেন তিনি। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প এই ধন্যবাদ জানান।

হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ : মস্কো

সিরিয়ায় যৌথ বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এই হামলার পরিণতি ভয়াবহ হবে এমন হুমকি দিয়ে মস্কো বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সিরিয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.