ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

রাজনীতি

কোটা সংস্কার : মামলা প্রত্যাহার না হলে ‘আন্দোলন’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৬ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৩:০৫


প্রিন্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা ‍দু‘দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। দুই দিনের মধ্যে এই দাবি পূরণ না হলে তারা আন্দোলনে নামবেন বলে জানিয়েছেন।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে যে মামলাগুলো করা হয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে সেগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে লি‌খিত বক্তব্য রা‌খেন প‌রিষ‌দের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর। এ সময় অন্যা‌ন্যের ম‌ধ্যে ছি‌লেন আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও ফারুক হাসান প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্য আন্দোলনের যুগ্ন আহ্বায়ক নূরুল হক নূর বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিত্তিহীনভাবে যে অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা এখনো প্রত্যাহার করেনি।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়েছে তা প্রত্যাহার না করলে ছাত্রসমাজ আবার আন্দোলনে নামবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নূরুল হক নূর বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের সব কিছু তদন্ত করে দেখেছে। আমাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা। কিন্তু তারা নেগেটিভ কিছু না পাওয়ায় আমাদের হয়রানি করেনি।

যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবী মেনে নিয়েছেন, তখন একটা কুচক্রি মহল আমাদের বিরুদ্ধে বিএনপি জামায়াত বলে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত করা মানে সরকারকে বিতর্কিত করা। দেশকে অস্থিতিশীল করা।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভি‌সির বাসায় হামলা হয়েছে সেখানে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী জড়িত নয়। কিন্তু একটি জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট করেছে কেন্দ্রীয় কমিটির একজনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ভিসি বাড়িতে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা সকল ধরনের সহযোগিতা করবো। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে ফাসানোর চেষ্টা করলে বাংলার ছাত্র সমাজ তা মানবেনা।

আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভিন্ন অপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের যুগ্ন আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একটা জাতীয় দৈনিকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আমি নাকি সূর্যসেন হলে ২০১২ সালে ছিলাম। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তি হই ২০১৩ সালে।

তিনি বলেন, ভর্তির পর হলে উঠি ২০১৩ সালে। সেখানে বলা হয়েছে আমি হলে থাকিনা ২০১২ সাল থেকে। অথচ আমি এখনো সূর্য‌সেন হলে থাকি। আমার যে রুম নাম্বার দেওয়া হয়েছে সেটাও ভুল দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে আমার বাবার নাম ও ভুল দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যা তথ্য দেওয়া হয়েছে সব ভুল।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর যুগ্ন আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ থেকে শান্তিপূর্ণ অহিংস আন্দোলন করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আমরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছি। কিন্তু বাংলাদেশের একটা কুচক্রি মহল এখন আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের একটা জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট করেছে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি নাকি বিএনপি এবং জামায়াতের সাথে জড়িত। অথচ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের ডিটেইলস গোয়েন্দা সংস্থারা নিয়ে গিয়েছে। তারা তখন কিছু পাইনি।

কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের নেগেটিভলি উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সারাবাংলার ছাত্র সমাজকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করবেননা। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, আজকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার যে রিপোর্টার এ বানোয়াট রিপোর্ট করেছে আজকে বিকেল ৫ টার মধ্যে এই সংবাদ প্রত্যাহার না করে এবং ক্ষমা না চাইলে আগামীকাল থেকে ইত্তেফাক পত্রিকাকে বর্জন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘এ ধরনের সংবাদ প্রচার করা হলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

আমরা যদি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি, পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। তারা বলেন, এরকম করে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আমাদের ভিন্ন পরিচয় দিয়ে আন্দোলন ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫