ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

প্রশাসন

পানি নিয়ে ভোগান্তিতে নগরবাসী

খালিদ সাইফুল্লাহ

১৬ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ০৮:৩৪


প্রিন্ট
পানি নিয়ে ভোগান্তিতে নগরবাসী

পানি নিয়ে ভোগান্তিতে নগরবাসী

ঢাকা ওয়াসা রাজধানীতে পানির কোনো সঙ্কট নেই দাবি করলেও তাদের সে দাবির সত্যতা মেলেনি। বরং গরম শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট। এতে গোসল, পান করা ও রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সমস্যায় পড়েছেন এলাকাবাসী।

তিন মাস ধরেই সুপেয় পানি সঙ্কট চলছে দক্ষিণ মুগদাপাড়া ব্যাংক কলোনি এলাকায়। ওই এলাকার ৭০-৭২টি বাড়ির হাজারখানেক বাসিন্দা পানি সঙ্কটে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ওয়াসার স্থানীয় অফিসে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা ঘুরে গেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান দিতে পারেননি। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মূল পানির লাইন থেকে এলাকার লাইন এক ফুট উপরে স্থাপন করার কারণে পানির প্রবাহ কম থাকলে আর পানি পাওয়া যায় না। পানির প্রবাহ বাড়লে তখন কিছু পানি পাওয়া যায়। পানি পাওয়ার জন্য অনেক সময় এলাকাবাসীকে রাত জেগে বসে থাকতে হচ্ছে। অনেক বাড়িওয়ালা দোকান থেকে উচ্চমূল্যে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ওয়াসার মডস জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সিহাবুর রহমান বলেন, কিছু বাড়িতে সমস্যা আছে, তবে সব বাড়িতে সমস্যা আছে তা বলা যাবে না। গলির শেষ মাথায় পানির পাইপ একটু উঁচু থাকায় তারা ২৪ ঘণ্টায় পানি পাচ্ছেন না। আমরা এটি সমাধান করার চেষ্টা করছি।

দনিয়া এলাকার সরাইপাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে গত ১৫ দিন ধরে পানি সঙ্কটে ভুগছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। টাকা দিয়ে পানি কেনার চাহিদা জানানোর পরও নিয়মিত পানি সরবরাহ করছে না ওয়াসার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এতে পানি সঙ্কটে খাওয়া, গোসল, রান্নাসহ প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এলাকাবাসী। হাজী নাসির উদ্দিন রোডের বাসিন্দা হাসান শরীফ বলেন, ওয়াসার লাইনে গত ১৫ দিন ধরে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। টাকা দিয়ে ওয়াসার কাছ থেকে পানি কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা টাকা দিয়ে পানি কিনতে চাই। কিন্তু তারা নিয়মিত পানি দিচ্ছে না। এতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওয়াসার মডস জোন-৭ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবিদ হোসেন বলেন, পুরনো পাম্পটি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এটি মেরামতের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সফল হয়নি। এ জন্য নতুন পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই পাম্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়ে যাবে। অন্যান্য সময় পানির পাম্প স্থাপনে সাধারণত দেড় থেকে দুই মাস লেগে যায়। তবে যে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে তারা আগামী এক মাসের মধ্যে পাম্প স্থাপনের কাজ শেষ করবেন বলে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজধানীর মধ্যবাড্ডা, দক্ষিণ বাড্ডাসহ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু এলাকায় অনেক দিন ধরে পানির সঙ্কট চলছে। মধ্যবাড্ডার বৈশাখী স্মরণীর বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, ওয়াসার পানির লাইনে বেশির ভাগ সময়ই পানি থাকে না। জেনারেটর দিয়েও ট্যাঙ্কিতে পানি তোলা যায় না। ওয়াসার পানি না পাওয়ার কারণে দোকান থেকে অধিক মূল্যে পানি কিনে খেতে হচ্ছে।
এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বাসবো, মুগদা, মানিকনগর, কে এম দাস লেন, গোপীবাগ, দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, লাইনের পানি ফুটানোর পরও গন্ধ যাচ্ছে না। এ কারণে ওয়াসার পাম্প থেকে সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিতে হচ্ছে। অনেকে ওয়াসার এ টি এম বুথ থেকেও পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান গত ২ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, আসন্ন রমজান ও চলতি শুষ্ক মওসুমে রাজধানীতে পানির কোনো সঙ্কট হবে না। তিনি জানান, বর্তমানে ওয়াসার পানির দৈনিক চাহিদা রয়েছে ২৩৫ কোটি লিটার। বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার পানি উত্তোলন ক্ষমতা রয়েছে দৈনিক ২৪৫ কোটি লিটার। কাজেই পানির কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, সরবরাহ লাইনে কিছু সমস্যা থাকায় কিছু এলাকায় পকেট সমস্যা থাকতে পারে। এটা মোট এলাকার ২ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে। সেগুলো সমাধানেও প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা ওয়াসার রয়েছে। তবে পানির সঙ্কট থাকা এলাকাবাসী বলেছেন, তাদের এলাকায় দীর্ঘ দিন থেকে সমস্যা থাকলেও ওয়াসা এ সমস্যা নিরসনে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।  

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫