কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

দশ.
চুপ থাকতে জানে না যেন রবিন। ফস করে বলে বসল, ‘স্যার, বনমানুষ, অর্থাৎ বনের মানুষে পরিণত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই আমাদের। শহর থেকে এখানে বেড়াতে এসেছি আমরা। বেড়ানো শেষ হলে আবার শহরেই ফিরে যাবো। বনে বাস করার ট্রেনিং দিয়ে লাভটা কী?’
‘লাভ আছে,’ রহস্যময় ভঙ্গিতে বলে দাড়ি চুলকাতে লাগলেন মিস্টার উলফ। ‘সাতটা দিন তো অন্তত ভালো থাকবে। বনের মধ্যে এখানে কখন কার কী গতি হবে, কেউ বলতে পারে না। তোমাদের বয়সী ছেলেমেয়েরা আগেও এসেছে, হারিয়েও গেছে কেউ কেউ।’ বলে কিশোরের দিকে তাকালেন তিনি। ‘তোমার বয়সী একটা ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল এখান থেকে। মা-বাবার কথা না শুনে বনে গিয়েছিল। আর ফেরেনি।’
‘এই ক্যাম্প থেকে?’ কিশোরের প্রশ্ন।
‘না, এই ক্যাম্প তখনো হয়নি,’ মিস্টার উলফ বললেন। ‘তবে এখানকার বনেই হারিয়েছে। রাত কাটানোর জন্য পথের ধারে এক চাষির বাড়িতে উঠেছিল ওরা। রাতে বনের মধ্যে ঘুরতে বেরিয়ে আর ফেরেনি ছেলেটা। পুরো একুশ দিন লোকজন নিয়ে ছেলেকে বনের মধ্যে খুঁজে বেরিয়েছে তার বাবা। পায়নি। যেন বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছিল ছেলেটা। তার পর থেকে...’ থেমে গেলেন মিস্টার উলফ।
‘তার পর থেকে কী, স্যার?’ জানতে চাইল ফারিহা।
আগুনের চার পাশ ঘিরে বসে থাকা চেহারাগুলোর দিকে একে একে তাকালেন মিস্টার উলফ। গল্প জমে উঠেছে। সবার মনোযোগ এখন তার দিকে।
মিস্টার উলফ বললেন, ‘তার পর থেকে ঘটতে শুরু করল অদ্ভুত ঘটনা। বনের মধ্যে মাঝে মধ্যেই শোনা যেতে থাকল একটা নিঃসঙ্গ নেকড়ের ডাক। অথচ এ এলাকায় এর আগে কখনো নেকড়ের ডাক শোনা যায়নি। কেমন না ব্যাপারটা?’ (চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.