অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা পাকিস্তানের
অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা পাকিস্তানের

অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা পাকিস্তানের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সফলভাবে অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা করেছে পাকিস্তান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বাবর-৩ ওয়েপন সিস্টেম-১ (বি) নামে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৭০০ কিমি। এই ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র ভূমি ও সমুদ্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। জিপিএস প্রযুক্তির অনুপস্থিতিতেও সফলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারবে এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর ফলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়বে।

বাবুর-৩ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে পাকিস্তানের পরমাণু ত্রয়ীর শেষ ধাপ সম্পন্ন হলো। যুদ্ধমান পরমাণু সক্ষম দেশগুলোর মধ্যে পরমাণু শক্তি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে পরমাণু ত্রয়ী সক্ষমতা তৈরি অপরিহার্য। ফলে বাবুর-৩-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমতা প্রতিষ্ঠা করল।

বাবুর-৩ সাবমেরিনে-নিক্ষিপ্ত ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলসিএম)। এর পাল্লা ৪৫০ কিলোমিটার, এটি পরমাণু অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের বোমা নিক্ষেপ করতে পারে। গত ২৯ মার্চ বাবুর-৩ আরব সাগরের পাকিস্তান উপকূলে ডুবন্ত প্লাটফর্ম থেকে পরীক্ষা করা হয়। এটি ‘আন্ডারওয়াটার কনট্রোলড প্রপালসন’ ব্যবহার করে। বাবুর-৩ প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে।

এসএলসিএম তৈরির ফলে পাকিস্তান নৌবাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই পরমাণু হামলা চালাতে পারবে। বৈরী দেশের বিপর্যয়কারী ফার্স্ট স্ট্রাইকের ক্ষেত্রে সাবমেরিনের পরমাণু অস্ত্রকে সবচেয়ে টেকসই সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।

ভারত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলোর জন্য আতঙ্কজনক বিষয় হলো মহাসাগরের পরমাণুকরণ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, ও ফ্রান্সের পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন রয়েছে।

এখন বাবুর-৩ এসএসসিএমের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে পাকিস্তানও এলিট পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন ক্লাবে প্রবেশ করল। ভারত ২০১৬ সালের আগস্টে তার প্রথম পরমাণু-শক্তির সাবমেরিন অরিহন্ত মোতায়েন করে। অরিহন্ত মাসের পর মাস পানির নিচে চলাচল করতে পারে বলে একে শনাক্ত করা কঠিন। এছাড়া ভারত তার দ্বিতীয় পরমাণু সাবমেরিন অরিগস্ত পরীক্ষা করেছে গত নভেম্বরে। ভারত সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ তারা আরো চারটি সাবমেরিন পাচ্ছে।

ভারত ইতোমধ্যেই সাগরভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র কে-৪, কে-১৫, ধানুষ (পৃথ্বি-৩-এর সংস্করণ) ও ব্রহ্মস (রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত) মোতায়েন করেছে। বর্তমানে দেশটি আরেকটি সাগরভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভয় নির্মাণে কাজ করছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তায় ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার স্টিলথ নির্ভয়ের স্থল সংস্করণ তারা পরীক্ষা করেছে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পদ সীমিত হলেও তারা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করছে। দেশটি অত্যাধুনিক ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। বাবুর-৩ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি শত্রুর রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা, ব্যালাস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ফাঁকি দিতে পারে।

পাকিস্তান নৌবাহিনীর বর্তমানে নিজস্ব পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নেই। পাকিস্তান নৌবাহিনীর হাতে থাকা পাঁচটি ফরাসি নির্মিত অগস্ত ৯০বি শ্রেণির সাবমেরিন ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিনে চলে। পাকিস্তান সম্ভবত এসব সাবমেরিনে পরমাণু-যুক্ত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বসাবে। পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে টাইপ ০৩৯এ ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে। এগুলোতে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করা হবে। ২০২৮ সালে এগুলো সরবরাহ করা হবে।

নতুন সাবমেরিন কেনা ও সাম্প্রতিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিশ্চিত করছে, পাকিস্তান তার সাবমেরিনগুলোকে এবং কয়েকটি রণতরীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করতে সক্ষম। তবে পরমাণুচালিত সাবমেরিনের চেয়ে ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত সাবমেরিনে সুবিধা কম। এ সাবমেরিন শব্দ সৃষ্টির কারণে সহজেই শনাক্ত করা যায়। তাছাড়া এ ধরনের সাবমেরিন টানা বড়জোর দুই সপ্তাহ পর্যন্ত পানির নিচে থাকতে পারে।

টম হান্ডলি বলেছেন, আধুনিক পরমাণু শক্তিচালিত পরমাণু-সজ্জিত সাবমেরিন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র। এ কারণে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীরা নৌবাহিনীতে পরমাণু সাবমেরিন যোগ করার কথা ভাবছেন।

ভারতের আগ্রাসী অবস্থান এবং আমেরিকার কাছ থেকে বৈরী অবস্থানের কারণে পাকিস্তানকে এখন নিজস্বভাবে পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার গড়তে হবে। নয়তো তাকে ইরাকের মতো আক্রান্ত হতে হবে কিংবা ইরানের মতো অবরোধের মুখে পড়তে হবে।

সবশেষে বলতে হয়, বাবুর-৩-এর মাধ্যমে পাকিস্তান তার পরমাণু ত্রয়ী সম্পন্ন করেছে। এখন পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষের ওপর স্থল, বিমান ও সাগর পথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। পরমাণু ত্রয়ী সম্পন্ন করার মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রতিশোধ গ্রহণ বা সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা বেড়েছে। জটিল ও উত্তপ্ত কৌশলগত পরিবেশে নিশ্চিত সেকেন্ড স্ট্রাইক সামর্থ স্থিতিশীলতার ব্যবস্থা করছে, পরমাণু শক্তির স্থিতিশীলকরণ বজায় রাখছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.