ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

স্বাস্থ্য

মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা

ডা: আবু আহনাফ

১৪ এপ্রিল ২০১৮,শনিবার, ১১:১৮


প্রিন্ট
মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা

মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা

 সন্তানের আশায় তৈরি হয় দাম্পত্যজীবন। বেশির ভাগ নারী ও পুরুষ মনে করেন, তারা সন্তান ধারণে সক্ষম। বাস্তবে প্রতি ১০ দম্পতির মধ্যে এক দম্পতির গর্ভধারণে সমস্যা রয়েছে। যেসব দম্পতি বিবাহিত জীবনের এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সন্তান না পান বা সন্তান উৎপাদনে সক্ষম না হন, তারা নিঃসন্তান দম্পতি হিসেবে পরিচিত হন। যারা সন্তান চান, কিন্তু সন্তান পান না তাদের জীবনে বিষাদ, ক্রোধ ও হতাশা দেখা দেয়। সন্তানহীনতা বিবাহিত দম্পতির জীবনে এক চরম অভিশাপ হিসেবে বিবেচিত। বহু পরিবারের শান্তি নষ্ট হয় সন্তান না হওয়ায়।

আমাদের সমাজে কোনো দম্পতির সন্তান না হলে প্রথমত দায়ী করা হয় মহিলাকে। অথচ প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের কারণে সন্তান উৎপাদন হয় না। অনেক সময় পুরুষ স্বীকার করতেই চান না যে, এটা তার জন্যই হচ্ছে না। এমনকি অনেক পুরুষ নিজের পরীক্ষা পর্যন্ত করাতে রাজি হন না। আবার পরীক্ষা করালেও তা স্ত্রী কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে গোপন রাখা হয়। পক্ষান্তরে, মহিলার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো দোষ না থাকলে প্রকারান্তরে মহিলাকেই দায়ী করা হয়। এমনকি এ জন্য মহিলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হয়।

সন্তান না হওয়ার অজুহাতে যৌতুকের দাবি দিনে দিনে বাড়তেই থাকে। এ ক্ষেত্রে অনেকাংশে মহিলার শ্বশুর-শাশুড়ি ও অন্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবশেষে একপর্যায়ে ওই মহিলা তালাক নিতে বাধ্য হন অথবা তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন।

মহিলার কারণেও সন্তানহীনতা হতে পারে। একজন মহিলার নানা কারণে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হতে পারে। যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত মেদবাহুল্য, মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, জরায়ুর অসুখ, জরায়ুমুখের অসুখ, এন্ডোমেট্রিওসিস, ডিম্বনালীর অসুখ, জীবাণু সংক্রমণ, হরমোনের অভাব, হাইপোথ্যালামাসের অসুখ, থাইরয়েডের অসুখ ইত্যাদি বহুবিধ কারণে একজন মহিলা সন্তান উৎপাদনে সক্ষম নাও হতে পারেন।

এ জন্য সন্তানহীন মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন সঠিক ইতিহাস, ভালোভাবে পরীক্ষা এবং পরীক্ষাগারে নানা পরীক্ষা। অত্যধিক মানসিক দুশ্চিন্তাও বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। এমনকি সন্তান না হওয়ার জন্য পারিবারিক চাপও সন্তান না হওয়ার কারণ হতে পারে। আবার সন্তান লাভের অদম্য আবেগ ও সন্তান উৎপাদনে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থ ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারলে সন্তান উৎপাদনে সুফল পাওয়া যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক অবস্থাতে সন্তান লাভের চেষ্টা করা উচিত। কোনো রকম ভয়, আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিহ্নিতকরণের চিকিৎসা করলে আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তান লাভ সম্ভব হবে।

যারা মুসলিম তারা স্মরণ করতে পারেন, ‘তিনি যাকে চান কন্যাসন্তান দান করেন, আর যাকে চান দান করেন পুত্রসন্তান। যাকে চান তিনি পুত্র-কন্যা উভয় সন্তানই দান করেন। আর যাকে ইচ্ছা করে রাখেন বন্ধ্যা।’ (আশ-শুরা, ৪৯-৫০)। কুরআনের এ ভাষ্যটি একজন মুসলিমের জন্য পথপ্রদর্শক। আমরা সন্তানহীন বিভিন্ন সম্পতির মধ্যে নানা ধরনের ব্যাকুলতা দেখতে পাই। তারা নানা ধরনের চেষ্টা-তদবির করে থাকেন। নিয়মিত বৈজ্ঞানিক চেষ্টা-তদবিরে কোনো বাধা নেই। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানা অছিলায় সন্তান পাওয়ার খবর দেখতে পাওয়া যায়।

কলারবোন ভেঙে গেলে কী করবেন

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

বুকের উপরিভাগে গলার দু’পাশে ত্বকের কাছাকাছি দুটো হাড় থাকে। এদেরকে ক্লাভিকল বা কলারবোন বলে। এদের দৃশ্যতা ও বক্রতা নারীর সৌন্দর্য বর্ধন করে বলে হাড় দুটোকে বিউটিবোন বলা হয়ে থাকে।

কলারবোন ভাঙার কারণ
ষ সাধারণ ভাবে কাঁধের ওপর ভর দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে
ষ কাঁধে সরাসরি আঘাত লাগলে
ষ হাত বাইরের দিকে রেখে পড়ে গেলে
ষ খেলাধুলার সময় কিংবা যেকোনো দুর্ঘটনায় ক্লাভিকলে আঘাত লাগলে।
উপসর্গ
ষ ব্যথা
ষ বৈকল্য
ষ হাত দিয়ে ভাঙা অনুভব করা
ষ আক্রান্ত পাশের হাত নাড়াচাড়া করতে না পারা


রোগী সাধারণত অন্য হাত দিয়ে আক্রান্ত হাতের কনুই ধরে সাপোর্ট দিয়ে থাকেন।
ষ রোগীর মাথা আক্রান্ত দিকে ঝুঁকে থাকে।
চিকিৎসা
ষ রোগীকে দিয়ে তার আঘাতপ্রাপ্ত পাশের বাহুকে সাপোর্ট দিন।
ষ গায়ের কাপড় চোপড় খুলবেন না
ষ বোগলের নিচে প্যাড দিন
ষ ঊর্ধ্ববাহুতে বুকের সাথে ব্যান্ডেজ বাঁধুন।
ষ ঊর্ধ্ব শরীরকে ত্রিকোনা স্লিং দিয়ে সাপোর্ট দিন।

যদি ফার্স্ট এইডয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি হন তাহলে ফ্যাকচার সাময়িকভাবে স্থির করার জন্য ট্রায়াংগুলার ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রোগীকে বসাবেন, তার কাঁধ দুটো পেছনের দিকে নেবেন এবং ট্রায়াংগুলার ব্যান্ডেজ শক্ত করে বাঁধবেন। দুই শোল্ডার ব্লেডের মধ্যে প্যাড ও তুলা রাখুন। হাড় নিশ্চল হলে বাহু স্লিংয়ে রাখুন।
কলার বোন ভেঙে গেলে এলবো ব্যাগও ব্যবহার করতে পারেন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন: ০১৭১৬২৮৮৮৫৫

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫