স্ত্রী দীপার বয়ফ্রেন্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
স্ত্রী দীপার বয়ফ্রেন্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

রথীশ হত্যা : স্ত্রী দীপার বয়ফ্রেন্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে খুন হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী, রংপুর বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ পিপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকোট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা হত্যা মামলায় অবশেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন ঘটনায় জড়িত রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিকের বয়ফ্রেন্ড কামরুল ইসলাম। রিমান্ড শেষ হওয়ার দুই দিন আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে কিভাবে রথীশকে হত্যা করেন তা জানান।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-আমিন ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা রথীশের স্ত্রী দীপা ভৌমিকের বয়ফ্রেন্ড কামরুল ইসলামকে হাজির করেন। পরে ওই আদালতের বিচারকের কাছে কামরুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। এ সময় তিনি রথীশের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক, নিজ শয়নকক্ষে রথীশকে অচেতন করে হত্যা, হত্যার পর রথীশের বিছানায় দীপাসহ রাতযাপন, দিনের বেলা আলমিরাতে করে লাশ নিয়ে যাওয়া, পরে প্লাস্টার করার পরিকল্পনা, হত্যার ঘটনাটিকে জঙ্গিদের কাজ বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং স্কুলে অবৈধ আধিপত্যে রথীশের বাদসাধাসহ হত্যার পূর্ব এবং পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় বিশদভাবে বর্ণনা করেন। পরে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এ দিকে কামরুলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তরত সংস্থাগুলো। জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়া, স্কুল নিয়ে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ রাত ১০টায় রংপুর মহানগরীর তাজহাট বাবু পাড়ায় অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা। এরপর রথীশের বিছানায় দীপা ও কামরুল রাত কাটায়।

রংপুরের আইন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠার এবং নগরবাসীর কাছে একনামে অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনার একমাত্র ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। একমাত্র মেয়ে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

রথীশ হত্যাকাণ্ডের মোড় ঘোরাতে চতুর স্ত্রী ও পরকীয় প্রেমিকের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা

রংপুরের আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনাকে হত্যার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছক কষেছিলেন তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিক ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম, জানিয়েছে তদন্তরত সংস্থাগুলো। তদন্ত সংস্থাগুলোর সূত্রমতে শুধু পরিকল্পনাই নয়, হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করতে তারা নানামুখী কৌশল নেন। এজন্য তারা জাপানি নাগরিক কোনিও হোসি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার রায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষী এবং ডিমলায় রাজ দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে থাকে।

তদন্ত সংস্থারত সংস্থাগুলোর সূত্রমতে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিক ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দিন বেছে নেয় ২৯ মার্চ রাতে। ওই রাতেই বাবু সোনার ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় যান। তদন্ত সূত্রগুলো জানায়, সুশান্ত ভৌমিকের ঢাকায় যাওয়া বিষয়টি বাবু সোনার স্ত্রী তার পরকীয়া প্রেমিককে নিশ্চিত করেই ওই রাতেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটান। বৃহস্পতিবার রাতে বাবু সোনা বাড়ি ফেরার পর রাতের খাবারের সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে সিম সরিয়ে ফেলেন দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক।

তদন্ত সংস্থাগুলোর সূত্র মতে, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অন্তত দুই ঘন্টা আগে দীপা ভৌমিক পরকীয়া প্রেমিক কামরুলকে বাড়ির পেছনে নিয়ে এসে রাখেন। শুধু বাবু সোনাকেই নয় তার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকেও দীপা ভৌমিক চারটি ঘুমের ট্যাবলেট দুধের সাথে খাইয়ে দিয়ে অচেতন করে রাখেন । এবং পরিবারের কেউ যাতে সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য আলমিরা পরিবর্তনের নাটক সাজিয়ে ভ্যানে করে লাশ করে করে পুঁতে রাখেন তারা। এরপর একই ভ্যানে একটি নতুন আলমিরা নিয়ে এসে শয়ন কক্ষের সেই জায়গায় রেখে পরিবারের লোকজনকে জানান, ওই আলমিরাটা স্কুলে দিলাম। নতুন আলমিরা নিয়ে এলাম। এরপর বিকেল ৩টায় তিনি ঢাকায় অবস্থানরত তার দেবর সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিককে জানান, বাবু সোনার ফোন বন্ধ। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে বিষয়টি জানতে পেরে মিডিয়া কর্মীরা তার বাড়িতে ভিড় জমায়।

পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনাটিকে জঙ্গি অথবা জামায়াত শিবিরের ওপর চাপিয়ে দিতে এ সময় দীপা ভৌমিক গনমাধ্যমকর্মীদের সাক্ষাতকার দিয়ে জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোসল শেষে কাজের কথা বলে নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার বাসা থেকে আমার স্বামী পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি লাল মোটরসাইকেলে করে চলে যান। যাওয়া সময় বলেছিলেন দুপুর ১২টার মধ্যেই ফিরে আসবো। কিন্তু দুপুরে ফিরে না আসায় কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। এরপর বিষয়টি আমি আমার দেবর সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিককে জানাই। এরপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর আমরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেছিলেন, আমার স্বামী রংপুরের চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কোনিও হোসি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার সরকারপক্ষের প্রধান কুশলী ছিলেন। ওই দুটি মামলায় জেএমবি জঙ্গিদের ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর থেকেই আমার স্বামীকে বিভিন্নভাবে মোবাইলে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। ওই রায়ের কারণে জেএমবি জঙ্গিরা আমার স্বামীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার সাথে জেএমবি জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে। আমি অবিলম্বে আমার স্বামীকে সুস্থভাবে ফিরে পেতে চাই।

এরপর তাদের পাতানো ফাঁদ অনুযায়ী শনিবার সকালে সেখানে উপস্থিত একজন কলা ব্যবসায়ীকে দিয়ে সাংবাদিকদের বলানো হয়, সকাল ৬টার দিকে বাবু সোনার বাড়ির সামনে পাঞ্জাবী পরা এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখেছেন। তবে তাকে তিনি চেনেন না। কিছুক্ষণ পর এ্যডভোকেট সাহেব ওই মোটরসাইকেলে চরে আরকে রোড দিয়ে জমিদার বাড়ির দিকে গেছেন বলেও শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ওই কলা ব্যবসায়ী।

এদিকে ঘটনা শুনে তড়িঘড়ি করে রাতেই ঢাকা থেকে ফিরে আসেন এ্যডভোকেট বাবু সোনার ছোট ভাই রংপুর বিভাগীয় কমিউনিটি পুলিশিং-এর সদস্য সচিব, রংপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, দৈনিক খোলা কাগজের রংপুর অফিসের ইনচার্জ সুশান্ত ভৌমিক।

শনিবার সকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি জরুরি কাজে শুক্রবার ঢাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় খবর পাই আমার বড় ভাই সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পাশাপাশি থানায় জিডি করেছি। যেহেতু আমার ভাই জাপানি নাগরিক ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকার পক্ষের কুশলী। ওই মামলায় ফাঁসি হয়েছে জেএমবি জঙ্গিদের। এছাড়াও আমার ভাই জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলারও অন্যতম সাক্ষী। আমরা মনে করছি ঘটনাটির সাথে জেএমবি জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

শনিবার রংপুর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, এ্যডভোকেট বাবু সোনা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবার শুক্রবার রাত ১১টায় পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর থেকেই আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

তদন্ত সূত্রগুলোর তথ্য মতে, ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এরই মধ্যে শনিবার সকালে চতুর স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক ২ ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন। এছাড়াও তাদের নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে বাবুপাড়া এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করায়। এরপর থেকে নগরীতে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ পেশাজীবি বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বাবু সোনার উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি পেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এসব কর্মসূচিতে এ ঘটনার সাথে জেএমবি জঙ্গি ও জামায়াত শিবির এবং দেবোত্তর সম্পত্তির বিষয়টি আলোকপাত হতে থাকে।

তদন্ত সূত্রগুলো আরো জানায়, জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধ ও দেবোত্তর সম্পত্তি মামলার বিষয়টির কারণেই অপহরণ হতে পারে বলে পরকীয়া প্রেমিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রী দীপা ভৌমিকের মুখ দিয়ে মিডিয়ায় সাক্ষাতকার দেয়া হলেও বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেননি পরিবারের অন্য সদস্যরা।

তদন্তসূত্রগুলো জানায়, এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় দীপা ভৌমিক ও কামরুল ইসলাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পরকীয়ার বিষয়টি তদন্তে যোগ হয়। একপর্যায়ে সোমবার গ্রেফতার করা হয় পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামকে। তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ কোন পদ্ধতিতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে তার কৌশল নির্ধারণ করতে থাকে। এরপর ঘটনাটির সাথে ভিন্ন কিছু আছে মনে করে পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশকে অবহিত করে। তারা মঙ্গলবার পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে বাড়ির পেছনে গোয়াল ঘরে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ডোবা ছেঁচিয়ে নেন। এতে বেশ কিছু আলামত উঠে আসে। একপর্যায়ে মঙ্গলবার সন্ধায় র‌্যাব নিশ্চিত হয়ে যায়, এ ঘটনা স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে ঘটেছে। তারা নিশ্চিত হয়ে দীপা ভৌমিককে তুলে নিয়ে এলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। স্বীকারোক্তি নিতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে র‌্যাব।

তদন্ত সূত্রগুলো জানায়, দীপা ভৌমিক ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম লাশ গুম করার স্থান হিসেবে বেছে নেন কামরুলের বড় ভাই খাদেমুল ইসলামের পরিত্যাক্ত বাড়ি। ১০ বছর আগে বাড়িটি ছাদ ঢালাই করার পর আর কোনো কাজ করেননি তিনি। চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। কামরুল ওই বাড়িতেই লাশ গুম করার সিদ্ধান্ত হিসেবে স্কুলের কয়েকজন ছাত্রকে কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে গর্ত খুঁড়িয়ে নেন। এছাড়াও সেখানে তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং ক্লাস করাবেন বলেও ছাত্রছাত্রীদের জানান। তদন্তসূত্রগুলোর ধারণা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কামরুল ও দীপা ওই বাড়িটি সংস্কারের নামে সেখানে মেঝে প্লাস্টার করে নিতেন এবং কেউ যাকে বুঝতে না পারে সেজন্য কোচিংও শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এদিকে তদন্ত সূত্রগুলোর তথ্য মতে, বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্ত কামরুল ইসলামের সাথে পরকীয়ার বিষয়টি ভালোভাবে জানতেন। সেকারনে মিলন মোহন্তকে দীপা ভৌমিক কোনোভাবেই চটাতে চাইতেন না। এমনকি মিলন মোহন্ত তার কন্যাকে উত্তক্ত করলেও দীপা ভৌমিক তাতে সায় দিতো বলেও জানায় তদন্তরত সংস্থাগুলোর বিভিন্ন সূত্র।

রংপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, এ্যডভোকেট বাবু সোনার লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্ত চলছে। ভিসেরা তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

এ্যডভোকেট রশিথ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, রংপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছাড়াও তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি, সম্মিলিক সাংস্কৃতিক জোট, সুজন, দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আজহারুলকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। মামলাটির এখন আপিল শুনানি চলছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.