আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের দুর্দশা

দেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা বর্তমানে ব্যবসাবাণিজ্যসহ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা যাতায়াতের সুন্দর একটি পথ তৈরি করেছে। তবে এ পথে আখাউড়া আন্তর্জাতিক পুলিশ চেকপোস্ট বা ইমিগ্রেশন অফিসের দুর্দশা দেখে হতাশ হতে হয়। শুধু একজন ইমিগ্রেশন অফিসারকে কাজ করতে দেখি। দু’টি কম্পিউটারের মধ্যে একটি নষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশন করাতে হয়। অফিসে বসার পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল নেই। ফ্যান সঙ্কট, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে। অন্ধকার এবং স্যাঁতসেঁতে বিল্ডিং। দেখার কেউ নেই, অথচ আগরতলা ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনটি বিশাল এবং আলোকিত। আগরতলা থেকে গত ৪ মার্চ দেশে ফিরে আসার পথে বিজিবির এক মহিলা সদস্য আমার ছোট্ট লাগেজ ধরে বলেন, এতে মেডিসিন আছে কি?’ পথে পথে বিড়ম্বনা যা ভারতীয় সীমান্তে দেখিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ডিপারচার সিলগুলোতে ‘বাংলাদেশ’ লেখাটা ছোট এবং অস্পষ্ট। অন্যান্য দেশের মতো ওপরে বাংলাদেশ শব্দটা বড় অক্ষরে লেখার জন্য অনুরোধ করছি। জানি না দেশে কাস্টমস চেকিংয়ের পাশাপাশি বিজিবির চেকিংয়ের প্রয়োজন আছে কি? ওসি ইমিগ্রেশন আখাউড়াকে দেখি, লোক দিয়ে আগরতলা থেকে বাসমতি চালের প্যাকেট আনা নিয়ে ব্যস্ত।
আখাউড়া কাস্টমস হাউজ অতি পুরনো এবং অন্ধকার।
ভবনগুলো সংস্কার করে আন্তর্জাতিক মানের করা উচিত। ডিউটি ফ্রি শপ ভবন নির্মাণ করা হলেও এটা কবে চালু হবে, তা কেউ জানে না। ঢাকা আসার পথে পরিবার-পরিজন নিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ফার্স্ট কাসের যাত্রী হিসেবে আমাদের এক বিরাট যুদ্ধ করে ট্রেনে উঠতে হয়েছে। এ বিড়ম্বনা কবে দূর হবে তা স্বয়ং রেলপথমন্ত্রীও বলতে পারবেন কি না জানি না।
আশা করি, আখউড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের দুর্দশার অবসান এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান বৃদ্ধি ও আধুনিক করার দিকে নজর দেয়ার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয় দৃষ্টি দেবে।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
লেখক-সাংবাদিক
১৭ ফরিদাবাদ, গেন্ডারিয়া, ঢাকা- ১২০৪

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.