ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

সিলেট

ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৩ এপ্রিল ২০১৮,শুক্রবার, ১৮:৫৬


প্রিন্ট
ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৩৫ জনের  বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডার (তিন খুন) মামলার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার আদালত শুনানী শেষে এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। দিরাই থানার অভিযোগপত্র নং ৫২, তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং।

 ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (দিরাই জোন) এ অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জহিরুল হক কবির।

অভিযোগপত্রে দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া নতুন আসামি সংযুক্তসহ মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বহুল আলোচিত কোটি টাকার জলমহাল দখল নিয়ে আওয়ামীলীগের সুরঞ্জিত-মতিউর গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে তিন জনের নিহত হয়। গত বছর ১৭ জানুয়ারী সকাল ১০টায় দিরাই উপজেলার ঘোড়ামারা সাতপাকিয়া প্রকাশিত জারলিয়া জলমহালের নিয়ন্ত্রণ ও কোটি টাকার বাণিজ্য নিয়ে দিরাই-শাল্লার তৎকালীন সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ মতিউর রহমান এর অনুসারী লোকদের মাঝে এই রক্তক্ষয়ী বন্দুক হয়।

বন্দুক যুদ্ধে মতিউর অনুসারী যুবলীগ নেতা একরার হোসেনের পক্ষের ৩জন নিহত হয়। হতাহতের ঘটনায় দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান, দিরাই পৌর মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন প্রতিপক্ষ একরার হোসেন।

দিরাই থানার মামলা নং ০৫-তারিখ ১৯-০১-২০১৭ ইং। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের (সুরঞ্জিত অনুসারী) প্রভাবশালী তিন নেতা ও জনপ্রতিনিধিগন আসামী হওয়ায় তখন বিপাকে পরে যায় দিরাই থানা পুলিশ। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আদেশে ও পুলিশ হেড কেয়াটারের নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে।

প্রায় দেড় মাস পর দিরাই পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী প্রদীপ রায়, এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মেয়রপুত্র উজ্জল মিয়া ও তার ছোট ভাই তাসকির মিয়াসহ আটজন উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বতিকালিন জামিন নিয়েছিলেন।

এদিকে আলোচিত তিন খুনের মামলা দীর্ঘ তদন্ত শেষে এক বছর আড়াই মাস পর বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ পত্র দিতে সক্ষম হয়েছেন সিআইডি পরিদর্শক। এ ব্যাপারে ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (সিআইডি) মোঃ জহিরুল হক কবীর দৈনিক নয়াদিগন্তকে বলেন, মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে মামলায় এজাহারভুক্ত পলাতক ২৫/২৬ জন আসামি আইনশৃঙ্খলা বহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়।

গ্রেফতারকৃত বেশির ভাগ আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে পুলিশি রিমাণ্ডে এনে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।

বহুল আলোচিত তিন খুন মামলার বাদী যুবলীগ নেতা একরার হোসেন অভিযোগ দাখিলের পর তার প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন। আমি এই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দেব।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫