ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

প্রশাসন

পল্টনে পরিকল্পনাহীন কাজে খেসারত দিচ্ছে জনগণ

অন্তহীন উন্নয়নের কবলে ঢাকা-৪

খালিদ সাইফুল্লাহ

১২ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ২৩:৫২


প্রিন্ট
রাজধানীর পল্টনের সব কয়টি রাস্তার অবস্থা বেহাল। দীর্ঘ দিনেও সংস্কারকাজ শেষ হচ্ছে না

রাজধানীর পল্টনের সব কয়টি রাস্তার অবস্থা বেহাল। দীর্ঘ দিনেও সংস্কারকাজ শেষ হচ্ছে না

রাজধানীর পল্টন এলাকা নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। কার্ড, ফ্রেম, পেন্টিংস, পোট্রেট, ক্যালেন্ডারসহ নানা পণ্যের ব্যবসার জন্য এ এলাকা বিশেষ পরিচিত। এ ছাড়াও ট্রাভেলস, হজ এজেন্সির অসংখ্য অফিস রয়েছে এখানে। কয়েকটি নামীদামি হোটেল ও প্রোডাক্টসের প্রধান শোরুমও এখানে। সব মিলিয়ে প্রতি ঘণ্টায় এখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। এলাকার বেশির ভাগ ভবনই আকাশছোঁয়া। কাজেই প্রতিনিয়ত এখানে শত শত মানুষ ও অগণিত যানবাহনের যাতায়াত।


কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এলাকার রাস্তাগুলো খুবই সরু। তার ওপর রিকশা চলাচল ও দোকানপাটে মালামাল ওঠানামা করার জন্য সার্বক্ষণিকভাবেই রাস্তার দুই পাশে ঠেলাগাড়ি, কভার্ড ভ্যান দাঁড়ানো থাকে। এত সবের পরও এই ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ হলে এলাকার ব্যবসায় বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এলাকাবাসীর বক্তব্য একসাথে সবগুলো রাস্তার মাটি খুঁড়ে মাসের পর মাস ফেলে না রেখে একটি একটি করে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা গেলে এত বড় ভোগান্তির সৃষ্টি হত না। ব্যবসায়ীদের মতে গত চার মাসে তাদের এক শ’ কোটি টাকার ওপরে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য তারা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করেছেন।


সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, পল্টন এলাকার সড়কগুলো সংস্কার, ড্রেন ও ফুটপাথ উন্নয়নে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে গত চার মাস ধরে। এজন্য অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সড়কে দীর্ঘদিন যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে ওই সড়কগুলোতে পাইপ বসানোর পর স্লাব স্থাপন করা হয়েছে। তবে সড়ক নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া বর্তমানে পুরানাপল্টন মোড় থেকে বিজয়নগর এবং জিরো পয়েন্ট পর্যন্তÍ সড়ক ডিভাইডারের কাজ চলছে। ফলে এলাকাবাসীকে দীর্ঘ উন্নয়ন যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে।


সরেজমিন দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরে পুরানাপল্টন মোড়ে সড়ক উন্নয়নকাজ চলছে। পল্টন মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট এবং বিজয়নগর পর্যন্ত দুই দিকেই সড়ক ডিভাইডার উন্নয়নের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। এজন্য ডিভাইডারে ব্যবহারের জন্য স্লাব রাস্তাজুড়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে রাস্তায়। এ কারণে অত্যন্ত ব্যস্ত এ মোড়ে সব সময় যানজট লেগে থাকছে।


পল্টন টাওয়ারের বিপরীত দিকের রাস্তায় ড্রেন নির্মাণকাজ গত ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়। এ কারণে ওই সড়ক দিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় তিন মাস যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এমনকি কোনো রিকশাও প্রবেশ করতে পারেনি ওই সড়ক দিয়ে। মাটির স্তূপ ফেলে রাখায় পথচারীদের হাঁটাচলাও দায় হয়ে পড়ে। ড্রেন নির্মাণের পর সম্প্রতি সড়কের ওপর স্লাব বসানো হয়েছে; কিন্তু সড়ক মেরামত পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে এখনো যানবাহন নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারছে না ওই সড়ক দিয়ে। একইভাবে আজাদ প্রডাক্টসের আশপাশের সব সড়ক, নোয়াখালী টাওয়ারের সামনের সড়কসহ ওই এলাকার সব সড়কে একযোগে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ দিন থেকে ভুগতে হচ্ছে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের।


সরেজমিন দেখা যায়, শাওন টাওয়ারের সামনে এখনো ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তার ওপর যে স্লাব বসানো হয়েছে তা সড়ক থেকে উঁচু হয়ে রয়েছে। এ কারণে রিকশাও যাত্রী নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না। ওই সড়কের আলিফ আর্টের কর্মচারীরা জানান, গত ডিসেম্বর থেকে সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম তিন মাস প্রায় রাস্তা দিয়ে হাঁটায় যেত না। এখন মানুষ কোনো রকম হাঁটতে পারে; কিন্তু কোনো গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে পারে না। রাস্তা দীর্ঘ দিন খুঁড়ে রাখার কারণে ব্যবসায় মন্দাভাব যাচ্ছে বলে তারা জানান।


নোয়াখালী বিরিয়ানি হাউজের মোড়ে বৃষ্টি হলেই কাদাপানি জমে যায়। বিরিয়ানি হাউজের ম্যানেজার মামুনুর রশীদ বাচ্চু বলেন, রাস্তা ভালো না থাকার কারণে ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এজন্য ব্যবসা কয়েক মাস থেকে বেশ খারাপ যাচ্ছে।


নোয়াখালী টাওয়ারের বিপরীত দিকের সড়ক, রিসোর্সফুল পল্টন সিটির সামনের সড়ক, বাংলাদেশ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের সামনে রাস্তায় উন্নয়নকাজ চলছে। এ কারণে সড়কে বৃষ্টি হলেই কাদাপানি জমে যায়। পুরানাপল্টন গার্লস কলেজের সামনের সড়ক, পল্টন মসজিদের বিপরীত দিকের সড়কসহ আশপাশের সব সড়কেই ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। এ কারণে এসব সড়ক দিয়ে চলাচলে জনসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাস্তায় উঁচু স্লাব থাকার কারণে নিয়মিত যানজট লেগেই থাকছে। কামরুল ইসলাম নামে এক প্রাইভেট কার চালক বলেন, এ এলাকার প্রায় সব সড়কে একযোগে কাজ চলছে। এজন্য গত কয়েক মাস ধরে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গাড়িও মাঝে মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেলিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এভাবে সব সড়কে একযোগে কাজ না করে একটি সড়ক শেষ করে আরেকটি শুরু করলে ভালো হত। মানুষের ভোগান্তি কম হতো।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫