ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

রংপুর

নিমিষেই মিশে গেল কোটি টাকার টমেটো

আসাদুজ্জামান আসাদ পঞ্চগড়

১২ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৬:০৭


প্রিন্ট
পঞ্চগড়ে শিলাবৃষ্টিতে টমেটো চাষিদের কোটি টাকার ক্ষতি

পঞ্চগড়ে শিলাবৃষ্টিতে টমেটো চাষিদের কোটি টাকার ক্ষতি

শিলাবৃষ্টিতে হাইব্রিড টমেটো হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের কৃষকেরা। সর্বনাশা শিলাবৃষ্টিতে টমেটোর উঠতি গাছ মাটির সাথে মিশে তাদের সব স্বপ্ন খান খান হয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টি শেষে দৃশ্যমান আছে শুধু গাছের গোড়া। কৃষি বিভাগের ধারণা গাছের গোড়া থেকে নতুন চারা বের হবে। কিন্তু শিলাবৃষ্টির দুই সপ্তাহ পার হলেও ক্ষেতে কোনো সবুজ চারা দেখা যাচ্ছে না। হাইব্রিড টমেটো শীতকালীন ফসল হওয়ায় গোড়া থেকে কুশি বের হলেও সেই গাছে নতুন ফল ধরবে না বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, শিলাবৃষ্টিতে পঞ্চগড় জেলার প্রায় ১৫৫ হেক্টর জমির হাইব্রিড টমেটো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হেক্টর জমির টমেটো ক্ষেত সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে। এতে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তবে কৃষকদের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ আরো বেশি। ক্ষতির পরিমাণ হবে প্রায় এক কোটি টাকা।

সরেজমিন জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলায় কয়েক বছর ধরে প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন হাইব্রিড টমেটো আবাদ হচ্ছে। এই সময় দেশের অন্য কোথাও টমেটোর চাষ না হওয়ায় পঞ্চগড়ের টমেটো রাজধানীসহ সারা দেশের চাহিদা মেটায়। কৃষকেরা দামও পায় বেশ ভালো। চাকলা, কামাত কাজলদিঘী, হাড়িভাসা, হাফিজাবাদ, অমরখানা, সাতমেরা ইউনিয়নে অধিক পরিমাণে টমেটো আবাদ হয়ে থাকে। এই মওসুমে এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে পঞ্চগড়ের সবুজ সোনা খ্যাত টমেটো। কিন্তু গত বছরের তুলনায় সরবরাহ একেবারে কম। গত ৩০ মার্চ পঞ্চগড়ে প্রচুর পরিমাণে শিলাবৃষ্টিতে মাটির সাথে মিশে গেছে হাইব্রিড টমেটো ক্ষেত।

শিলাবৃষ্টিতে ডুডুমারী, শিংপাড়া, জগদল, বলেয়াপাড়া, গোফাপাড়া হাফিজাবাদ ইউনিয়ন ছাড়াও চাকলাহাট, কামাতকাজলদীঘি, হাড়িভাসা, পার্শ্ববর্তী বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ, বড়শশি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর এ সময়ে যে পরিমাণ টমেটো পাওয়া যেত এবার পাওয়া যাচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম। বর্তমানে টমেটোর যে দাম উঠেছে তার চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হবে টমেটো।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বলেয়াপাড়া গ্রামের টমেটো ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন জানান, আগের বছরে আড়তে বসেই টমেটো কিনতেন। কিন্তু এবার মওসুম শুরু হয়ে গেলেও সরবরাহ একেবারেই কম। শিলাবৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ কৃষকের টমেটো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এবার তারা কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টমেটো ক্ষেত থেকে বেশি দামে টমেটো কিনছেন। বর্তমানে প্রতি মণ কাঁচা টমেটো মান ভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে কিনছেন। সামনে প্রতি মণ টমেটো কিনতে হবে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

কথা হয় জেলা সদরের কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের ভাণ্ডার গ্রামের কৃষক হামিদার রহমানের সাথে। তিনি বলেন, এই মওসুমে আমাদের এলাকার প্রধান আবাদ হাইব্রিড টমেটো। এবার আমি ১২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এর মধ্যে তিন বিঘার জমির টমেটো তোলার সময় হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা ক্ষেত দেখেও গিয়েছিল। কিন্তু টমেটো তোলার আগেই শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ১২ বিঘা টমেটো মাটির সাথে মিশে গেছে। শিলাবৃষ্টি না হলে আমি কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারতাম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, এবার পঞ্চগড়ে এক হাজার ৯৪২ হেক্টরে শীতকালীন টমেটো আবাদ হয়েছিল। ৩০ মার্চের শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ১৫৫ হেক্টরে টমেটো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হেক্টরের টমেটো সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চগড়ের টমেটোচাষিদের ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু টমেটো নয়, শিলাবৃষ্টিতে পঞ্চগড়ে মোট ৪৭৮ হেক্টর ফসল আক্রান্ত হয়েছে। টমেটো ছাড়াও ১৮৫ হেক্টর ভুট্টা, ৮০ হেক্টর গম, ৫২ হেক্টর মরিচ, এক হেক্টর তরমুজ ও পাঁচ হেক্টর জমির শসা ও করলাসহ শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে। আমরা শিলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি এবং আক্রান্ত ফসলের তালিকা তৈরি করেছি। কৃষকদের সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়েছি। সরকারি প্রণোদনা পেলে দ্রুত সেই সহায়তা আমরা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করব।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫