ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

ঘটনা-দুর্ঘটনা

দুই বাসের প্রতিযোগিতার শিকার

হাইকোর্টের নির্দেশের পরও আয়েশার খোঁজ নেয়নি কেউ

আমিনুল ইসলাম

১১ এপ্রিল ২০১৮,বুধবার, ২৩:৪৬


প্রিন্ট
হাইকোর্টের নির্দেশের পরও আয়েশার খোঁজ নেয়নি কেউ

হাইকোর্টের নির্দেশের পরও আয়েশার খোঁজ নেয়নি কেউ

নিউ মার্কেটের সামনে দুই বাসের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার মাঝে চাপা পড়ে গুরুতর আহত আয়েশার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও আহতের স্বজনদের সাথে কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। হাইকোর্টের নির্দেশনার পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন আয়েশার পরিবার; কিন্তু নির্দেশের তিন দিন পার হলেও আয়শার খোঁজ নিচ্ছে না কেউ। এতে করে হতাশ হয়ে পড়েছে আহতের পরিবার।


তারা বলছেন, আয়েশার চিকিৎসা ব্যয় তাদের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে হাসপাতালে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আরো প্রায় সোয়া লাখ টাকা দিতে হবে। আত্মীয়স্বজনেরা টাকা ধার দিতে না চাইলেও হাইকোর্টের নির্দেশনার পর অনেকেই ধার দিয়েছেন; কিন্তু কোর্টের নির্দেশনার তিন দিন পরও তাদের সাথে কেউ যোগাযোগ না করায় হতাশায় পড়েছেন তারা।


গত সোমবার বাসচাপায় আহত আয়েশার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবির লিটনের হাইকোর্ট বেঞ্চ দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। একই সাথে আগামী ৮ মে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আহত ব্যক্তির চিকিৎসায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানিয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে আগামী ৬ মের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম পাটওয়ারী ও সৈয়দ হাসান যোবায়ের। ওই সময় মুজাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আহত আয়েশা খাতুনের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বিকাশ পরিবহন থেকে নিতে বলেছেন।

 

আহত আয়েশার স্বামী তানজিল আহমেদ তাহের গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, আয়েশার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই রয়েছে। তাকে নিয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ল্যাবএইডের চিকিৎসক মাসুদ আনোয়ার চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছেন।

বুধবার রাতে ওই বোর্ডের বসার কথা রয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এ দেশে থাকা সর্বশেষ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে আয়েশাকে; কিন্তু তার স্পাইনাল কড ছিঁড়ে যাওয়ায় তেমন কিছুই করা সম্ভব হয়নি। তানজিল বলেন, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেলে রড দিয়ে স্ক্রু বসিয়ে সেটি ঠিক করা যায়; কিন্তু স্পাইনাল কড ছিঁড়ে গেলে তেমন কিছু করার থাকে না। যেখান থেকে ছিঁড়ে যায় সেখান থেকে নিচ পর্যন্ত ব্রেইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সেটি অসাড়ে পরিণত হয়।

আয়েশার ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে। তার কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত অনুভূতিহীন হয়ে গেছে। এ দিকে আয়েশা যাতে বসতে পারে তার জন্য মেরুদণ্ডে রড বসালেও সেটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েও পরিবারের সংশয় রয়েছে।


তানজিল আরো বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে সাভারের সিআরপিতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। বুধবার তাকে ল্যাবএইড থেকে নিয়ে গেলেও আরো সোয়া লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এত টাকার জোগান তিনি দিতে পারছিলেন না। তবে কোর্টের নির্দেশনার কথা শুনে কয়েকজন আত্মীয় তাদের ধার দিয়েছেন; কিন্তু গত তিন দিনেও এ ব্যাপারে কেউ তাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তিনি কারো সাথে যোগাযোগ করবেন কি না, বা কার সাথে যোগাযোগ করবেন সে ব্যাপারে কিছু জানেন না।


তিনি আরো বলেন, সাভারের সিআরপিতে নেয়া হলেও সেখানে এর থেকে উন্নত কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই রোগী বাসায় নিয়ে গেলে আরো বিপদ হতে পারে তাই সাভারে নেয়া। সেখানেও খরচ হবে বিপুল। আয়েশার উন্নত চিকিৎসার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নসহ সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতা চেয়েছে আয়েশার পরিবার।


উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল সকালে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় নিউ মার্কেটের সামনে বিকাশ পরিবহনের দু’টি বাসের বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় গুরুতর আহত হন আয়েশা আক্তার (২৬)। তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে স্পাইনাল কড ছিঁড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় তার ৬ বছরের মেয়ে আহনাব।

রক্তাক্ত অবস্থায় আয়েশাকে উদ্ধার করে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫