ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

চট্টলা সংবাদ

চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করতে সেবা সংস্থায় চিঠি

নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

১২ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মহানগরীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদে শিগগিরই অভিযানে নামছে প্রশাসন। ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিতে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে লিখিত পত্র দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এসব কার্যক্রম পর্যালোচনায় আগামী ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৮তম সভা আহ্বান করা হয়েছে। এ দিকে গতকাল সকালে ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মতিঝর্ণা এলাকার বাটালিহিল পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে সেখানে বসবাসকারীদের বাধার মুখে অভিযান অসমাপ্ত রেখেই ফিরে গেছেন জেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালনাকারী দলটি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৬৬৬টি পরিবারে প্রায় তিন হাজার মানুষ রয়েছে। নগরীর বেশির ভাগ পাহাড় বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত অধিদফতর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে মালিকানাধীন। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদফতর এবং বিভাগীয় তথ্য অফিসও পাহাড়ের মালিক বলে সূত্র জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসরতদের আগামী বর্ষার আগে সরিয়ে নেয়ার জন্য পাহাড়ের মালিক (সরকারি সংস্থা-৯টি ও ৯ জন ব্যক্তি) বরাবরে গত ৮ জানুয়ারি পত্র পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিসের নির্দেশে গত ২১ মার্চ এসব সংস্থা ও ব্যক্তিকে পুনরায় পত্র দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারকেও (ভূমি) একই ধরনের পত্র দেয়া হয় বলে সূত্র জানায়।
সূত্র মতে, নগরীর ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের মধ্যে পাঁচটি পাহাড়ে ঝুঁকির মাত্রা অত্যাধিক। এর মধ্যে রয়েছেÑ মতিঝর্ণা পাহাড় ও বাটালিহিল, টাইগারপাস-লালখান বাজার পাহাড়, ফয়েস লেক আবাসিক এলাকা এবং ইস্পাহানী পাহাড়। বাংলাদেশ রেলওয়ে মালিকানাধীন নগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা পাহাড়ের ২৬ একর জায়গায় ২০৪১টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে কাঁচাঘর থেকে শুরু করে পাঁচতলা ভবনও রয়েছে। এসব স্থাপনার অবৈধ দখলদার ছয় হাজারেরও অধিক বলে সূত্র জানায়। সূত্র মতে, পাহাড়ে-পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবৈধভাবে বসবাসরতদের উচ্ছেদে শেখ জোবায়ের আহম্মেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাট্টলী সার্কেল, মো: জিয়াউল হক মীর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পতেঙ্গা সার্কেল, আব্দুল্লাহ আল মনসুর, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদর সার্কেল, শারমিন আখতার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আগ্রাবাদ সার্কেল, সাবরিনা মুস্তাফা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাকলিয়া সার্কেল এবং মো: সাব্বির রাহমান সানি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) চান্দগাঁও সার্কেল, চট্টগ্রামকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা সংবলিত পত্র দেয়া হয়েছে গত ৫ এপ্রিল।
এ দিকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহড়ে অবৈধভাবে বসবাসরতদের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিডিবির চট্টগ্রামস্থ প্রধান প্রকৌশলী এবং কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) বরাবরে জেলা প্রশাসনের প থেকে গত ৪ এপ্রিল লিখিতভাবে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের অদূরে লেবুবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। গত ১০ বছরে এ কমিটি ১৬টি সভায় মিলিত হয়। গত বছরে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পর প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন বর্ষাকাল ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা বিবেচনা চট্টগ্রাম মহানগরসহ চট্টগ্রামের সব উপজেলায় পাহাড়ের ওপর ও পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবার এবং স্থাপনা অপসারণ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫