ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

মতামত

জাকারবার্গের কী করা উচিত

রাশিদুল ইসলাম

১১ এপ্রিল ২০১৮,বুধবার, ১৭:৫৯


প্রিন্ট
জাকারবার্গের কী করা উচিত

জাকারবার্গের কী করা উচিত

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ কোম্পানিটির নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে এমন এক সঙ্কটের মধ্যে যখন প্রতিষ্ঠানটির ওপর এর ২.১ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর বিশ্বাস টিকিয়ে রাখা দায় হয়ে উঠেছে।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ ও এ প্রচারাভিযানে সম্পৃক্ত থাকা, ফেসবুকের ৫০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ ও তার বিবিধ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা অবৈধ বলে মনে করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক নিয়ে সারা বিশ্বে তুমুল বিতর্কের পাঁচ দিন পর মার্ক জাকারবার্গের মুখ খোলার পর বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাকারবার্গ বলেছেন, তিনি মনে করেন না যে তার প্রতিষ্ঠানটির ওপর এ ধরনের সঙ্কটের পরও আস্থায় ধস নামবে। প্রোপাগাণ্ডা ও ফেক নিউজ নিয়ে ইউরোপে যখন রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ আর নেই। অবশ্য এপ্রিলেই কংগ্রেসে এ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন জাকারবার্গ।

ফেসবুক নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার আগেই এর বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটির ৯ ভাগ শেয়ার বিক্রি করেন। তথ্যের ওপর হস্তক্ষেপের ভয়ে ফেসবুকের গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, আস্থা কমে যাওয়ায় জাকারবার্গের উচিত তার ব্যবসায় পরিবর্তন আনা, যা সর্বাগ্রে জরুরি। অথচ ফেসবুকের প্রতি গ্রাহকদের প্রচণ্ড ঝোঁক, তাদের আচরণ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কোটি ডলার দিতে রাজি করানোর মতো তিনটি বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কৌশল। যে কারো কাছে পণ্য বিক্রি বা তার মনোযোগ কেড়ে নেয়ার মতো অভিনবত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানটির। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চরম বিশ্বাস জন্মাত ফেসবুক।

২০১৩ সালে ব্রিটেনে ফেসবুক নিয়ে এক জরিপে দুই লাখ ৭০ হাজার জন সাড়া দেয়। এরপর এর ব্যবহারকারী দাঁড়ায় ৫০ মিলিয়নে। আর এখন বলা হচ্ছে এসব ব্যবহারকারীর তথ্য যাতে পাচার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ ২০১৫ সালেই ফেসবুক এ ধরনের সমস্যার কথা জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে তদন্ত চলছে। মার্কিন নির্বাচনে ফেসবুকের কাছ থেকে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কতটা লাভবান হয়েছে এবং এতে ওই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে কতটা ব্যাঘাত ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ধরনের তদন্ত ফেসবুকের পক্ষে যাবে না।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক এবং তা ভুল স্বীকার করতেও গড়িমসি ও অনিচ্ছা দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছর প্রথম দিকে জাকারবার্গ মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ফেক নিউজ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে তা নাকচ করে দেন। এরপর সেপ্টেম্বরে ফেসবুক বলে ক্রেমলিনের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের কাছ থেকে তিন হাজার বিজ্ঞাপন কিনে নেয় এক লাখ ডলারে। তবে ফেসবুক জানায়নি যে রাশিয়ার অপারেটরদের সাহায্যে দেড় শ’ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ফ্রি পোস্ট দেয়ার সুযোগ পান যাদের অনেকের তথ্য সম্পর্কে বিজ্ঞাপনদাতাদের বিভ্রান্ত করা হয়। এখন ফেসবুক বাতিল হচ্ছে না বা ব্যবসায় থেকে সরেও দাঁড়াচ্ছে না। তবে ইউরোপে ফেসবুকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সহস্রাধিক অ্যাকাউন্ট বাতিল বা অবিশ্বাসের মতো ঘটনায় ডিজিটাল করারোপ করা হয়েছে। গত বছরের জুন থেকে ফেসবুকের মার্কিন গ্রাহকদের সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মার্কিন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজারে ফেসবুকের ব্যবসায় প্রথমবারের মতো মার খায়। অথচ এর নতুন গ্রাহকদের কাছে এর প্রভাব যখন দারুণ সাড়া ফেলে ঠিক তখনই এমন সঙ্কটের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের বাজারমূল্য ৪৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও এর আর্থিক লেনদেন মূল্য ১৪ বিলিয়ন ডলার মাত্র।

যদি জাকারবার্গ তার প্রতিষ্ঠানকে ধরে রাখতে চান তা হলে তাকে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য যাতে পাচার না হয়। যেসব অ্যাপ এ ধরনের তথ্য পাচার করতে চাইবে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণে ফেসবুককে সহায়তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ইউরোপের মতো সারা বিশ্বে জেনারেল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন আরোপ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তৃতীয় কোনো পক্ষের হাতে কারো ব্যক্তিগত তথ্য পাচার হওয়ার ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

ফেসবুক যদি মনে করে তারা তাদের সমস্যা দূর করতে পারলে তা যথেষ্ট কিন্তু তা তথ্যপ্রযুক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচার হওয়া রোধে পুরোপুরি উদ্যোগ হতে পারে না। আর এটি নিশ্চিত না হলে বিশাল অঙ্কের লভ্যাংশ হারানোর মতো খেসারত বারবার গুনতে হবে। ফেসবুক পুঁজিবাজারে তার রিটার্ন যদি আশি ভাগ হারিয়ে ফেলে তাহলে তাকে কেমনভাবে নিবেন মি. জাকারবার্গ?

 

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫