চাকরি না দেয়ায় অধ্যক্ষের স্বামীকে অপহরণ করলেন আওয়ামী লীগ নেতা
চাকরি না দেয়ায় অধ্যক্ষের স্বামীকে অপহরণ করলেন আওয়ামী লীগ নেতা

চাকরি না দেয়ায় অধ্যক্ষের স্বামীকে অপহরণ করলেন আওয়ামী লীগ নেতা

রংপুর অফিস

রংপুরের কাউনিয়ায় অবৈধভাবে চাকরি না দেয়ায় আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন একটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বামীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছিনা বুলবুল বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়ার টেপামধুপুর উচ্চবিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হাছিনা বুলবুলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। পরে তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে শহীদবাগ ইউপি চেয়ারম্যান কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান তার জামাতাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকি দেন। এতেও কাজ না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ রাত ১০টার দিকে চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান, শাহ আলম, শাহ কামাল ও আবু রেজাসহ আরো কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বামী কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজের লাইব্রেরিয়ান ফেরদৌস জামান লেলিনকে মাইক্রোবাসে অপহরণ করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ খবর পুলিশ, র্যাব ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করার পর ৩১ মার্চ গভীর রাতে অপরাধীরা অপহরণকারীকে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়ির পাশে ফেলে দেয়। পরে শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় অভিযোগ করলেও থানা মামলা না নেয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছিনা বুলবুল বাদি হয়ে গত ৩ মার্চ কাউনিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ওই দিনই কাউনিয়া থানায় মামলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় বাদিসহ তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাছিনা বুলবুল জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। সে কারণে আদালতের নির্দেশে মামলা হলেও তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান জানান, অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ১৫ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু সে আমার জামাতাকে চাকরি না দিয়ে টালবাহান করে। এ জন্য তার স্বামীর সাথে কথার বলার জন্য ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে অপহরণ করা হয়নি। মিথ্যা মামলা দিয়ে অপরাধ আড়াল করতে চাইছে অধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের স্বামী।

কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশীদ জানান, মামলা যেহেতু হয়েছে, আসামিরা অবশ্যই গ্রেফতার হবে এবং গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.