পোকার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে
পোকার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে

ভালুকায় উঠতি বোরো ধানে পোকা ও ইঁদুরের উপদ্রবে দিশেহারা কৃষক

আসাদুজ্জামান, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার প্রায় এলাকাতেই বিভিন্ন ধরনের পোকা ও ব্যাপকভাবে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে কৃষকদের অভিযোগ। কোনো কে নো এলাকায় প্রায় ৫০ ভাগ উঠতি অর্ধপাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের লোকজনদের পাঠপর্যায়ে কম যাওয়া এবং বীজ ও কীটনাশক ডিলারদের উপর নির্ভশীল হয়ে সঠিক সময়ে কৃষকরা পরামর্শ না পাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ন্যায় এবারো বিভিন্ন এলাকায় মাজরা, ব্লাস্ট ও খোলপঁচা রোগের প্রার্দূভাব ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে ইঁদুরের উপদ্রব।

উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আখালিয়া পূর্বপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা ক্ষেতে বিষ দিতে ব্যবস্ত। কৃষক খোরশেদ আলম মোল্লাহ জানান, তিনি পাঁচ কাঠা আমন ধান করেছেন। এতোদিন ভালই ছিল এবং ধান বেড় হয়ে পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহের বৃষ্টির পর হঠাৎ ক্ষেতে পোকা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় আখালিয়া বাজারের কিটনাশক ডিলার জহিরুলের পরামর্শে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করেছেন, তবে কোনো কাজ হয়নি। এখন তারই পরামর্শে তরল বিষ ফিলিয়া ৫২৫ এসই ২৩০ টাকায় ১০০ এমএল বোতল কিনে ক্ষেতে ছিটাচ্ছেন।

তেমনি মো: হুমায়ূন মাস্টারের প্রায় তিন একর জমির উঠতি পাকা ধানের প্রায় ৫০ ভাইগই নষ্ট হয়ে গেছে এই রোগে। অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার আক্কাস আলী, রবিউল, আমির আলী, আলম মিয়া, নান্নু শিকদার, হযরত আলীসহ বহু কৃষক। তাদের ধানের অবস্থাও একই রকম।

তাদের অভিযোগ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কি নাম তা তাদের জানা নেই, তবে শুনেছি, তিনি মাঝে মধ্যে জহিরুল ডিলারের দোকানে আড্ডা দিয়ে চলে যান। এলাকার কৃষকদের ওই ডিলারের উপর নির্ভর করেই ক্ষেতে ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।

এদিকে উপজেলার গাদুমিয়া ও মামারিশপুর ব্লকের কৃষকদেরও একই অভিযোগ। কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ৩০ কাঠা জমিতে বোরো ধান করেছেন। ধার বের হতে না হতেই ক্ষেতে মাজরা পোকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় গাদু মিয়া বাজারে অবস্থিত ডিলার নাজমুলের পরামর্শে প্রথমে দানাদার ওষুধ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে তারই পরামর্শে তরল কীটনাশক ফুরাডান ওষুধ ব্যবহার করছেন। তিনিও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ব্যাপারে একই অভিযোগ করেছেন।

ওই এলাকার কৃষক রফিকুলের ২৫ কাঠা, রিয়াজ উদ্দিনের ১৬ কাঠা, মোতালেব মিয়ার ১৪ কাঠা, আব্দুল মান্নানের ৫ কাঠা, মনোয়ার হোসেনের ৬ কাঠা ও হাফিজ উদ্দিন ৮ কাঠা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। তার অভিযোগ করেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কে তা তারা জানেনই না। তিনি হয়তো এলাকায় আসেন, তবে বীজ ডিলার নাজমুলের দোকান পর্যন্ত।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার মল্লিকবাড়ি ও ভায়াবহসহ আশপাশ এলাকার নদীপাড়ের জমিগুলোতে ব্যাপকভাবে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। এ এলাকার কোনো কোনো কৃষক এক মুঠু ধানও উঠাতে পারবেন না বলে অভিযোগ করছেন।

কৃষক মুঞ্জুরুল হকের প্রায় তিন একার বোরো ধানই নষ্ট হওয়ার পথে ওই রোগে। নানা ধরণের কিটনাশক ব্যবহার করেও তিনি তার ফসল রক্ষা করতে পারছেন না।

অভিযোগ করেছেন মল্লিকবাড়ি এলাকার ফারুক, খসরু মিয়া, মোহাম্মদ আলীসহ বহু কৃষক। তারা জানান, ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ধানই ওই রোগে চিটা হয়ে গেছে।

ভায়াভহ গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, তিনি দুই একর জমিতে ব্রি ধান-২৮ আবাদ করেছিলেন। ব্লাস্ট রোগে তার ধানের বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকবার কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন।

তেমনিভাবে উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই পোকা ও ইঁদুরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বোরো ধানে পোকার আক্রমণের কথা স্বীকার করে বলেন, এবছর উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার কৃষি বিভাগের লোকজন সাধ্যমতো চেষ্টা করে চলেছেন কৃষকদের বোরো ধান রক্ষা করার জন্য।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.