রাশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : সব আরোহী নিহত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় খাবারোভস্ক নগরীতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নগরীর জরুরি বিভাগ বার্তা সংস্থা তাস’কে একথা জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, হেলিকপ্টারে ছয় আরোহী ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এদের সবাই নিহত হয়েছেন।

তিনি আরো জানান, এ সময় হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে।

 

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা : শিগগিরই কঠোর সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প

রয়টার্স ও আলজাজিরা

সিরিয়ার দোমায় রাসায়নিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ব্যাপারে অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রাশিয়া বলেছে, সিরিয়ায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেতৃবৃন্দ ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাথে সোমবার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যেমন নৃশংসতা দেখছি তা চলতে দিতে পারি না। নিজেদের জগতে আমরা এমনটা হতে দিতে পারি না। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির কারণে আমাদের সক্ষমতা আছে, আমরা এগুলো বন্ধ করতে সক্ষম।’

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ছিল এক নৃশংস হামলা। ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটি মানবতার সাথে জড়িত বিষয় এবং এ ঘটনা মেনে নেয়া যায় না।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘রাসায়নিক হামলার ইস্যুতে আজ দিন শেষে একটা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এটা যদি রাশিয়া হয় কিংবা সিরিয়া হয় কিংবা ইরান হয় অথবা এসব দেশ একসাথে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলেও আমরা তাদের চিহ্নিত করব।’ তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত এ ঘটনার জন্য দায়ী। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘রাসায়নিক হামলার জন্য সবাইকে মূল্য দিতে হচ্ছে।’

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব গৌতায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকেরা সেদিনই দোমা শহরে ৭০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছেন। বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছে বলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট জানিয়েছে। বেশ কয়েকটি চিকিৎসক, পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থা ওই বিষাক্ত রাসায়নিক হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। পরে রাসায়নিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫তে দাঁড়িয়েছে। তবে সিরীয় সরকার ও রাশিয়া দোমায় কোনো ধরনের রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করেছে।

এ হামলার খবরের পর থেকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। সোমবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সাথে বৈঠকের আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, ‘যেখানে রাশিয়ার মতো দেশ রাসায়নিক অস্ত্র নির্মূলের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে সেখানে রাসায়নিক হামলার কেন হবে- আমরা সে বিষয়ে নজর দিতে চাই।’ এই হামলার জেরে সিরিয়ায় হামলা চালাবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জেমস ম্যাটিস বলেন, আমি ঠিক এ মুহূর্তে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।’

এর কিছুক্ষণ পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরো ছয়টি দেশ এই জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়।

বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ না নিলেও ওয়াশিংটন এই হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময়ে উপনীত হয়েছি যখন বিশ্বকে অবশ্যই ন্যায়বিচার দেখাতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ইতিহাস এই সময়কে মনে রাখবে কারণ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্বে পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সিরিয়ার লোকজনকে রক্ষা করতে নিজেদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকির মধ্যে রাশিয়া বলেছে, কথিত রাসায়নিক হামলার ঘটনায় সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘হামলা করার জন্য সিরিয়ার হাতে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি যে, সিরিয়া সরকারের অনুরোধে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মিথ্যা অভিযোগে সেখানে সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.