বন্ধ হোক এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা

দুপুরবেলা বিছানায় পিঠ দিয়ে পত্রিকা হাতে নেয়া মাত্রই একটি কর্তিত হাতের ছবিতে দৃষ্টি আটকে গেল। বেশ ঔৎসুক্য নিয়ে বিস্তারিত পড়ে মনটা ভীষণ খারাপ হলো। মা-বাবাহারা অসহায় কলেজছাত্র রাজীবের ডান হাতটি বাসের মধ্যকার প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে কাটা পড়েছে। পর দিন ঢাকা মেডিক্যালে তার ডান হাতবিহীন ব্যান্ডেজসমেত ছবি দেখে নিজের অজান্তেই চোখ দুটো সজল হয়ে গেল।
শুধু রাজীব নয়, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য নাম না জানা রাজীব কিছু অতিউৎসাহী চালকের ঘৃণ্য প্রতিযোগিতার বলি হয়ে কেবল হাত নয়; জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিচ্ছে। অসচেতন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চালকদের অপরিপক্বতা, সড়কপথের বেহাল দশা তো আছেই, তদুপরি চালকেরাও যদি এহেন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, তাহলে যাত্রীসাধারণের চলাচলের নিরাপত্তা বিধান করবে কে? অনেকটা ‘কুইনিন জ্বর সারাবে, কুইনিন সারাবে কে’র মতো অবস্থা।
আয়তনের দিক থেকে ঢাকা শহর খুব একটা বড় নয়। শুধু জ্যামের কারণে কখনো-কখনো শাহবাগ টু মতিঝিল যেতে মনে হয় যেন ঢাকা টু চিটাগাং যাচ্ছি। এতটুকু রাস্তায়ও একে অপরকে পেছনে ফেলে মারমার-কাটকাট করে আগে যাওয়ার কী আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা!
ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি বাসের গায়ে অজস্র্র্র ঘষার দাগ। এগুলো চালকদের পরস্পর প্রতিযোগিতার নিদর্শন। সিগন্যাল ছাড়লে বাসগুলোর প্রতিযোগিতা দেখলে বড্ড ভয় লাগে। এতটা কাছাকাছি বাসগুলো চলে, সে দিন শাহবাগ মোড়ে আমাদের বাসের জানালার ভেতরে পাশের বাসটির লুকিং গ্লাসের পুরোটাই ঢুকে গেল। চালকদের খানিক তর্কাতর্কি অবশেষে মুক্তি পেয়ে বাস চলল।
সম্মানিত পাঠক, বাসে চলাচলের সময় নিজেদের যেমন সচেতন হওয়া প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো চালকদের সচেতন করা। অন্তত এটা বলা যে, ‘তোমার বাবা-মা, ছেলে-সন্তানও কিন্তু বাসে যাতায়াত করে’।
নূরুল হুদা হাবীব, গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.