মা ও ছেলে হত্যা
মা ও ছেলে হত্যা

মা ও ছেলে হত্যা : যেভাবে ধরা পড়ল তানিয়া

এনামুল হক জুবের সিলেট ব্যুরো

সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়া এলাকায় রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৮) খুনের ঘটনায় বহুল আলোচিত তানিয়া (২২) অবশেষে ধরা পড়েছে। মা ও ছেলে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন ও তানিয়া। তানিয়াকে গতকাল ভোর রাতে কুমিল্লার তিতাস এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআইর) একটি টিম গ্রেফতার করে। এর আগে রোববার রাতে সিলেট নগরী থেকে তানিয়ার কথিত স্বামী ইউনুস খান মামুনকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তানিয়াকে।

তানিয়া কুমিল্লার ঘোষকান্দির বিলাল মিয়ার মেয়ে। তার আগের স্বামী বাহরাইন প্রবাসী। ওই স্বামীর ঔরসজাত পাঁচ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। বছর খানেক আগে মামুনের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে হয় তানিয়ার। ইউনুস খান মামুন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের সারজন খানের ছেলে ও নগরীর তালতলার বাসিন্দা।

তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়া মামুন তার এক আত্মীয়ের ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করেন। তানিয়াকে গ্রেফতার করলেও তানিয়ার সাথে রোকেয়ার কিভাবে পরিচয় তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই। স্থানীদের কেউ কেউ তানিয়াকে ওই বাসার গৃহকর্মী আবার কেউ রোকেয়ার বান্ধবী হিসেবে চেনেন। তবে রোকয়ার ভাই ও হত্যা মামলার বাদি জাকির হোসেন জানিয়েছিলেন, তিনি তানিয়া নামের কাউকে চেনেন না।

হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তানিয়া ও নাজমুল
মা-ছেলে হত্যার নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী তানিয়া ও ব্যবসায়ী নাজমুল। তারা ছাড়াও হত্যাকাণ্ডে আরো অন্তত ছয়জন জড়িত ছিল। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়ার কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে- এমনটি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। ওই সূত্র আরো জানায়, ৩০ মার্চ বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে খুন করা হয়। হত্যার পর ঘাতকেরা পালিয়ে যায়।
গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় তাদের সিলেট পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় গ্রেফতারকৃত তানিয়া আক্তার ও তার কথিত স্বামী ইউনুছ খান মামুনকে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি মা-ছেলে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুল। তানিয়া এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিল। পরে বিষদ তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলা যাবে।

তিনি বলেন, তানিয়া বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। পূর্বে তিনি কোনো পেশায় জড়িত ছিলেন, রোকেয়ার সাথে তার কী সম্পর্ক ছিল, কতদিন সিলেটে অবস্থান করছিলেন, হত্যাকাণ্ডে মামুনের ভূমিকা কী ছিল-সব কিছু তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তানিয়াকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুলের সাথে সখ্যতা ছিল নিহত রোকেয়ার। তার বাসায় নিয়মিত যাওয়া আসা করতেন নাজমুল ও তানিয়া। রোকেয়াকে আপা বলে ডাকতেন তানিয়া। হত্যার পর ৩১ মার্চ সিলেট ছেড়ে বাড়িতে চলে যায় তানিয়া। ওই দিন একবারের জন্যও মামুন ও তানিয়া মোবাইল খোলেননি। কোনো কল আসেনি-যায়নি। ফলে তাদের ধরা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।


অন্য একটি সূত্র জানায়, রোকেয়ার সাথে সম্পর্ক ছিল নাজমুলের। কিছু দিন আগে লন্ডন প্রবাসী এক মেয়ের সাথে নাজমুলের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। এ নিয়ে রোকেয়া ও নাজমুলের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এ ঘটনার জের থেকে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে কিনা- এ বিষয়টিও তদন্তে সামনে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল সিলেট নগরের খারপাড়ার ‘মিতালী ১৫/জে’ নম্বর বাসা থেকে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ এবং নিহত রোকেয়ার শিশুকন্যা রাইসাকে (৫) রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ দিন রাতেই দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই ব্যবসায়ী জাকির হোসেন থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.