২০১৯ সালে মেট্রোরেল চালু নিয়ে শঙ্কা

মেট্রোরেল প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত থাকলেও রাজধানীর একাংশে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই মেট্রোরেল চালু করতে চায় সরকার। নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-৬ হবে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে (১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার) ২০১৯ সালের মধ্যে ট্রেন চালু করতে চায় সরকার। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে আটটি প্যাকেজে। এ অংশে ২০১৯ সালের মধ্যে ট্রেন চালু করতে হলে আট প্যাকেজের সাতটিই এ সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের দরকার পড়বে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের ভায়াডাক্ট ও স্টেশনের কাজ এগিয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক প্রকৌশলের দরপত্রের কাজও এখনো শেষ হয়নি। ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও সেখানে পূর্ত ও ভবন নির্মাণের কাজ হয়েছে ২ শতাংশ।
চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের প্যাকেজভিত্তিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্যাকেজ-১ এর আওতায় ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ। প্যাকেজ-২ এর আওতায় ডিপো এলাকার পূর্ত ও ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২ শতাংশ। ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে চলছে উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের কাজ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মূল লাইনটি হচ্ছে এ দুই প্যাকেজে। এ অংশে ৯টি স্টেশন থাকবে। স্টেশনগুলো হলোÑ উত্তরা (নর্থ), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (সাউথ), পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও। একই অংশে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে। উত্তর (নর্থ) থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সব ক’টি স্টেশন হবে উড়ালপথের ওপর। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এ অংশের দুই হাজার ২৩৮টি পাইলের মধ্যে নির্মাণ শেষ হয়েছে ৪৩৯টির। ৩৮৩টি চেক বোরিংয়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ২৪৭টির। জানুয়ারি পর্যন্ত এ প্যাকেজের অগ্রগতি ৩ শতাংশ।
প্যাকেজ-৭ এর আওতায় লাইনের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক প্রকৌশলের কাজ করা হবে। এ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। প্যাকেজ-৮ এর আওতায় রোলিং স্টক (ট্রেন) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কাজের অগ্রগতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
সরকারের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) সুপারিশের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে এমআরটি লাইন-৬।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল হক জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের মধ্যে রাজধানীর একাংশে মেট্রোরেল চালুর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, আমি মনে করি তা পুরোপুরি না হলেও পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য হলেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এজন্য অভ্যন্তরীণ পরিষেবা স্থানান্তর, ডিপো, ভায়াডাক্টের কাজগুলো দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে হবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.