রিকশা ও দোলনায় বসে ভোজন

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে প্রায় ৫৫০ বর্গফুট আয়তনের ‘অফবিট ফুড ফিউশন’ রেস্তোরাঁয় রিকশা ও দোলনায় বসে ৩০-৩৫ জন অনায়াসেই খাবার খেতে পারবেন। এ রেস্তোরাঁয় মূলত পাওয়া যায় ফাস্ট ফুড ও চায়নিজ বিভিন্ন খাবার। বিভিন্ন স্বাদের পাস্তা ও পিৎজা, বার্গার, শর্মা, সালাদ, সুপ, চাওমিন এবং সেট মেনু মিলবে এই রেস্তোরাঁয়। বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।
রাস্তার রিকশা রেস্তোরাঁয় দেখে সবাই খানিকটা অবাকই হয়। তাও আবার একটি টেবিলের দুই পাশে দুটি রিকশা মুখোমুখি। তবে একটু ভালো করে তাকাতেই ভুল ভেঙে যাবে। এই রিকশাগুলো আসলে চলার জন্য নয়, বসার জন্য। খাবার টেবিলের দুই পাশে রাখা হয়েছে চেয়ারের বিকল্প হিসেবে। রিকশাগুলোর চাকা নেই।
শুধু রিকশা নয়, দোলনায় মৃদু দোল খেতে খেতে খাবার খেতে পারবেন যে কেউ। দুটি টেবিল ঘিরে আছে চারটি দোলনা। ওপর থেকে মোটা রশি দিয়ে বাঁধা। আবার যাতে বেশি দোল না খায় সে জন্য মেঝে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো রয়েছে। এই রেস্তোরাঁর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্দরসজ্জা। রেস্তোরাঁটির চার উদ্যোক্তার মধ্যে দুজন নারী ও দুজন পুরুষ। এডলিন কুহু হোর, ইব্রাহীম খলিল, মোখলেসুর রহমান ও শারমিন মৌসুমী একে অপরের সাবেক সহকর্মী ও বন্ধু।
ইব্রাহীম খলিল বলেন, ভিন্ন ধরনের অন্দরসজ্জার কারণেই লোকজন এখানে খেতে আসেন। যারা খেতে আসেন তাদের মাঝে রিকশায় বসে খাওয়ার আগ্রহ বেশি থাকে। কারণ, এ ধরনের ব্যতিক্রমী অন্দরসজ্জা সচরাচর দেখা যায় না। দেশীয় ঐতিহ্যের রিকশা আর দোলনা এখানে খেতে আসা লোকজনের মনে প্রশান্তি এনে দেবেÑ এ ভাবনা থেকে ভিন্ন ধরনের অন্দরসজ্জা করেছেন তারা।
চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবছিলেন চার বন্ধু। এর পরে গত ফেব্রুয়ারিতে রেস্তোরাঁটি চালু করেন। সাধারণত তরুণেরা ভিন্নতা খোঁজেন। তাদের আগ্রহের কথা ভেবে আরো অনেক রেস্তোরাঁর মতো এটি ফ্রি ওয়াইফাই জোন করা হয়েছে। তারা খাবেন কিন্তু ছবি তুলবেন না, তা তো হয় না! সেসব কথা ভেবেই অন্দরসজ্জায় এই ভিন্নতা। বন্ধুর কাছে রেস্তোরাঁটির ব্যতিক্রমী অন্দরসজ্জা সম্পর্কে শুনে সেখানে খেতে গিয়েছিলেন উত্তরার মাহবুব জামান। তিনি বলেন, অফবিটের খাবারের মান ভালো। দামও ছিল সাধ্যের মধ্যে। তবে বসার ভিন্ন ডিজাইন মনে রাখার মতো।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.