ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

সিলেট

আন্দোলন খুবই যৌক্তিক, ৫৬ শতাংশ কোটা রাখার যুক্তি নেই : জাফর ইকবাল

শাবি সংবাদদাতা

০৯ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৭:৪৫ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৭:৫৯


প্রিন্ট
আন্দোলন খুবই যৌক্তিক, ৫৬ শতাংশ কোটা রাখার যুক্তি নেই : জাফর ইকবাল

আন্দোলন খুবই যৌক্তিক, ৫৬ শতাংশ কোটা রাখার যুক্তি নেই : জাফর ইকবাল

বিশিষ্ট লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে তা খুবই যুক্তিসংগত। চাকরি ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ কোটা রাখা কোনক্ষেত্রেই যৌক্তিক নয়। সরকারের উচিৎ হবে শিক্ষার্থীদের এই দাবি মেনে নেওয়া। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের আচরণেরও সমালোচনা করেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, পুলিশের কোনোভাবেই উচিত হয়নি শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা। আমার সাথেও পুলিশ থাকে, তাই এর সমালোচনাটা করাটা একটু কঠিন। তবে আগে আমরা দেখতাম ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকতে গেলে প্রক্টরের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো। প্রক্টরের অনুমতি পেলে পুলিশ ঢুকতে পারত। এখন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পুলিশের স্থায়ীভাবে ক্যাম্প করে দেয়া হচ্ছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক ক্ষতিকর একটি বিষয়। শিক্ষার্থীদের উপর হামলা না করে পুলিশ বিষয়টাকে অন্যভাবে সমাধান করতে পারতো বলে মন্তব্য করেন জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, সরকারের মনে রাখা উচিত শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে নয়, বরং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে।

তিনি আরো বলেন, আমি কোটার বিপক্ষে নই। কিন্তু আমি যা শুনেছি তা হলো বর্তমানে মেধাবীদের থেকে বিভিন্ন জায়গায় কোটাপ্রাপ্তদের সংখ্যা বেশি। চাকরি ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ এমনকি আরো বেশি কোটা রাখা হয়েছে কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এই অনুপাতটাকে কমিয়ে আনা প্রয়োজন। তা না হলে মেধাবীদের মূল্যায়ন হবে না।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবনের কথা পরিবারের কথা না ভেবে আমাদেরকে একটি দেশ উপহার দিয়েছেন। অথচ তারাই একটা বিরাট সময় ধরে অবহেলিত ছিলেন। তাদের জীবনযাত্রার মান সবার থেকে ভালো হোক আমরা সবাই চাই। তবে তাদেরকে সুবিধা দিতে গিয়ে আমরা যেন তাদেরকে অসম্মানিত না করি। আজকে কোটায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, মানুষের মনে বড় ক্ষোভ তৈরী হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে। ঘুরে ফিরে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর, তাদের সন্তানদের ওপর, তাদের পরিবারের ওপর অসম্মান হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমরা তাদেরকে অপমানিত করছি। অথচ তাদেরকে অসম্মানিত করার এ সুযোগটা আমরা নিজেরাই তৈরি করে দিয়েছি। কোটা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও আগে কোটা ছিল না।

এখন বিভিন্ন রকম কোটা চলে আসছে। কোটা যতো কম থাকা যায় ততোই ভালো। আর একটি কোটা শুধু জীবনে একবারই ব্যবহার করার সুযোগ থাকা উচিত বলে নিজের মত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫