রাজা মিয়ার ক্ষেতে বিরল সূর্যমূখী। এক গাছে ৪৬টি ফুল ফটেছে
রাজা মিয়ার ক্ষেতে বিরল সূর্যমূখী। এক গাছে ৪৬টি ফুল ফটেছে

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি

এএসএম জসিম, পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা

সূর্যমুখী। দূর থেকেই হাসতে থাকে ফুলটি। সূর্যের মতো থালা মেলা এই ফুলটি সবারই মুখে হাসি ফোটায়। দেখতে সূর্যমুখীর মতো বলেই নাম 'সূর্যমুখী'। পাতায় ঘেরা গাছের আগায় একটিই ফুল ফুটে। হাসে মুখপানে চেয়ে। তবে এবার একটি গাছে হাসতে দেখা গেছে ৪৬টি সূর্যমুখীকে!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। বরগুনার পাথরঘাটায় উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপধোন গ্রামে জোট বেধে ফুটেছে এই সূর্যমুখী।

আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠভরা সূর্যমুখীর সমারোহ। একদিকে আলু ক্ষেত, অন্যদিকে মুগডাল। মাঝখানে আলাউদ্দিন রাজা মিয়ার সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত। সেখানেই মিলেছে এই ৪৬ ফুলের গাছের।

কৃষক আলাউদ্দিন রাজার বাড়ি উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনচটকী গ্রামে। তার ক্ষেতের এই ফুল দেখতে ভিড় জমিয়েছে উৎসুক গ্রামবাসী। গাছের ৪৬টি ফুলের মধ্যে ২৯টি বড় আর বাকি গুলো একটু ছোট।

রাজা মিয়ার ক্ষেতে বিরল সূর্যমূখী। এক গাছে ৪৬টি ফুল ফটেছে 

 

এই বিরল ঘটনার ব্যাপারে রাজা মিয়া বলেন, আট শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। হঠাৎ এ গাছটির প্রতি আমার নজর পড়ে। এক গাছে ফুটেছে ৪৬টি ফুল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন প্রতিদিনই গাছটি দেখতে আসে।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল বলেন, আমি এই প্রথম শুনলাম যে একটি সূর্যমুখী গাছে একাধিক ফুল ধরে। সাধারণত যে কোন একটি গাছে একটি ফুল হয়ে থাকে। তবে একটি গাছে ৪৬টি সূর্যমুখী বিরল ঘটনা।

সূর্যমুখী সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য :

একবর্ষী ফুলগাছ। লম্বায় তিন মিটার হয়ে থাকে। ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়।

উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম : Hellianthus annus.

১. পুষ্টিমূল্য/উপাদান : বীজে লিনোলিক এসিড বিদ্যমান। উন্নতমানের তৈল থাকে।

২. ভেষজগুণ : হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।

৩. ব্যবহার : সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ছাড়ানোর পর মাথাগুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাছ ও পুষ্পস্তবক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৪. উপযুক্ত জমি ও মাটি : সূর্যমুখী সাধারণত সব মাটিতেই জন্মে। তবে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশী উপযোগী।

৫. জাত পরিচিতি : এ পর্যন্ত বারি কর্তৃক ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যথা (১) কিরণী (ডিএস-১) এবং বারি সূর্যমুখী-২।

কিরণী : ১৯৯২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটির কাণ্ডের ব্যাস ১.৫-২.০ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১২-১৫ সে.মি.। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪০০-৬০০। বীজের রঙ কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৮-৭২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জাতটি মোটামুটি অলটারনারিয়া বৱাইট রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৯০-১১০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন ১.৬ হতে ১.৮ টন।

বারি সূর্যমুখী-২ : গাছের কাণ্ডের ব্যাস ২.০-২.৪ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪৫০-৬৫০। তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জীবনকাল রবি মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-৯৫ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন রবি মৌসুমে ২.০ হতে ২.৩ টন এবং খরিপ মৌসুমে ১.৫ হতে ১.৮ টন।

৬. বীজের হার : ৮-১০ কেজি/হেক্টর।

৭. বপন সময় ও বপন পদ্ধতি : সূর্যমুখী সারা বছর চাষ করা যায়। তবে অগ্রহায়ন মাসে (মধ্য থেকে চাষ করলে এর ভালো ফলন পাওয়া যায়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠে (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে) মাসেও এর চাষ করা যায়। সূর্যমুখী বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সে.মি. এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সে.মি.।

৮. সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা : সূর্যমুখী ফসলের ফলন বেশি পেতে হলে কয়েকবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে), দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর (পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) সেচ দেয়া দরকার। সূর্যমুখীর জমি সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে উহা তুলে ফেলতে হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.