ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

গবেষণা

এখন মনের কথাও শুনবে অন্যে!

বিবিসি

০৯ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১২:১৭ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১২:২৪


প্রিন্ট
এখন মনের কথাও শুনবে অন্যে!

এখন মনের কথাও শুনবে অন্যে!

কারো ওপর খুব রেগে আছেন। মুখে বলতে পারছেন না। কিন্তু আপনার সে মনের কথা এখন অনায়সেই বুঝতে পারবে সে। কিভাবে?

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক গবেষক এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যার সাহায্যে মানুষের মাথার মধ্যে যে চিন্তাভাবনা চলছে তা শুনতে পারবেন দ্বিতীয় ব্যক্তি।

তবে অর্ণব কাপুর আবিষ্কৃত অল্টার ইগো হেডসেট কোনো মাইন্ড রিডিং যন্ত্র নয়। এমআইটির মিডিয়া ল্যাব তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই যন্ত্র আপনার মস্তিষ্কের ভেতরে কী চলছে তা পড়তে পারে না। মানুষের ব্রেন অ্যাক্টিভিটির সাথে এর কোনো সরাসরি যোগাযোগ বা ফিজিকাল অ্যাকসেস নেই।

প্রশ্ন আসে তাহলে কিভাবে কাজ করে এই যন্ত্র? অল্টার ইগো সাবভোকালাইজেশন টেকনোলজির ব্যবহার করে। যখনই আপনি মনে মনে কোন কথা বলেন, চোয়াল সামান্য হলেও নড়াচড়া করে। মুখের নিচের দিকে এবং ঘাড়ের কাছের ত্বকের ওপর যে ইলেকট্রিকাল ইমপালস তৈরি হয় সেটিই পড়ে ফেলে এই যন্ত্র।

যন্ত্রটি দেখতে খানিকটা বাকানো হাড়ের মতো। কানের পাশে লাগানো এই যন্ত্র ছুঁয়ে থাকে থুতনির কাছের চোয়াল এবং নিচের ঠোঁট। যদিও সাবভোকালাইজেশনকে শব্দে রূপান্তরিত করা কোনো নতুন ভাবনা নয়, তবে অর্ণব কাপুর ও তার সহযোগীরা খুঁজে বের করেছেন মুখের এমন সব অংশ যেখান থেকে সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ভাইব্রেশন গ্রহণ করতে পারবে এই যন্ত্র।

 

ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে কিনা, জানা যাবে দেড় মিনিটে

ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন দ্বার উন্মোচন হলো। এক পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র নব্বই সেকেন্ডে অর্থাৎ দেড় মিনিটেই জানা যাবে কারো ত্বকের ক্যান্সার আছে কিনা। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা ক্যান্সার শনাক্ত করার এই নতুন পরীক্ষা চালু করেছেন।

গবেষকরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির ত্বকে মেলানোমা অর্থাৎ ত্বকে মেলানিন নামে যে পদার্থ আছে তার কোষে কোনো ধরণের টিউমার তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কিনা, দেড় মিনিটেই এই পরীক্ষা তা বলে দিতে পারবে।

এই টিউমারই পরবর্তীতে ত্বকের ক্যান্সার তৈরি করে।

কোন ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, ত্বকে আঁচিল, তিল বা আঘাতের চিহ্ন, চুলের রঙ এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্ন থাকে টেস্টে।

বলা হচ্ছে, পরীক্ষাটি খুবই নির্ভুল।

ত্বকের ক্যান্সারের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় গবেষণাগারে এই টেস্ট বা পরীক্ষা উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত গবেষণাটি এবং এই টেস্টের কথা অস্ট্রেলিয়ার জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে প্রকাশিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে মেলানোমা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচজন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাযন।

পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে এই ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয় মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে এক শতাংশ মানুষ জীবনে একবার এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

ত্বকের ক্যান্সার ঠিক কি কারণে হয়, সেটি নির্দিষ্ট করে জানা যায় না। তবে সূর্য রশ্মি এবং বংশগত কারণকে এজন্য দায়ী করা হয়। এছাড়া যাদের ত্বকে তিল বেশি তাদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে টিউমার শনাক্ত করা গেলে, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫