ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

ধর্ম-দর্শন

সবাইকে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে চার্চকেই মসজিদে রূপান্তর করলেন বিশপ

মোঃ শরিফুর রহমান

০৮ এপ্রিল ২০১৮,রবিবার, ১৬:৩৬


প্রিন্ট
সবাইকে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে চার্চকেই মসজিদে রূপান্তর করলেন বিশপ

সবাইকে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে চার্চকেই মসজিদে রূপান্তর করলেন বিশপ

চার্লস ওকাওয়ানি ছিলেন কেনিয়ার হোমা বে শহরের এক চর্চের বিশপ। তার নিজের প্রতিষ্ঠিত সেই চার্চে খ্রিষ্টান নারীদের অশোভন পোশাক পরিধান তাকে ইসলামের পথে ধাবিত করে। 

গডস কল নামের ওই চার্চের বিশপ জানান, তিনি তার চার্চে নারীদের অশোভন পোশাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেননি। তিনি এখন তার চার্চকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছেন।
কেনিয়ার সংবাদমাধ্যম নাইরোবিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চার্চটি পূর্ব আফ্রিকার নিয়ালগোসি গডস কল চার্চ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটির নাম নিয়ালগোসি জামিয়া মসজিদ।
ওকাওয়ানি বলেন, বিশপ হিসাবে কাজ করার সময আমি ঈশ্বরের বাণী প্রচারের জন্য মালিঙ্গি, মোম্বাসা, নাইরোবি ও তানজানিয়া ভ্রমণ করি। এসব এলাকার খ্রিস্টান ও মুসলমানদের আচরণ সম্পর্কে অধ্যয়ন করে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, ইসলামই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম।

ওকাওয়ানির মতে পোশাক নিয়ে বাইবেলের শিক্ষার নিরুৎসাহ যৌন বাসনাকে অনুপ্রাণিত করে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, কিছু নারী মিনিস্কার্ট এবং এ ধরনের আরো কিছু জামাকাপড় পরেন; যা তাদের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করে দেয়। অশোভন পোশাক পরা মহিলাদের কারণেই চার্চের যাজকেরা প্রলুব্ধ হয়ে থাকে। আমি যখন অশোভন পোশাক পরাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করতাম, তখন কিছু মানুষ মনে করত আমি ভুলের মধ্য ছিলাম।

কিসি প্রদেশের একজন মুসলিম নেতাকে মনোবাসনার কথা প্রকাশ পর থেকেই ইসলামের পথে ওকাওয়ানির যাত্রা শুরু হয়। তিনি তাকে মোস্তফা সাওক নামে একজন ইমামের কাছে নিয়ে যান এবং তার মুসলিম হওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।

২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ও কন্যাকে সাথে নিয়ে ওই চর্চের ২৩ সদস্যসহ ওকাওয়ানি ইসলাস ধর্ম গ্রহণ করেন। ৬৫ বছর বয়সী ওকাওয়ানি ইসলাম গ্রহণ করার পর নিজের নাম পরিবর্তন করে ইসমাইল ওকাওয়ানি রেখেছেন।

তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৬৩ জন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই তারা মসজিদটি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
ওকাওয়ানি এখন ইসলাম ধর্ম-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নেয়ার চেষ্টা করছেন; যাতে তিনি আল্লাহর বাণী প্রচার করতে পারেন।

কেনিয়ার নায়ানজা প্রদেশের শেখ ওমর আল বশির জানান, একটি চার্চকে মসজিদে পরিণত করার তিনটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, যখন কোনো চার্চের মালিক খ্রিস্ট ধর্ম ছেড়ে মুসলমান হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চার্চকে ইসলাম ধর্মের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। দ্বিতীয়ত, মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক চার্চ ক্রয় করার মাধ্যমে এবং তৃতীয় উপায় হলো যখন মুসলিম সম্প্রদায় এমন জমি কিনে নেয় যেখানে কোনো চার্চ বিদ্যমান থাকে। পরে সেখানে তারা মসজিদ নির্মাণ করতে পারে।

বশির বলেন, ওকাওয়ানি এবং তার প্রাক্তন চার্চের গুরুজনেরা এটির নিবন্ধন করেছে। বর্তমানে আমরা নিবন্ধনের বিবরণে কিছুটা পরিবর্তন করতে যাচ্ছি; যাতে মসজিদটি যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়।
তিনি ওই এলাকায় বসবাসরত অন্য খ্রিস্টানদেরকেও ইসলামে যোগদান করার জন্য আহ্বান জানান।
মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান আসমান ওগোন্দি জানান, মসজিদের প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখতে তারা এটির পুনঃনির্মাণ করতে যাচ্ছেন। এজন্য তারা সম্পদ সংগ্রহ করছেন।

মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করা হলে এটি হবে তাদের ওয়ার্ডের প্রথম মসজিদ। মসজিদটির কোষাধ্যক্ষ সেরো বলেন, ওকাওয়ানির প্রচেষ্ঠা অনেক খ্রিষ্টানকে ইসলামের পথে আনতে সাহায্য করবে। তারা দেখতে পাবে যে ইসলাম শুধু নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের জন্য নয়। ইসলাম সবার জন্য।

তিনি আরো বলেন, ইসলামের বিধি নিষেধ সম্পর্কে মানুষকে বুঝতে হবে। ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ্ কোনো নিরপনাধ মানুষকে হত্যা করা পছন্দ করে না।

সূত্র : এসডিই

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫