ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

অপরাধ

এখনো শিউরে ওঠেন লাভলী ভিলার বাসিন্দারা

পীরেরবাগে পুলিশ হত্যা

আমিনুল ইসলাম

০৭ এপ্রিল ২০১৮,শনিবার, ২৩:৪৩


প্রিন্ট
এখনো আঁতকে উঠছে লাভলী ভিলার বাসিন্দারা

এখনো আঁতকে উঠছে লাভলী ভিলার বাসিন্দারা

মাঝরাতে এখনো ভয়ে শিউরে উঠেন মিরপুরের মধ্যপীরেরবাগের লাভলী ভিলার বাসিন্দারা। চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন যাচ্ছে তাদের। শিশুরা সেই রাতের মুহুর্মুহু গুলির শব্দ, লাশ ও রক্তের কথা মনে করে ভয়ে আঁতকে ওঠে। আর বয়স্করা আতঙ্কের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে শঙ্কিত। যার কারণে এখনো স্বাভাবিক হতে পারছেন না লাভলী ভিলার বান্দিারা।
গত ১৯ মার্চ রাত ১২টার দিকে এই বাড়ির দ্বিতীয় তলার চিলেকোঠায় থাকা একটি আস্তানায় অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ডিবির ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন ওরফে জাহাঙ্গীর। এরপর থেকে ওই বাড়িতে চলতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের আনাগোনা। ওই সময় বাড়িটির নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলায় ছাদের চিলেকোঠায় ভাড়াটিয়া ছিল। ঘটনার পর চিলেকোঠায় থাকা সন্ত্রাসী হাসানের পরিবার অন্যত্র চলে যায়। তবে নানা কারণে বাধ্য হয়ে থেকে যেতে হয় নিচ তলার পাঁচটি পরিবারকে।
মিরপুর মধ্যপীরেরবাগের ১০৫/১/এ নম্বর লাভলী ভিলা নামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিচ তলায় পাঁচটি পরিবার বাস করছে। তবে দ্বিতীয় তলা ও ছাদের চিলেকোঠায় কোনো পরিবার নেই। দুটি জায়গাতেই তালা লাগানো। বসবাসকারীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বসবাসে নিষেধাজ্ঞা জারি না করলেও প্রতিদিন কয়েকটি টিম এসে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে যায়। এ ছাড়া ঘটনার দিন ওই ভবনে বসবাসকারী পুরুষদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে পাঁচ দিন থানায় রাখার পর আবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওই বাড়ির নিচ তলায় পাঁটি রুম রয়েছে। এর প্রতিটি রুমে একটি করে পরিবার থাকে। ৫ নম্বর রুমের বাসিন্দা রাবেয়া জানান, তার স্বামী জয়নাল তরকারির ব্যবসা করেন। ঘটনার ওই রাতে তারা বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। দরজা বন্ধ থাকায় পুলিশের উপস্থিতি প্রথমে বুঝতে পারেননি। তবে পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ ও পুলিশের ডাকাডাকি শুনে তড়িঘড়ি উঠে পড়েন। এরপরই দেখতে পান রক্তমাখা একজনকে ধরাধরি করে বের করছে কয়েকজন পুলিশ। পরে তিনি জানতে পারেন গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তি পুলিশের সদস্য। একই ভবনের ছাদের চিলেকোঠায় থাকা হাসান তাকে গুলি করেছে। তিনি বলেন, সেদিনের গুলির শব্দ, রক্তাক্ত পুলিশ সদস্য ও অভিযানের নানা দৌড়ঝাঁপ দেখে ভয়ে ঘাবড়ে যান তারা। আজো সেই ভয় তাড়া করে ফিরছে তাদের। বিশেষ করে শিশুরা এখনো ঘুমের মধ্যে চমকে উঠছে। তারা ভাবতেই পারেনি এই বাসায় কোনো সন্ত্রাসী থাকতে পারে।
রাবেয়া আরো বলেন, ঘটনার রাতেই তার স্বামী জয়নালকে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর থেকে তাকে ছাড়ানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। চার দিন পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে এই বাসায় কী হয়েছিল তা তিনি বলতে পারেন না। তবে প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো-না-কোনো সংস্থার লোক আসে। তাদের বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কেউ কেউ বলেন, আপনারা এখনো আছেন, বাসা ছাড়েননি। রাবেয়া বলেন, সামান্য আয়ের সংসার। সবকিছু মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় তারা থাকেন এই বাসায়। এখন অন্যত্র যেতে হলে অনেক টাকার দরকার। এই টাকায় আর কোনো জায়গায় বাসা ভাড়া পাওয়া মুশকিল। তাই ভয় পেলেও বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে ঘটনার পর হাসানের পরিবারসহ কয়েকজন ভাড়াটি চলে গেছে।
এ ব্যাপারে ডিবির এডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল নয়া দিগন্তকে বলেন, ইন্সপেক্টর জালাল হত্যাকাণ্ডে হত্যা মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হাসানকে গ্রেফতারে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এক পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় হাসান। তার সহযোগী মানিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। মানিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ায় আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, এই মামলার উল্লেখযোগ্য আর তেমন কোনো আসামি নেই। তবে হাসান ও মানিকের সাথে অন্য যারা অপরাধের সাথে জড়িত ছিল তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। রাসেল জানান, ওই বাড়ির একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় গুলিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। এটা ছোট কোনো বিষয় নয়। তাই বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওই বাড়িতে যেতে হয়। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাড়ির অন্য বাসিন্দারা এই অপরাধের সাথে জড়িত নন। তারা অপরাধী না হলে তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে গুলির শব্দ বা রক্ত দেখে ভয় পাওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।

 

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫