স্থানীয়দের চিকিৎসায় সিরিয়ায় হাসপাতাল চালু করা হবে : এরদোগান
স্থানীয়দের চিকিৎসায় সিরিয়ায় হাসপাতাল চালু করা হবে : এরদোগান

স্থানীয়দের চিকিৎসায় সিরিয়ায় হাসপাতাল চালু করা হবে : এরদোগান

আনাদলু এজেন্সি ও আল-জাজিরা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, তুরস্ক এবং রাশিয়া যৌথভাবে সিরিয়ার তেল আবিয়াদে হাসপাতাল চালু করবে। সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটা থেকে উদ্ধার করা বাসিন্দাদের চিকিৎসা দেয়া হবে সেখানে।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগানের পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এ সময় এরদোগান বলেন, তুরস্ক এবং রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী মিলে মেডিক্যাল সেবা দেবে। সিরিয়াতে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তুরস্ক, ইরান এবং রাশিয়া একমত হয়েছে।

ইরান এবং রাশিয়া রয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে। অন্যদিকে দেশটির বিরোধী গোষ্ঠীর পক্ষে রয়েছে তুরস্ক। বর্তমানে সিরিয়ার পরিস্থিতি একেবারে মানবেতর হয়ে পড়ায় তারা সঙ্কট নিরসনে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন।

ইতোমধ্যে তুরস্কের প্রথম পরমাণু কেন্দ্র ‘আকুইয়ু’উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির মারসিন প্রদেশে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে আঙ্কারা এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তুরস্কের এ পরমাণু কেন্দ্রটি নির্মাণ করে দিচ্ছে রাশিয়া। এ উপলক্ষে আঙ্কারা জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় শহর মারসিনে।

আকুইয়ু পরমাণু স্থাপনাটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোজাটম নির্মাণ করবে। তুর্কি এ স্থাপনায় চারটি ইউনিট থাকবে এবং প্রতিটি ইউনিট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

পরমাণু স্থাপনাটি নির্মাণ করতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার কোটি ডলার এবং প্রতিষ্ঠানটি বছরে আট হাজার ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। পরমাণু স্থাপনাটি নির্মাণের বিষয়ে ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের চুক্তি হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে যা থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পরবর্তীতে বাকি দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে।
স্থাপনাটি পুরোপুরি চালু হলে সেখান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা তুরস্কের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতকরা ১০ ভাগ। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে শুধু ইস্তাম্বুল শহরেই।

পরমাণু স্থাপনাটি চালু করার জন্য প্রাথমিক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সাল এবং পূর্ণ মাত্রায় চালু হবে ২০২৫ সালে। স্থাপনাটি নির্মাণের জন্য পুরোপুরি কাজ শুরু হলে ১০ হাজার লোক নিয়োগ পাবে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে সেখানে সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তি চাকরির সুযোগ পাবে।

এ স্থাপনায় কাজ করার জন্য তুরস্কের ২৪৮ জন ছাত্রকে রাশিয়ায় লেখাপড়া করানো হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে ৩৫ জন ছাত্র গ্র্যাজুয়েট হয়েছে যাদের লেখাপড়া শেষ করতে সময় লেগেছে সাড়ে ছয় বছর।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.