তুরস্কের পরমাণু স্থাপনা আকুইয়ু'র পরিকল্পিত কর্মচিত্র
তুরস্কের পরমাণু স্থাপনা আকুইয়ু'র পরিকল্পিত কর্মচিত্র

রাশিয়ার হাত ধরে নির্মিত হচ্ছে তুরস্কের প্রথম পরমাণু স্থাপনা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তুরস্কের প্রথম পরমাণু স্থাপনা ‘আকুইয়ু’ নির্মাণ করে দেবে রাশিয়া এবং এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আংকারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় শহর মারসিনে।

আকুইয়ু পরমাণু স্থাপনাটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোজাটম নির্মাণ করবে। তুর্কি এ স্থাপনায় চারটি ইউনিট থাকবে এবং প্রতিটি ইউনিট ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

পরমাণু স্থাপনাটি নির্মাণ করতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার কোটি ডলার এবং প্রতিষ্ঠানটি বছরে আট হাজার ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। পরমাণু স্থাপনাটি নির্মাণের বিষয়ে ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের চুক্তি হয়েছিল।

আল-জাজিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে যা থেকে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। পরবর্তীতে বাকি দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করা হবে। স্থাপনাটি পুরোপুরি চালু হলে সেখান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে যা তুরস্কের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার শতকরা ১০ ভাগ। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে শুধু ইস্তাম্বুল শহরেই।

পরমাণু স্থাপনাটি চালু করার জন্য প্রাথমিক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সাল এবং পূর্ণ মাত্রায় চালু হবে ২০২৫ সালে। স্থাপনাটি নির্মাণের জন্য পুরোপুরি কাজ শুরু হলে ১০ হাজার লোক নিয়োগ পাবে আর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে সেখানে সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তি চাকরির সুযোগ পাবে। এ স্থাপনায় কাজ করার জন্য তুরস্কের ২৪৮ জন ছাত্রকে রাশিয়ায় লেখাপড়া করানো হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে ৩৫ জন ছাত্র গ্রাজুয়েট হয়েছে যাদের লেখাপড়া শেষ করতে সময় লেগেছে সাড়ে ছয় বছর।

তুরস্ক-ইরান-সিরিয়ায় পরমাণু হামলা হলে রাশিয়া বসে থাকবে না
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মিত্রদেশগুলোর ওপর পরমাণু হামলা হলে তা রাশিয়ার ওপর হামলা বলে বিবেচনা করা হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা চালানো হবে। গত ১ মার্চ রাজধানী মস্কোয় বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য নেশন’ বক্তৃতায় পুতিন এ কথা বলেন।

বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হচ্ছে তুরস্ক, ইরান ও সিরিয়া। পুতিনের এ বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্ক, ইরান বা সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা হলে রাশিয়া পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, মর্কিন নতুন নীতিতে প্রচলিত কোনো হামলা হলে এমনকি সাইবার হুমকির জন্যও আমেরিকা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি এমন হলে রাশিয়াও পাল্টা হামলার অধিকার রাখে, সেই হামলা রাশিয়ার ওপর হোক কিংবা মিত্রদেশগুলোর ওপর হোক। প্রচলিত অস্ত্রের জবাব প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে দেয়া হবে এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের জবাব দেয়া হবে ঠিকই একই রকম অস্ত্র দিয়ে।

পুতিন আরও বলেন, শত্রুরা যে রকম সাইজের বোমা দিয়ে হামলা করবে রাশিয়াও সেই সাইজের বোমা দিয়ে পাল্টা হামলা করবে। ছোট হলে ছোট পরমাণু বোমা দিয়ে, মাঝারি হলে মাঝারিটা দিয়ে আর বড় সাইজের হলে রাশিয়াও বড় সাইজের বোমা দিয়ে হামলা করবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ কিছু কৌশলগত অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা করেছে যা প্রতিহত করা যাবে না। এসব অস্ত্রের কাছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর।

পুতিন বলেন, এ ধরনের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- পরমাণু শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, পরমাণু শক্তিচালিত ডুবো-ড্রোন এবং হাইপারসনিক সারমাত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যার সমকক্ষ কোনো ক্ষেপণাস্ত্র সারা বিশ্বে নেই।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা দীর্ঘপাল্লার পরমাণু অস্ত্রবহন করতে সক্ষম এবং প্রকৃতপক্ষে এ পাল্লার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে হামলা চালানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আমি তাদের বলতে চাই- একতরফা সুবিধা নেয়ার জন্য গত ১৫ বছর ধরে যারা অস্ত্র প্রতিযোগিতা করেছে, আমাদের দেশের উন্নয়ন আটকে দেয়ার জন্য বেআইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, আপনারা যা করতে চেয়েছিলেন তার সবই করেছেন কিন্তু রাশিয়াকে আটকে রাখতে আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.