ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

প্রযুক্তি দিগন্ত

গ্রাহক তথ্য নিয়ে বিপাকে ফেসবুক

৩১ মার্চ ২০১৮,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সম্প্রতি ফেসবুকের পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুক গ্রাহকদের এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) এ বিষয়ে এরই
মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ফেসবুকের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সিনেটের বিচার বিভাগীয়
কমিটি ফেসবুক সিইও মার্ক জাকারবার্গ, গুগল সিইও সুন্দর পিচাই ও টুইটার সিইও জ্যাক ডরসিকে তলব করেছে। ফেসবুকের
বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে লিখেছেন সুমনা শারমিন
গ্রাহক তথ্যের গোপনীয়তা বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বিচার বিভাগীয় কমিটি আগামী ১০ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেছে। এ জন্য ইতোমধ্যে মার্কিন সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটি ফেসবুক, গুগল ও টুইটারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) তলব করেছে। এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে হাজির হবেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। অনেক দিন ধরেই ফেসবুক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণ করছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। অনুমতি না নিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কল ও টেক্সটসংক্রান্ত কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। গত সপ্তাহে ডিলান ম্যাককে নামে নিউজিল্যান্ডের এক নাগরিক তার কাছ থেকে নেয়া তথ্যের একটি আর্কাইভ ফেসবুক থেকে নামিয়ে নেন। তথ্যগুলো ঘাঁটতে গিয়ে ম্যাককেই আবিষ্কার করেন, ফেসবুকের কাছে তার গত দুই বছরের ফোনকলের মেটাডাটা রয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত রয়েছে নাম, ফোন নাম্বার এবং ইনকামিং ও আউটগোয়িং প্রতিটি কলের স্থায়িত্বকালও।
ফেসবুক অনুমতি ছাড়া লগইন করে মানুষের কল ও এসএমএস তথ্য সংরক্ষণ করছে। তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং আপনি যখন মেসেঞ্জার কিংবা ফেসবুক লাইট বা অ্যান্ড্রয়েডে সাইনআপ করছেন, তখন আপনাকে বারবার কন্টাক্ট ও টেক্সট হিস্টোরি আপলোডের জন্য সুযোগ দেয়া হয়। আপনি তখন চাইলে সব ক্ষেত্রেই এ সুযোগ নিতে পারেন বা এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে যদি আপনি ফিচারটি চালু করেন, তাহলে ফেসবুক নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংরক্ষণ করে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করার বিষয়টি প্রকাশ পেলে গ্রাহক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। এ ঘটনায় ফেসবুক ক্ষমাও চেয়েছে। ব্যবহারকারী, বিজ্ঞাপনদাতা, বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রাহক তথ্য বেহাত হওয়ার খরব প্রকাশ পেলে ফেসবুকের শেয়ারমূল্যে ব্যাপক ছন্দপতন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ১৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে ‘ফেসবুক মুছে ফেলুন’ এমন হ্যাশট্যাগ সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এ আন্দোলনের সাথে একমত পোষণ করে তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ইনকরপোরেশনের সিইও এলন মাস্ক। ফেসবুক গ্রাহকের এসব তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে কিভাবে গেছে, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গকে কংগ্রেসের সামনে হাজির হতে বলেছেন। এ দিকে মার্ক জাকারবার্গকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন দেশটির পার্লামেন্টারি মিডিয়া কমিটি।
ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ জানান, বর্তমানে ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ২০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধিতে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ফেসবুক ও অন্য ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ফেসবুক ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানান, শুনানিতে হাজির হওয়া বিষয়ে সিনেট কমিটির কাছ থেকে তারা একটি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে হাজির হবেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ।
গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা ও নজরদারি বিষয়ে ফেসবুকের অতীত ও ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করতে মার্ক জাকারবার্গকে সিনেট কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। গ্রাহক তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়েও এতে আলোচনা করা হবে। ফেসবুক গ্রাহকের কী পরিমাণ তথ্য বেহাত হয়েছে, সে বিষয়টিও শুনানির সময় যাচাই করে দেখা হবে। কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলে গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখা যাবে, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড কিভাবে আরো স্বচ্ছ করা যায়, তাও আলোচনায় স্থান পাবে।
সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, আমি ফেসবুক, গুগল ও টুইটারের সফলতার পক্ষে। তবে তাদের এ সফলতা দায়িত্ববোধের সৃষ্টি করেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচন বিষয়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেসবুক মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে এসব তথ্য চলে গেছে। এ কারণে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা মার্কিন নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে প্রযুক্তিকোম্পানিগুলোর ওপর প্রয়োগ করা যাবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫