ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

আলোচনা

কবিতার বিস্ময় পল মালডুন

মীম মিজান

২৯ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৫:০৪ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৫:১৩


প্রিন্ট

১৯৩৩ সালে রাজা পঞ্চম জর্জ কর্তৃক প্রবর্তিত কাব্য পুরস্কারের নাম ইনস গোল্ড মেডেল ফর পোয়েট্রি। ডাব্লিউএইচ অডেন, সিগফ্রিড স্যাসুন, ফিলিপ লারকিন, স্টিভি স্মিথ প্রমুখের ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের পুরস্কারটি পেলেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কবি পল মালডুন। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড থেকে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পাওয়া দ্বিতীয় কবি তিনি। মালডুন এর আগে ২০০১ সালে এ পুরস্কার পান প্রখ্যাত মাইকেল লংলে।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের আরমা কাউন্টিতে জন্ম নেয়া পল মালডুন পড়াশোনা করেছেন কুইনস ইউনিভার্সিটিতে। কৃষক-শিক্ষিকা দম্পতির সন্তান মালডুন শিক্ষা জীবনে অনেক প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছেন। কর্মজীবনে এ কাব্যপ্রেমিক কবি, সম্পাদক, সংগঠক ও সাহিত্যের শিক্ষক বহুবর্ণিলতা ছুঁয়েছেন। বিবিসিসহ অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও অক্সফোর্ড, প্রিন্সটন ইউভার্সিটিসহ খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে করেছেন অধ্যাপনা। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কবিতা বিষয়ের অধ্যাপনার পদটি অলঙ্কৃত করেছিলেন ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত। যুক্তরাজ্যের চড়বঃৎু ঝড়পরবঃু-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মালডুন।
মালডুনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। বড় আকারের ১২টির বেশি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে মালডুনের। শিশুদের রচনা ছাড়াও তিনি বহু গান লিখেছেন। এক সময় দুটি রক ব্যান্ডে গিটারও বাজিয়েছেন। তিনি একজন বহুমাত্রিক লেখক। অন্যদের কর্মকে অনুবাদ, সমালোচনা গদ্য, গীতিকবিতাসহ সাহিত্যের প্রায় শাখায় তিনি সফল পদচারণা করেছেন। ২০০৩ সালে ‘ময় স্যান্ড অ্যান্ড গ্র্যাভল’ কাব্যসঙ্কলনের জন্য তিনি পুলিৎজার পুরস্কার পান। ১৯৮১ সালে তিনি রয়েল সোসাইটি অব লিটারেচারের সদস্য নির্বাচিত হন। আমেরিকান একাডেমি অব আর্স্টস অ্যান্ড সাইন্সেস এর সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে টি এস ইলিয়ট পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে আইরিশ টাইমস পোয়েট্রি পুরস্কারে ভূষিত হন। মালডুন ২০০৪ সালে শেক্সপিয়র পুরস্কারসহ অনেক সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেন।
নিউ ইয়র্কের ম্যাগাজিনে কবিতা সম্পাদনার কাজ করতেন। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে ওই কাজ তিনি ছেড়ে দেন। কুইনস গোল্ড মেডেলের বিচারক কমিটির চেয়ারপারসন কবি ক্যারল অ্যান ডাফি বলেন, বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি ও প্রভাবশালী কবিদের অন্যতম বলে বিবেচিত পল মালডুন। কবি সিমাস হিনির নামের পাশেই তার নাম উচ্চারিত হয়।
মালডুনের কবিতাকে প্রায়ই হ্যানেইর কবিতার সাথে তুলনা করা হয় যিনি ১৯৯৫ সালে নোবেল জয় করেন। মালডুন হ্যানেইর একজন প্রিয় ছাত্র ও বন্ধু। হ্যানেই এমন একজন বিখ্যাত কবি যার কবিতা ব্যাপকভাবে পাঠক ও ক্রেতা দ্বারা সমাদৃত। চলতি ২০১৮ সালে মালডুনের হাতে এই সম্মানজনক পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাজ্যের রানী।
প্রভাবশালী এই আইরিশ কবি পল মালডুনের কাব্য সমাহার থেকে বাংলাভাষী কাব্যরসিকদের জন্য দুটো কবিতা ভাষান্তর করা হয়েছে।

কেনো ব্রাউনলি পরিত্যাগ করল
কেনো ব্রাউনলি পরিত্যাগ করল আর কোথায় সে গেল?
এটা এখন পর্যন্ত কী রহস্য!
একটি লোক যদি দৃশ্যমান হয়, সেটি সে;
দুই একর যবক্ষেত,
একটি আলুক্ষেত, চারটি বলদ,
একটি দুগ্ধবতী গাভী, একটি কালো খামারবাড়ি।
তাকে সর্বশেষ লাঙ্গল চাষ করতে যেতে দেখা গেছে
দীপ্ত ও দ্রুত এক মার্চের প্রভাতে।
দ্বিপ্রহরে ব্রাউনলি বিখ্যাত ছিল;
তারা সবকিছুই পরিত্যক্ত দেখতে পেল,
সর্বশেষ অভগ্ন পরিচ্ছদসহ,
স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় তার জোড়া কালো অশ্ব,
তাদের ওজনকে চালান দিচ্ছে এক পা থেকে অন্য পায়ে,
আর ভবিষ্যৎ পানে চেয়ে আছে।

অসামাজিক ব্যক্তি
শামুকটি নড়াচড়া করছে
হোভেরের মতো
তার নিজের একটি গদির মতো নরম ঢাকনি ধরে
তার গোপনীয়তা ভাগাভাগী করে।
কাঁটাচয়া ব্যক্তির সাথে।
কাঁটাচয়া ব্যক্তিটি তার গোপনীয়তা কারো সাথে ভাগাভাগী করে না।
আমরা বলি, হে কাঁটাচয়া, তোমার গোপনীয়তা থেকে বেরিয়ে এসো।
তাহলে আমরা তোমাকে ভালোবাসব।
আমাদের কাছে কোনো ক্ষতির শঙ্কা নেই।
আমরা তাই শুনতে চাই,
যা তুমি বলতে চাও,
আমরা আমাদের জিজ্ঞাসার উত্তর চাই তোমার থেকে।
কাঁটাচয়া লোকটি কিছুই বলে না
বরং নিজের ভেতর নিজকে আবদ্ধ রাখে।
আমরা আশ্চর্য হয়ে বলি, কী কাটাচয়া লোক!
লুকানোর আছে, তাই বলে কেন আস্থাহীনতায় ভোগে?
আমরা প্রভুকে ভুলে গেছি
এই কণ্টকাকীর্ণ মুকুটের তলায়।
আমরা ভুলেই গেছি যে,
আবারো পৃথিবীতে প্রভুর বিশ্বাস আসবে।

 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫