ফেসবুকের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে!
ফেসবুকের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে!

ফেসবুকের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে!

আহমেদ ইফতেখার

সম্প্রতি ফেসবুকের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য বেহাত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করেছে। এ বিষয়টি প্রকাশ পেলে গ্রাহক তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। এ ঘটনায় ফেসবুক ক্ষমাও চেয়েছে। ব্যবহারকারী, বিজ্ঞাপনদাতা, বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের ওপর জরিপ চালিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অনলাইন এ জরিপে ২ হাজার ২৩৭ জন অংশ নিয়েছিলেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা প্রশ্নে ফেসবুকের প্রতি মার্কিনিদের আস্থা কমছে। অর্ধেকের কম উত্তরদাতা ফেসবুকের প্রতি আস্থা থাকার কথা জানিয়েছেন।

জরিপের তথ্য মতে, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা দিতে ফেসবুক আইন মেনে চলে, জরিপে অংশ নেয়া ৪১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এমনটা মনে করেন। অন্যদিকে, ৬৬ শতাংশ অ্যামাজন, ৬২ শতাংশ গুগল, ৬০ শতাংশ মাইক্রোসফট ও ৪৭ শতাংশ ইয়াহুকে বিশ্বাস করেন। এ সময়ে ‘ফেসবুক মুছে ফেলুন’ এমন হ্যাশট্যাগ সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এ আন্দোলনের সাথে একমত পোষণ করে তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ইনকরপোরেশনের সিইও এলন মাস্ক। ফেসবুক গ্রাহকের এসব তথ্য ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে কিভাবে গেছে সে বিষয়ে ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ জানান, ফেসবুক ও অন্য ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। বর্তমানে ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ২০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধিতে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। জরিপের তথ্য মতে, বিভিন্ন প্লাটফর্ম তাদের গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে পরিচালনা করছে, সে বিষয়টি তদারকিতে সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন অনেকে। ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতা জানান, তারা তথ্য পরিচালনায় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ চান। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.