ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

আন্তর্জাতিক সংস্থা

ওআইসি'র আর্মি অব ইসলাম নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরাইল

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৭ মার্চ ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৬:২০


প্রিন্ট
ওআইসি'র আর্মি অব ইসলাম নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরাইল

ওআইসি'র আর্মি অব ইসলাম নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরাইল

ইসরাইলের আগ্রাসন ঠেকাতে ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) সদস্য ৫৭টি মুসলিম দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিশাল সামরিক বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা করেছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ওআইসির সদস্য দেশগুলো যদি এই প্রস্তাবে সম্মত হয় তাহলে জেরুসালেম দখলে রাখা ইসরাইলি বাহিনীর জন্য অনেক কঠিন হবে। ‘আর্মি অব ইসলাম’ গঠনের উদ্যোগকে তাই গুরুত্বের সাথেই পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইল।

৫০ লাখের উপরে সদস্য নিয়ে গঠিত এ সেনাবাহিনী ‘আর্মি অব ইসলাম’ নামে পরিচিত হবে। ইতোমধ্যেই এ সেনাবাহিনী গঠনে ওআইসি ভুক্ত ৫৭ দেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, যারা ইসরাইলের আক্রমণ প্রতিরোধ, প্রয়োজনে দখল করার সমার্থ্য রাখবে।

ওআইসি’র সদস্যভুক্ত ৫৭টি দেশের সক্রিয় সৈন্য রয়েছে প্রায় ৫২ লাখ, সামরিক বাজেট প্রায় ১৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৪ জন, সক্রিয় সেনা রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার; বার্ষিক সামরিক বাজেট প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যুদ্ধ ও রক্তপাত বন্ধের উপায় খুঁজছে ওআইসি

মুসলিম দেশগুলোর আন্তঃসংসদীয় সম্মেলন তেহরানে শুরু হয়েছে। এবারের সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরাইলের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা এবং ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনসহ এ অঞ্চলে বিরাজমান যুদ্ধ ও রক্তপাত বন্ধের উপায় খুঁজে বের করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী বলে দাবিদার কয়েকটি দেশ তেহরান সম্মেলনে যোগ দেয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার আগ্রহ ওই সরকারগুলোর নেই।

ওই দেশগুলো অনুপস্থিত থাকলেও প্রায় ৪০টি দেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেয়া থেকে বোঝা যায়, তেহরান আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

গত সপ্তাহেও আরব ও পাশ্চাত্যের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তেহরানে নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ থেকে বোঝা যায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান যেসব কর্মসূচি ও প্রস্তাব উত্থাপন করেছে তার প্রতি বহু দেশের সমর্থন রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে কয়েকটি মুসলিম দেশের সরকারের মধ্যে মতবিরোধ বজায় থাকলেও মুসলিম দেশগুলোর আন্তঃসংসদীয় সম্মেলনে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মতভেদ দূর করা সম্ভব। এভাবে আঞ্চলিক যেকোনো সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এতে করে পশ্চিমা এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়বে না এবং নিজেরাই নিজেদের সংকট বা যে কোনো মতবিরোধের মীমাংসা করতে পারবে।

তেহরানে মুসলিম দেশগুলোর আন্তঃসংসদীয় সম্মেলন অনুষ্ঠান থেকে বোঝা যায়, ইরানসহ বহু দেশ নিজেদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে বিরাজমান যেকোনো বিরোধ মীমাংসার পক্ষপাতী। তেহরানে মুসলিম দেশগুলোর আন্তঃসংসদীয় সম্মেলন থেকে আবারো প্রমাণিত হয়েছে, বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসায় তারা বদ্ধ পরিকর।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫