ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

ফ্যাশন

পোশাকে ফুলের ছোঁয়া

এ কে রাসেল

২৬ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ১৪:১৯ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ১৫:০২


প্রিন্ট
পোশাকে ফুলের ছোঁয়া

পোশাকে ফুলের ছোঁয়া

পোশাকে ফুলের নকশা বহুল প্রচলিত একটি মোটিফ। এক সময় সুই-সুতার ফোঁড়ে ফুটিয়ে তোলা হতো ফুল ও লতাপাতার নকশা। আধুনিক যুগে এর সাথে যোগ হয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, মেশিন এমব্রয়ডারির মতো সব মাধ্যম। এ বছরের স্প্রিং-সামার কালেকশনে নতুন করে উপস্থাপন করা হচ্ছে সেই ফুলেল নকশা

আগের দিনে বাড়ির মেয়েরা বিভিন্ন সময় কামিজে কিংবা ওড়নায় ফুলের নানা রকম কারুকাজ করত। হতে পারে তা সুই-সুতার কৌশলী কোনো ফোঁড়, চুমকি-পুঁতি কিংবা লেইসের কারুকাজ। কিন্তু এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পোশাকের কাজের ধরনও বদলেছে। বর্তমানে শুধু সুই-সুতায় বোনা ফুলেই বাহারি নকশা নয়, কাপড়ের সৌন্দর্য বাড়াতে শিল্পীর রঙতুলির জনপ্রিয়তাও কম নয়। রঙ আর তুলির স্পর্শে ফুলের নকশায় বর্ণিল হয়ে ওঠে পোশাক।

হাতে আঁকা নকশার ক্ষেত্রে শাড়ির মূল আকর্ষণ থাকে আঁচলে। আর কামিজ ও কুর্তার ক্ষেত্রে সামনের অংশ এবং ব্লাউজের ক্ষেত্রে শুধু হাতায় পেইন্ট করা হয়। নতুন সংযোজন হিসেবে আছে হাতা-কাটা কোটিও। একেক শিল্পী একেকভাবে তাদের সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলেন পোশাককে সুন্দর করে সাজাতে। নকশা পাশ্চাত্যের মতো বাংলাদেশেও তৈরী পোশাকগুলোর মোটিফে ঘুরেফিরে এসেছে ফুল। সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপ, গাউনে রঙ মেলেছে ছোট বড় উজ্জ্বল পাপড়ির দল। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, জংলি ছাপার ফুল দেখে যারা নাক সিটকাতেন, তারাই পরম আগ্রহে কিনছেন ফুলেল ছাপের পোশাক। লিনেন, সুতি ও লন কাপড়ে উজ্জ্বল রঙের বড় বড় ফুলের নকশাগুলো বেশ রুচিশীল। চোখে দেখতেও আরাম লাগে।’ গজ কাপড়ের নিচে লাগানো রয়েছে নকশাদার লেস। ফুলের নকশা এখন এমনই নজরকাড়া যে মন হারাবেই। পশ্চিমা ধাঁচের কিংবা আধুনিক ছাঁটের তৈরি গাউন, স্কার্ট বা টপে ছাপা ফুলের নকশাগুলো সত্যিই দারুণ।

ফুল
‘ডিজিটাল, স্ক্রিন ও এমব্রয়ডারি- এই তিন ধারার নকশায় কাপড় তৈরি করা হয়। স্কার্ফ তৈরির জন্য বেছে নেয় মসলিন ও টিসি। সেখানেও থাকছে ফুলের ছাপা। সিল্ক, সামুজ সিল্ক, সাধারণ সুতি, লিনেন, জর্জেট, শিফন, ক্রেপ ও লন- সব ফেব্রিকেই পাবেন ফ্লোরাল মোটিফ।

কাপড়ের কাটছাঁট
ফুলের আকৃতি আর কাপড়ের ধরন বুঝে পোশাকে কাট ঠিক করতে হবে। ঝলমলে কাপড়ে আধুনিক ছাঁট মানায়, আর আরামদায়ক সুতিতে চেনা কাট। ফুলেল ছাপায় তৈরি পোশাকের কাটিং, প্যাটার্ন হতে হবে ট্রেন্ডি। যেমন টপসে সেমি বোট নেক, রাউন্ড নেক, রাউন্ড উইথ ফল, ব্র্যান্ড কলার বেশি মানানসই। বটমে দেখা যায় কার্ভের মধ্যে ভিন্ন কিছু কাটিং। গাউন, খাটো কামিজ, টরসোর মতো ড্রেসে ফ্লোরাল প্রিন্টের ব্যবহার মানানসই।

যার যেমন প্রিন্ট
যাদের গড়ন পাতলা, তাদের যেকোনো ছাপা নকশাতেই মানাবে। কিন্তু ভারী গড়নের মেয়েরা আজকাল ফ্রকের মতো চার দিকে ছড়ানো পোশাক বেশি পছন্দ করছেন। ঢোলা কিন্তু কলার দেয়া কুর্তা, বড় টপের সাথে মেঝেছোঁয়া স্কার্ট কিংবা লম্বা কোটির মতো দুই পরত দেয়া কামিজের ট্রেন্ড চলছে চার দিকে। এমন যেকোনো পোশাকে ফুলের ছাপ চমৎকার লাগে।
ঘন ফুলের নকশা বা ফুলের মোটিফটাই যদি মুখ্য হয়, তবে এক রঙের সালোয়ার, প্যান্ট বা পালাজ্জো ও ওড়না বাছাই করা ভালো। মিলিয়ে পরতে চাইলে ফুলের পাপড়ি থেকেই যেকোনো একটি রঙ বেছে নিতে পারেন।

শাড়িতে ফুলের নকশা
শাড়ি বাঙালি নারীর উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ। পোশাকের আধুনিকতার ক্ষেত্রে যত বৈচিত্র্য আসুক না কেন শাড়ির ঐতিহ্য আজো অটুট রয়েছে। ছয় গজের এই কাপড়ের মধ্যে খেলা করে কতই না নকশার কাব্য, আবার কখনো শিল্পীর তুলি শাড়িতে তার নকশা ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস পায়। যুগ যুগ ধরে শাড়ির নকশা, বুননে চলছে রঙবেরঙের, নতুনত্ব আর অভিনবত্বের খেলা। বর্তমানে ফুলের নকশায় তৈরি শাড়িগুলোর কদর অনেক বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে শাড়ির নকশায় প্রধান আকর্ষণ দুই রঙের ওপর করা কন্ট্রাস্ট ডিজাইন। কুচিতে এক রঙ থাকছে আর তার সঙ্গে ম্যাচিং করে বিভিন্ন শেড বা কখনো পুরোপুরি কন্ট্রাস্ট রঙে করা হয়েছে আঁচলের অংশ। কখনো হলুদ কুচির সঙ্গে রয়েছে গাঢ় নীলের কম্বিনেশন কখনো লেমন আর হলুদের কন্ট্রাস্ট। থাকছে পাড়, জরি, এমব্রয়ডারির জমকালো কারুকাজ পাড় ও আঁচল। কোনো কোনো শাড়ির জমিনে থাকছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট এমনকি টাইডাই। কোনোটা আবার পুরোটাই ফুলের প্রিন্ট। ডিজাইনারেরা তাদের নিজস্ব বুননের ডিজাইন দিয়ে তৈরি করেছেন শাড়ি। ফুল, কলকা, পানপাতা, ছোট বুটি, বড় বুটি বা কখনো জামদানি নকশা ফুটিয়ে তুলছেন বুননে। কখনো একই রঙে আবার কখনো কন্ট্রাস্ট কালার ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয় বুননের নকশা। এসব শাড়ি বাজারের অন্য শাড়িগুলো থেকে কিন্তু একেবারেই আলাদা। এ কারণে তা ফ্যাশনেও ভিন্নতা আনে।

কামিজে ফুলের সাজ
সিঙ্গেল কামিজে পুঁতি, চুমকি, বোতাম ও লেইসের বাহারি ব্যবহার তরুণীদের নজর কাড়ছে। এক্সেসরিজ বা কাপড় যেমনই হোক নকশা হিসেবে ফুলের ডিজাইনই প্রাধান্য পাচ্ছে। পাশাপাশি এন্ডি কটন, তাঁত, হাফ সিল্ক, অরগ্যান্ডি, সিল্ক, মসলিন কাপড়ের কামিজেও করা হচ্ছে হাতের কাজ। তরুণীরা ট্র্যাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি এই নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গেও সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। শুধু হাতের কাজ নয়, কামিজে ফুলের প্রিন্টেরও কদর বেড়েছে। কখনো সুতা দিয়েই জামায় নানা ফুলের সমাহার ঘটছে। লাল থেকে শুরু করে নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, কমলা, মেজেন্টা সব ক’টা রঙই থাকছে। সালোয়ার-কামিজে জমকালো ভাব আনতে কামিজের কাজগুলো আরো ভারী রাখা হচ্ছে। গলায় উজ্জ্বল রঙের সুতার কাজ থাকছে। কোনো কামিজের সম্পূর্ণ বডিতে আবার কোনোটির নিচের অংশে সুতার মোটা ও ভরাট ডিজাইন, পট্টি ও লেইস ব্যবহার করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না পেছনের অংশও।

কামিজের হাতায়ও থাকছে ভারী কাজ। সালোয়ার হচ্ছে কামিজের সাথে কনট্রাস্ট করে। ওড়নায় থাকছে হালকা কাজ। বর্তমানে এক রঙা পোশাকের ফ্যাশন বদলে একই পোশাকে কয়েক রঙের ব্যবহার বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই কখনো এক রঙা কামিজের বডিতে একই রঙের কয়েকটি শেডের কাজ করা হয়েছে। আবার কখনো দেয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের কাজ। কামিজের কাজের সাথে রঙ মিলিয়ে করা হয়েছে সালোয়ার এবং ওড়নার ডিজাইন। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পাচ্ছে ফুলের নকশা। এসব পোশাকে শুধু দেখতেই সুন্দর লাগে না, বরং হয়ে ওঠা যায় ফ্যাশনেবল এবং অনন্য।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫