প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ
মায়া

মোমবাতি জ্বালিতে যখন কাঁদো;
ফড়িংয়ের দুঃখগুলো একা,
তুমি অপঠিত কবিতার চেয়েও নিবিষ্ট চাঁদ,
আহ! ফড়িং আর তুমি
কেমন এক কলসি জলে ফেল পা,
তাবৎ এই করাতকলের দিনে
তুমি, আমি, সে বড্ড আনকোরা।
নগরের চিল যখন আকাশ ছেড়েছে
তোমার টানে বুঝে গেছি
তুমি কতটা অমীমাংসিত, অপাঙ্ক্তেয়।
সবুজ সঙ্কেতের ভেতর দিয়ে যাওয়া
শৈশবী প্রেমের হুল বিঁধে
আড়ষ্ট বেদম অকালপক্বের মতো
সুখে থাকার অসুখ যখন ভুলে বসি;
তোমার প্রেম তখন পোড়াতে থাকে নিবিড়।

আপন রহমান
অন্তহীন প্রতীক্ষা

ছেঁড়া বুকপকেট জুড়ে আজ
রাজকীয় বসন্ত,
ভূমিহীন জমিদার আমি
ওষ্ঠের ভাঁজে-এক আকাশ অভিমান
রোদ পালানো মেঘের নিচে দাঁড়িয়ে
ধ্রুপদী বিষাদের রঙে খুঁজে ফিরি
নিশিতার স্মৃতি
জীবন এখন শুকিয়ে যাওয়া নদী
হৃদয়ের ক্যানভাসে
জলরঙে আঁকা
হতাশার সুবিশাল মূর্তি
বৃত্তবন্দী আজ
আমার ঘুণে ধরা স্বপ্নগুলো
পাওয়া-না-পাওয়ার খাতাজুড়ে
অনর্থক আঁকিবুকি;
তবু বেঁচে থাকা তার আশায়
অন্তহীন প্রতীক্ষার পাহাড় বুকে নিয়ে।
ডুমুরিয়া, খুলনা

হাসান নাজমুল
সবুজ

ওই অবারিত মাঠের সবুজে সংগ্রাম নেই
সবুজের বুকে বেড়ে উঠবার প্রয়াসও নেই;
বর্ষার মওসুমে শান্তির ফোয়ারা বয়ে চলে পথে
রোদেলা দিনেও ছায়ার মুকুট পরে বসে থাকে,
গহিন রাতেও ঘূর্ণিঝড় এসে নোয়ানো মাথায়
প্রশংসা করে চির সবুজের; সবুজের বুকে
শুধু বিদ্যমান থাকে ভালোবাসা, বুকভরা আশা,
যে আশা এবং চির ভালোবাসা কখনো মরে না
কখনো ঝরে না এক বিন্দু প্রেম; শুধু মমতার
বসত বানিয়ে বিরাজ করতে থাকে দুনিয়ায়;
হে মানুষ, এসো আমরা সবুজ হয়ে যাই আজ,
সঙ্ঘাত ভুলে হৃদয়-গহিনে সমঝোতা নিয়ে
পৃথিবীর প্রতি প্রান্তে মিশে যাই সবুজের মতো
এসো ভুলে যাই সমস্ত বিদ্বেষ, নিষ্ঠুর বিগ্রহ।
প্রিয়জন-১৬১৬

মোজাম্মেল সুমন
চৈত্রলীলা

আমি ষড়ঋতুর এক বিদ্রোহী চৈত্র বিচিত্র,
আগুনঢালা সূর্যরশ্মি ছড়াই প্রকৃতির সর্বত্র।
আমার শাসনামলে পানি নেই খালেবিলে,
উত্তপ্ত ঘূর্ণি, মাঠঘাট ফেটে চৌচির সব মিলে।
ঘর্মাক্ত ক্লান্তি রুক্ষমূর্তি স্বভাব নিয়ে থাকি,
মাটি ধূসরিত, ফসলে অর্ধমৃত ছবি আঁকি।
পিচগলা রাস্তা কিংবা পথের ধূলি অগ্নিদগ্ধ,
অনলবর্ষী বায়ুতে আমার শীতল সীমাবদ্ধ।
তপ্ত দুপুরের অবসন্নতায় মগ্ন ঘুঘু আর চিল,
খয়েরি ডানায় উড়তে উড়তে বড্ড কাহিল।
কৃষ্ণচূড়ায় আগুন, পশুপাখির নেই খাবার,
জলটুকুর অভাবে দেহ নতজানু হাড্ডিসার।
গগনে গর্জে মেঘ, মানুষের উদাসীন দৃষ্টি,
প্রকৃতিতে হাহাকার, চায় একফোঁটা বৃষ্টি।
সূর্যটা পশ্চিমাকাশে গেলে মহাতেজ কমে,
রাত্রিতে খেলা করে চৈত্রী জোছনার প্রেমে।
প্রফুল্ল হৃদয়ে ফুরিয়ে যায় চৈত্রলীলা অবসাদ,
জীবন হয়ে উঠে বর্ণিল স্বপ্নময় সুখ আহ্লাদ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 


জাহেদুল ইসলাম
জলের শরীরে

দু’টি শরীর শুয়ে আছে রেলপথ হয়ে
সোজা চলে গেছে বহুদূর সমান দূরত্বে,
পাথরের নুড়ি আর মরা কাঠ।
দু’পাশে শুকনো খেজুর গাছ
শুধু পেছনে দৌড়ায় অহর্নিশ
তারচেয়ে বরং মাঝে মধ্যে নদীপথ হও
দু’পাশে উপচেপড়া ঢেউ
সবুজ বাবলা বনের ফাঁকে সাদা বক
পরতে পরতে জীবনের ডাক।
এসো, আজ দু’টি শরীর নদীপথের দু’পাড় হই
দু’জনই আটকে থাকি জলের শরীরে।

নূর মোহাম্মদ দীন
বসন্ত নারী

বসন্ত নারী, তুমি লাল টকটকে শিমুল পলাশ
নন্দিত ঋতুরানী- অনিন্দ্য মধুময় সুখ
বাতাসে ঘ্রাণ ছড়ায় তোমার চুম্বনের স্বাদ
আজ উৎযাপিত হবে তোমারই প্লাটিনাম বর্ষ
দেখো দেখো কী সুন্দর লাল-হলুদের মঞ্চ।
বাহারি ফুলের উচ্ছ্বসিত করতাল ধ্বনি
কত সুর নৃত্যালয়ে বাজবে এখনি।
এত আনন্দ আকাশে-বাতাসে!
এ শুধু তোমারই জন্য। এসো এসো...
অলঙ্কৃত করো তোমার মুকুট আসন
রৌমারী, কুড়িগ্রাম

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.