ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

চট্টগ্রাম

ডিভাইডারের সেই পুষ্পরাজি আর দেখা যায় না

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

২৩ মার্চ ২০১৮,শুক্রবার, ০৬:২৬


প্রিন্ট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লাগানো অনেক গাছ মরে গেছে। পুরো সড়কে এখন ফুলেল দৃশ্য দেখা যায় না : নয়া দিগন্ত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লাগানো অনেক গাছ মরে গেছে। পুরো সড়কে এখন ফুলেল দৃশ্য দেখা যায় না : নয়া দিগন্ত

ছোট বড় পাহাড় আর নীলিমার সাথে মহাসড়ক বেয়ে ফুলের পাপড়ির দোল খেলানো সতেজ শিহরণ এনে দিচ্ছে সবার প্রাণে। আর শৌখিন যাত্রী-চালক সবাই যেন পাচ্ছে ভিন্ন রকম আমেজ। এমনি দৃশ্য ছিল গত বছরের বর্ষায়ও। দীর্ঘ প্রতীার পর সুদৃশ্যময় সড়কে রূপ নিয়েছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এখন আর ফুলে সুসজ্জিত নয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। পর্যায়ক্রমে সব সঙ্কট কাটিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সাজানো হয়েছিল প্রাকৃতিক রূপে। গত ১৬ সালের বর্ষার শেষের দিকে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন ফুলের গাছ। যত দূর সম্ভব নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় গাছ লাগানোর পর কিছু কিছু অংশে গাছ মরে যাওয়ায় সেসব এলাকায় ১৭ সালের বর্ষায় গাছ লাগানোর কথা ছিল। মৃত গাছের স্থলে গাছের নতুন চারা লাগানো হলেও তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

১৬ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় দুই শ' কিলোমিটার এলাকাজুড়ে করা হয়েছিল বৃরোপণ কর্মসূচি। মিডিয়ান গ্যাপ নামের ডিভাইডারের মধ্যখানের মাটি দেয়া ফাঁকা অংশে রোপণ করা হয়েছিল ৫০ হাজার বকুল, হৈমন্তী/কুরচী, সোনালু, রাধাচূড়া, কেছিয়া, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, করবী, জারুল, কদম, পলাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ। এ ছাড়া লং এরিয়াতে (গাছ ব্যতীত খালি অংশ) সবুজ ঘাস লাগানোর কথা ছিল। ঘাসের সমারোহ ও নানা ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ সড়কটিকে পাঁচটি প্যাকেজে বিভক্ত করে করা হয়েছে এই কার্যক্রম। ফুলের চারা লাগানোর পর দেয়া হয়েছে সংরণের জন্য বাঁশের তৈরি বেষ্টনীও। এরপর এসব চারা রণাবেণেও রাখা হয়েছে একটি বিভাগ। কিন্তু এত সব আয়োজনের মধ্যে গত বছরের বর্ষা শেষে চলতি বছরের শুরুতেই দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে মিরসরাই, মিঠাছরা, মিরসরাই, বড়তাকিয়া, সোনাপাহাড়, দুর্গাপুর, সীতাকুণ্ডের কুমিরা, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড অংশে বেশির ভাগ গাছ মরে গেছে। তবে কী কারণে গাছ মারা যাচ্ছে তার সঠিক কারণ জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ফোর লেনের চট্টগ্রাম অংশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হচ্ছে। তারা নিয়মিত গাছগুলোতে পানি দেয়া ও নিয়মিত পরিচর্যা করবে। চলতি বছরের বর্ষায় যে অংশে গাছ মরে গেছে সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।

গাছ মারা যাওয়ার বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, যথাযথ পরিচর্যার অভাব, পানির অভাব। এ ছাড়া সড়কের দুই ধারের প্রচুর ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া ও বর্ষা মওসুমে গাছে ঝোপঝাড়ে ঘিরে থাকার কারণে কিছু গাছ মারা যায়।

তবে কোনো কোনো অংশে ছোট ছোট কৃষ্ণচূড়া আর হৈমন্তী/কুরচী, সোনালু, রাধাচূড়া, কেছিয়া, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, করবী, জারুলগাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফুল ফুটে উঠায় এই রুটের যাত্রীরা প্রায় বিমোহিত। এসব গাছ বড় হয়ে উঠলে নৈসর্গিক মোহনীয়তায় দেশী-বিদেশী যে কারোই হৃদয় হরণ করবেই এই সড়কপথ। আশা করা যাচ্ছে, এই গাছগুলো বড় হলে ভিন্ন এক অচেনা দেশের সবুজ আর সোনালিতে রূপ নেবে এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক!

এই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা বলেন, সড়কের কোনো কোনো স্থানে গাছে ফুল ফোটায় দেখতে খুভ ভালো লাগছে। আবার যেখানে গাছ মরে শূন্য মরুপ্রান্তরে পরিণত হয়েছে তার জন্য সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। অচিরেই তারা মৃত গাছের স্থলে নতুন করে চারা রোপণ করে সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের দাবি জানান।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার ফোর লেন অংশের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় ১৪৩.৪ কিলোমিটার এলাকায় ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মধ্যে দাউদকান্দি থেকে ময়নামতি, ময়নামতি থেকে বাতিশা, বাতিশা থেকে ধুমঘাট, ধুমঘাট থেকে সীতাকুণ্ড ও সীতাকণ্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত পাঁচটি প্যাকেজে ওই গাছ রোপণ করা হয়েছিল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫