উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড পূরণ অনুষ্ঠান যেভাবে হলো ঢাবিতে
উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড পূরণ অনুষ্ঠান যেভাবে হলো ঢাবিতে

উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড পূরণ অনুষ্ঠান যেভাবে হলো ঢাবিতে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড পূরণের স্বীকৃতি দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আনন্দ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তনে এ আনন্দ উদযাপন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সহস্রাধিক লোকের সমাবেশ ঘটে। তবে পূর্ব-নির্ধারিত এ অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বেলুন উড়িয়ে এই আনন্দ সমাবেশের উদ্বোধন করেন। এসময় সংগীত বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় সংগীত, রণ সঙ্গীতসহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন এবং বিভিন্ন হল, বিভাগ, ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস উৎসবমুখর পরিবেশে বিরাজ করে।

আনন্দ সমাবেশে ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভুমিকা অনেক। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে কাজ তাদের দায়িত্বপালন করতে হবে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের ছিলেন প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, ঢাবি নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ প্রমুখ।

এদিকে, আনন্দ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সরেজমিন জানা যায়, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রলীগ ও বিএনসিসি সদস্যদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশনের সাংবাদিকরা। এসময় সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও মুহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা উচ্চবাচ্য করে এক সাংবাদিককে ধাক্কা দেয়। রাস্তার উভয় পাশেই মানববন্ধন থাকায় কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিকরা ক্যামেরা নিয়ে মূল অনুষ্ঠানের সামনে যেতে চাইলে সেখানেও বাধা দেয় ছাত্রলীগ ও বিএনসিসি সদস্যরা। এছাড়া আগে থেকেই যারা মূল অনুষ্ঠানের সামনে অবস্থান করেছিলেন, তাদের সঙ্গেও বারবার কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয় বিএনসিসি সদস্যদের। বিষয়টি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে অবহিত করার পরও কোনো ধরণের সুরাহ হয়নি। এরপরও সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এদিকে, ঢাবি শিক্ষকদের মানবন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের সামনে দাঁড়ানো নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, এমন কর্মসূচিতে অনেক সিনিয়র শিক্ষক যেখানে ভিসির পাশে দাঁড়াতে পারেননি, সেখানে ছাত্রলীগ নেতা কী করে ভিসির সারিতে দাঁড়াতে পারে। অথচ তার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষককে দাঁড়াতে হয়েছে। এটি দৃষ্টিকটু।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। পরে ভিসির ব্যক্তিগত সহকারী বলেন, স্যার ফাইল দেখার কাজে ব্যস্ত আছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.