মাদকবিরোধী স্লোগান দিয়ে চলছে মাদকব্যবসা

আবু সালেহ আকন

মাদকবিরোধী স্লোগান দিয়ে চলছে মাদকব্যবসা। প্রকাশ্যে ফেরি করে মাদক বিক্রির দৃশ্য যে কারো চোখে পড়ছে হরহামেশা। পথচারীদের ডেকে ডেকে মাদক কেনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নারী-শিশু-বৃদ্ধ সবার মূল কাজÑ মাদকব্যবসা।
এই চিত্র রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প ও এর আশপাশের এলাকার। পথচারীরা এখন ক্যাম্পের আশপাশ দিয়ে হাঁটতেও ভয় পান। আশপাশের রাস্তায় প্রতিদিনই ঘটছে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। মাদকের স্বর্গরাজ্য বলে খ্যাত রাজধানী মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের এই মাদকব্যবসা পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে বলে অভিযোগ আছে। যারা মাদকবিরোধী স্লোগান দেয়, মাদকবিরোধী কমিটিতে রয়েছে, তারাই মাদকব্যবসার মূল হোতা বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পের অনেক বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেনেভা ক্যাম্পের প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা এবং আশপাশের কয়েক লাখ মানুষ মাদকব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। মাদকব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ক্যাম্পবাসীদের অভিযোগÑ বশির মাদকবিরোধী কমিটির প্রধান, অথচ তার আপন মামাতো ভাই সালাম মাদকসম্রাট ইশতিয়াকের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন মাদকব্যবসার সাথে জড়িত। বশিরের ধর্মের ভাই শহীদ ওরফে মোনা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজাসম্রাট হিসেবে পরিচিত। জেনেভা ক্যাম্পে প্রতিদিন ২০-৩০ কেজি গাঁজা পাইকারি এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছে এই শহীদ। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য কলিম ওরফে জাম্বুর আপন দুই ভাই সেলিম ও মিঠুন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। তার বড় দুলা ভাই আসলাম, বিয়াই তোতা, মানুয়া আলম ও বিল্লাল মাদকব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের সবার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্যাম্পের ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতা মাদকসম্রাট জয়নাল আবেদীন জয় ওরফে পাচুর মাদকের স্পট রয়েছে ক্যাম্পের বাইরেও। সেই মাদকস্পটের রক্ষণাবেক্ষণ ও মাদকবিক্রেতা বাবু, নাওশাদ, সাদ্দাম, টিপু, রকি, দাউদ, মনু, হীরা, রাজা, চুল্লু রকি, সাজ্জাদ ও রাসেলরা প্রকাশ্যে মাদকব্যবসা করলেও তাদের কেউ গ্রেফতার করছে না। ক্যাম্পে মাদকবিরোধী অভিযান হলে আগেভাগেই তারা জেনে যায়। অভিযানের সব খবরাখবর জাম্বু নামের একজন তাদের কাছে সরবরাহ করে বলে তারা আগেই সটকে পড়ে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা পায় জাম্বু। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত এক বছরে জাম্বু মোটা অঙ্কের টাকা, সিএনজি ও বাড়ির মালিকসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি বন্ধকে নিয়েছে। লোক দেখানোর জন্য সে ভাড়া বাড়িতে থাকে। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য আমির নিজেই দীর্ঘদিন যাবৎ জেনেভা ক্যাম্পের মাদকসম্রাট মোক্তারকে সহযোগিতা করছে। আমিরের বড় ভাই আক্তার গাঁজাসম্রাট মোক্তারের গাঁজা জেনেভা ক্যাম্পের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজে নিয়োজিত। তা ছাড়া আমিরের প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুন্না উরফে কালা মুন্না একজন গাঁজা ব্যবসায়ী। মুন্নার গাঁজার গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে জাপান গার্ডেন সিটির পেছনে আমিরের বাড়িটি। আমিরের বাড়ি থেকেই প্রতিদিন এই এলাকার গাঁজা সরবরাহ হয়ে আসছে। বিনিময়ে মোক্তার ও মুন্নার কাছ থেকে আমির দৈনিক ২০০০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য রাজিয়ার আপন তিন ভাইÑ রেহু, রিত্তা, কুরবান এবং বড় মেয়ে রানীর স্বামী নাসির, ছোট মেয়ে আঞ্জালির স্বামী সাদ্দাম দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকব্যবসার সাথে জড়িত এবং মাদক বিক্রিই হচ্ছে তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য খুশবুর স্বামী মাহতাব এবং দেবর সাজু ও নাদিম এলাকার চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী ও খুচরা মাদকবিক্রেতা।
মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য আসলাম ক্যাম্পের ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসলামের আপন ভাগ্নে মনু দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্পে বিয়ারের ব্যবসা করে আসছে এবং ৫নং সেক্টরের পেছন সাইড হুমায়ুন রোডে তার ইয়াবার স্পট রয়েছে। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য কুলসুমের আপন দুই ভাই সেন্টু মাদকব্যবসায়ী ফেকানের সাথে এবং ছোট ভাই মাসুম মাদকব্যবসায়ী ইশতিয়াকের সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্য বিউটির বড় ছেলে শাহ আলম ক্যাম্পে বিয়ারের ব্যবসার সাথে জড়িত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেনেভা ক্যাম্পের আশপাশের মানুষও এখন অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা এক সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি তার ছেলে স্কুল থেকে ফিরছিল। প্রকাশ্যে মাদকসেবীরা তার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি রেখে দেয়। সম্প্রতি কয়েকজন মাদকব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দেয়ায় ক্যাম্পের মাদকব্যবসায়ীরা পুরো তাণ্ডব শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এই ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.