ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

লিফট নেই, সিঁড়ি বেয়েই উপরে উঠতে হবে পরিকল্পনামন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

২২ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

অর্থনীতিতে ওভারনাইট কোনো অর্জনের সুযোগ নেই। অর্থনীতিতে লিফটে ওঠার ব্যবস্থা নেই। সিঁড়ি বেয়েই ওপরে উঠতে হবে। আমরা সিঁড়ি বেয়েই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগামী ২০৪১ উন্নত দেশে পৌঁছাতে হলে আমাদেরকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আর এসব হলো, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সঙ্কট কমাতে হবে, দ জনবল ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, গ্যাসের যে সঙ্কট আছে তা কমাতে পারলে দেশ থেকে বিনিয়োগ বিদেশে চলে যাবে না।
বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসা উপলে গতকাল শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কে ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্যগুলো করেন। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো: জিয়াউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। অন্য দেশের তুলনায় আমরা এখোনো পিছিয়ে আছি। আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রতি নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০১০ সালে পৃথিবীর অর্থনীতিতে ৫৮তম ছিলাম। এখন সেটা থেকে ৪৩তম দেশে দাঁড়িয়েছি। উন্নত দেশ হতে হলে আগামী ২৩ বছরে ২৩টি দেশকে টপকাতে হবে। গত ৯ বছরে ১৫টি দেশকে পেছনে ফেলেছি। ফলে সেটা আমাদের পে সম্ভব। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হবো। সেখানে আমরা বিশ্বের উন্নত ২০টি অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে অবস্থান করব।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গরিব দেশ হওয়ার অভিশাপ থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। আর দারিদ্র্য দেখতে চাই না। স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখানে ৪৩ বছর পর আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেলাম। হয়তো আমাদের এখানে আসতে অন্য দেশের তুলনায় সময় বেশি লেগেছে। কিন্তু এখন আমরা খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করব। শুধু উন্নয়নশীলই নয় উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ। এর দু’টি প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের জনসংখ্যার বোনাসকাল চলছে, যা পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই। কর্মম এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।
তিনি বলেন, এ ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক করিডোর আমাদের জন্য আরো একটি সুযোগ। কেননা এশিয়ায় আগামীতে বিশ্বের সব চেয়ে উন্নত দেশ হবে চীন, তৃতীয় উন্নত দেশ ভারত ও চতুর্থ উন্নত দেশ জাপান। তারা কেউই আমাদের ছাড়া একা উন্নতি করতে পারবে না। চলতি বছরেই বিশ্ব-অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত থেকে বের হয়ে যাওয়াতে আমাদের বড় কোনো আর্থিক তি হবে না। রফতানিও কমবে না। বরং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাওয়ার আগে পর্যন্ত আগের শর্তেই ঋণ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণের জন্য দরকষাকষি করা যাবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, ২০৩০ সালে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করব। আমাদের প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা দরকার। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম। তবে আমরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি, তাদের বিনিয়োগ এখন বাড়তে থাকবে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫