ঢাকা, শুক্রবার,২৭ এপ্রিল ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

যে কারণে মানুষ প্রার্থনা করে

মঈনুল আহসান

২২ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দেহের জন্য যেমন খাদ্য দরকার, তেমনি অন্তর বা আত্মাকে বাঁচাতেও লাগে বিশেষ খাদ্য। সেই খাদ্যই আল্লাহ পাকের ইবাদত। পরিপূর্ণ সুস্থতার সাথে টিকে থাকতে মানুষের জন্য এ দুই খাদ্যই নিয়মিত দরকার। দেহের খাবারের সাথে দরকার আত্মার জন্য নিয়মিত ইবাদত, এর কোনো বিকল্প নেই। কারণ, মানুষ একটা দেহ মাত্র নয়। পুরোপুরি মানুষ হতে হলে দেহের ভেতর থাকতে হয় একটি উজ্জীবিত অন্তরও। অন্তর যেখানে মৃত, সেই দেহ বস্তুত অকেজো। এমন মৃত অন্তর নিয়ে জীবনের সহস্র অর্জনও ভোগ করা যায় না। এই শ্রেণীর মানুষেরা জীবনের কোনো অর্থই খুঁজে পান না, জীবনের কোনো বোধই থাকে না তাদের মধ্যে। জীবিত হয়েও থাকেন মৃতের মতো। কারণ, তাদের দেহজুড়ে থাকে ‘মরা অন্তর’। এদের অনেকে পা বাড়ান আত্মহননের দিকে। এদের উদাহরণ মাইকেল জ্যাকসন ও হুইটনি হিউসটনের মতো বিখ্যাত এবং কথিত সফল ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের সবার ছিল আকাশ ছোঁয়া অর্থ, যশ ও খ্যাতি। কিন্তু ছিল না মনের শান্তি, ছিল না চিত্তের তৃপ্তি। ‘মৃত অন্তর’সর্বস্ব দেহে ছিল না শান্তি-প্রশান্তির অনুভূতি। সেই স্থান দখল করে নিয়েছিল হতাশা আর সীমাহীন কান্তি।
অন্তরের জন্য অত্যাবশ্যক যে ইবাদত, তা মানুষ নিজের ইচ্ছামতো বানিয়ে নেয়ার মতা রাখে না; যেমন সে পারে না তার ফসলের ফলন নিজের ইচ্ছামতো বাড়াতে। বস্তুত জন্ম মাত্রই আমরা এগুলো পেয়ে থাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এতটাই যে, তার কোনোটিতে কিছুমাত্র পরিবর্তনের চেষ্টাও তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় আমাদের জন্য। এ কারণেই নিজেদের বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়ে যে দু-একটা জিএম ফুড তৈরির চেষ্টা করেছে মানুষ, সেগুলোও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না তার নিজের কাছেই। এতে বোঝা যায়, পৃথিবীতে নিজের ইচ্ছামতো টিকে থাকার কোনো সুযোগ মানুষের নেই। এখানে থাকতে হলে পরম স্রষ্টা আল্লাহ পাকের পুরোপুরি অধীনতা মেনেই থাকতে হবে। জিএম ফুডের মতোই অন্তরের খাদ্য যে ইবাদত, তার নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতির মধ্যে নতুন উদ্ভাবন কিম্বা তার মূল সূত্রে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের সুযোগ নেই মানুষের। সেই মতা মানুষকে দেয়া হয়নি। এ জন্যই আল্লাহ পাকের তৈরি বিশুদ্ধ বা অর্গানিক খাবার খোঁজার মতোই আমাদের খুঁজতে এবং বুঝতে হবে ইবাদতের বিশুদ্ধ নির্দেশনা ও পদ্ধতি। দেহ ও মনের পূর্ণ সুস্থতা নিয়ে বাঁচতে হলে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আল্লাহ নিজেই। তাঁর সৃষ্ট খাদ্যভাণ্ডার অসীম ও অফুরান, তেমনি তাঁর ইবাদতের ভাণ্ডারও অন্তহীন ও অফুরান। মানুষ যেমন এক জীবনে দুনিয়ার সব খাদ্যশস্য ও ফলমূলের স্বাদ নিয়ে শেষ করতে পারবে না, তেমনি পারবে না এক জীবনে আল্লাহ পাকের দেয়া সব ইবাদত-বন্দেগি অনুশীলন করে শেষ করতে। খাদ্যবস্তুর মতোই ইবাদতের মধ্যেও কিছু রয়েছে নিয়মিত, আবার কিছু বিশেষায়িত। সবগুলোই থরে থরে সাজানো রয়েছে পবিত্র আল কুরআন ও হাদিস শরিফে। সাজানো আছে ব্যবহারিক উদাহরণসহ, যাতে মানুষের তা বুঝতে কোনো অসুবিধা না হয় এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করতেও কোনো কষ্ট না হয়।
আল্লাহর ইবাদতের মূল ভিত্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তার পরই রয়েছে রোজা, জাকাত ও হজ। এগুলোই ইবাদতের সিলেবাস বা ফরম্যাট। যথাসময়ে নিয়ম মেনে এই সিলেবাস অনুশীলন করতে আমরা বাধ্য। তবে নির্ধারিত পরিমাণের বাইরেও এই ইবাদতগুলো করা যায় যত খুশি তত এবং তা করেও থাকেন অনেকেই। এই বাড়তি নামাজ, রোজা ও দান করা যেকোনো আল্লাহপ্রেমী বুজুর্গের জন্যই নিয়মিত বিষয়। সামর্থ্যে থাকলে তারা হজও করেন একাধিকবার।
আল্লাহ পাকের নবীরা সেভাবেই শিখিয়ে গেছেন এবং উৎসাহিত করেছেন মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের পথে। তারা দেখিয়ে গেছেন, আল্লাহর নিরাপদ আশ্রয়ই আমাদের বাঁচার একমাত্র পথ। এ জন্য দরকার নিয়মিত নামাজে যতœবান হওয়া। বিপদের সম্ভাবনা মাত্রই হাজতের নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া আর নিশ্চিত করা প্রয়োজন ইবাদতময় পরিবেশ।
যাদের আস্থা নেই হাদিসের ছয়টি সহি গ্রন্থে এবং শ্রদ্ধা নেই ইসলামের সম্মানিত ইমাম, আলেম ও বুজুর্গদের ওপর, তাদের সবচেয়ে বড় তি হয় ইবাদতময় জীবনের ক্ষেত্রে। আমাদের নিবিড় সম্পর্ক গড়া প্রয়োজন পবিত্র কুরআনের সাথে। এতে আল্লাহ হয়ে যাবেন বন্ধু। তিনি কখনো ছেড়ে যান না, তাই একাকিত্ব বলে কিছু থাকবে না জীবনে। আগ্রহ বাড়বে সার্বণিক ইবাদতের প্রতি, মিথ্যা প্রচারণা ধরা যাবে দ্রুত, জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে সহজে এবং ইবাদতের সামান্যতম সুযোগও তখন হাতছাড়া করতে চাইবে না মন। এতেই ইনশা আল্লাহ বাঁচবে ইবাদত আর গড়ে উঠবে ইবাদতময় সফল জীবন। আমিন।
লেখক : প্রবাসী, লস অ্যাঞ্জেলস-আমেরিকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫