স্ম র ণ : সাহিত্যিক আলাউদ্দীন আহমাদ

১৮০০ সাল থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে মুসলমান লেখকের অনুপস্থিতি একটি ঐতিহাসিক সত্য। শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মুসলমানেরা প্রাচীন ধারায় মিশ্র ভাষায় পুঁথিসাহিত্য এবং আঞ্চলিক ভাষায় লোকসাহিত্য রচনার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু আধুনিক সাহিত্যের অঙ্গনে প্রবেশ করে বাংলায় তারা গদ্য ও পদ্য রচনায় অগ্রসর হয়েছেন বিলম্বে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জন্ম হয়েছিল নগরকেন্দ্রিক শিক্ষিত মধ্যবিত্তের দ্বারা। কলকাতা নগরী এই নব্যশিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কেন্দ্র ছিল। আলাউদ্দীন আহমাদ সে সময় বাংলাদেশের এক অখ্যাত পাড়াগাঁ, নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী থেকে কলকাতায় গিয়ে আলিয়া মাদরাসা থেকে আরবি-ফার্সিতে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৮৯২ সালে ফরিদপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল।
আলাউদ্দীন আহমাদ ১৮৬৪ সালে জন্মগ্রহণ এবং ১৯৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি মাদরাসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে (করটিয়া মাদরাসা ও কলকাতা মাদরাসা) পাশাপাশি ‘এন্ট্রান্স’ (বর্তমান এসএসসি) পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে মনস্থির করলেও তা আর দেয়া হয়নি। ছাত্রজীবনে মেধাবী ছিলেন এবং একাধারে ইংরেজি, বাংলা, আরবি ও ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। লেখকজীবনেও তিনি এসব ভাষার সদ্ব্যবহার করেছেন। ফরিদপুর জিলা স্কুলে ১২ বছর শিক্ষকতা করে পরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে ২০ বছর চাকরি করার পর তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা সাতটি। এর মধ্যে বেশির ভাগই আরবি ও ফার্সি থেকে বাংলায় অনূদিত। ১. উপদেশ সংগ্রহ (১৮৯৪)। এটি ইবনে হাজার আসকালানির মোনাববেহাত নামক আরবি গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ। ২. ওমর চরিত (১৯০৩), বাংলা ভাষায় তার প্রথম মুদ্রিত জীবনীগ্রন্থ। ৩. তাফসীরে হাককানী। ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সুপরিচিত ‘ইসলাম প্রচারক’ সাময়িকীতে প্রকাশ হয়। পরবর্তী সময়ে পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ৪. আবদুল কাদের জিলানি (রাহ:) বা হযরত বড় পীরের জীবনী (১৮৯৯)। ৫. আহকামুল ইসলাম (১৯০৯)। এই প্রবন্ধকারের কাছে এর আখ্যানপত্র সংরক্ষিত। ৬. তাফসীরে রুহুল বয়ান (১৯১৩) ও ৭. পূর্ববঙ্গের সমাজ ও সংস্কৃতি (আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ), যার রচনাকাল ১৯৩৯-১৯৪৫। তার বংশধরদের কাছ থেকে এটি উদ্ধার করে বাংলা একাডেমির মোমেন চৌধুরী (সাবেক পরিচালক) তা সম্পাদনা করেছেন। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩৫। ২০০৭ সালে ঢাকার সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ইসলাম প্রচারক পত্রিকায় তার ইতিহাস ও দর্শনবিষয়ক নানা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। অথচ আজ পর্যন্ত আলাউদ্দীন আহমাদ উপেক্ষিত। বর্তমান প্রজন্ম তার সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানে না। উল্লেখ্য, শিশুসাহিত্যিক ও অনুবাদক আব্দুর রশীদ (১৮৯০-১৯৪৫) তার মামাতো ভাই।
মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.