ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

চট্টগ্রাম

অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করলেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

২১ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ১৭:৩৬


প্রিন্ট
অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করলেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি

অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করলেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি

রামগঞ্জ ফতেহপুর জে ইউ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে পিটিয়ে আহত করেছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও যুবলীগ নেতা রাকিবুল হাসান মাসুদ। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অধ্যক্ষ রামগঞ্জ ফেমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আহত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও কয়েকজন শিক্ষক জানান, কিছুদিন আগে থেকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগ নেতা রাকিবুল হাসান মাসুদ মাদরাসার বিভিন্ন বিষয়ে বাধা দেয়ার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না দিয়ে তা আটকে রাখারও অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষক।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৮ মার্চ দেয়ার কথা থাকলেও সভাপতি স্বাক্ষর না দেয়ায় বেতন উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। সমাধানে অধ্যক্ষ বার বার সভাপতিকে মোবাইলে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

বিষয়টি অধ্যক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে বুধবার দুপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও অফিস সহকারী নুর হোসেনকে বেতন বইতে স্বাক্ষর করার কথা বলে সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদ তার বাড়িতে ডেকে নেন।
এসময় সভাপতি অফিস সহকারী নুর হোসেনকে মাদরাসায় চলে যেতে বললে তিনি ফিরে যান। কিছুক্ষণ পরে অধ্যক্ষকে চড়-থাপ্পড় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। কয়েক মিনিট পর অধ্যক্ষ মাদরাসায় এসে শিক্ষকদের ডেকে বিষয়টি জানানোর এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
এসময় শিক্ষকেরা তাকে রামগঞ্জ ফেমাস হসপিটালে নিয়ে আসলে কিছুক্ষণ পর সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদও সেখানে উপস্থিত হন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূইয়া জানান, আমি লামনগর একাডেমির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে এসেছি। তবে বিষয়টি উপাধ্যক্ষ সাহেব আমাকে মোবাইলে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আবু ইউসুফ জানান, একজন অধ্যক্ষের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপাধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক আমার সাথে দেখা করেছেন। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিয়ে আটকে রাখা সভাপতির কাজ নয়।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা ও মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদ জানান, অফিসে সিসি ক্যামেরা আছে, আমি অধ্যক্ষকে কিছুই করিনি। উনি অজ্ঞান হওয়ায় আমি তাকে উদ্ধার করে হসপিটালে ভর্তি করিয়েছি। তবে বলেন- মাদ্রাসায় কোনো সভা-সেমিনারে আমাকে ডাকা হয় না।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫