নিজেদের আইনজীবীদের প্রতি আস্থা নেই বিএনপির : মো. নাসিম
নিজেদের আইনজীবীদের প্রতি আস্থা নেই বিএনপির : মো. নাসিম

নিজেদের আইনজীবীদের প্রতি আস্থা নেই বিএনপির : মো. নাসিম

বাসস

নিজেদের আইনজীবীদের প্রতি আস্থা না থাকায় দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় বিএনপি বিদেশী আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ রিচার্স সেন্টার (ইউএমসিআরসি)-এর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কারলাইলকে খালেদা জিয়ার মামলায় আইনি পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার কথা গতকাল জানিয়েছে।
মোহাম্মদ নাসিম খালেদা জিয়ার মামলায় বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, নিজের আইনজীবীর প্রতি কোনো আস্থা বা বিশ্বাস নেই বলে তিনি (খালেদা জিয়া) একজন বিদেশি আইনজীবীকে নিয়োগ করেছেন। সেই আইনজীবী কে? সেই আইনজীবী হলো সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাসেম আলীর আইনজীবী হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতা লর্ড কারলাইলের নাম উল্লেখ না করে, ‘আমাদের দেশে লর্ড ক্লাইভ চলে এসেছে’- এমন মন্তব্য করে বলেন, ‘আপনাদের নিজেদের আইনজীবীদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই এবং তাদের প্রতি আস্থা নেই। আপনাদের দলের নেতারাও বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলায় কোনো বিদেশি আইনজীবীর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনারা আনলেন লর্ড ক্লাইভকে (লর্ড কারলাইল)। তবে আপনারা বিদেশি আইনজীবী নেন, বড় আইনজীবী নেন, অবশ্যই আইনি লড়াই করবেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাসেমের মামলায় যে লড়েছে ও আইনি সহায়তা প্রদান করেছে তাকেই কেন আনতে হবে?’ কার্লাইলকে নিয়োগ দানের মধ্য দিয়ে বিএনপির দেওলিয়াত্ব আবারো ফুটে উঠেছে বলেও মনে করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, আমরা (আওয়ামী লীগ) নাকি খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আমরা কেন তাকে আটকে রাখব? উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের এ যুগে সবাই সবকিছু দেখছে। দণ্ড, জামিন সব কিছুই আদালতের বিষয়, এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। আওয়ামী লীগ চায় না কেউ দণ্ডিত হোক। খালেদা জিয়ার জামিন হবে কি হবে না- এটা আদালতের বিষয়। আইনের পথেই তাদের থাকতে হবে। সুতরাং আমরাও চাই খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বের হয়ে সম্মানের সাথে রাজনীতি করুক। কারণ আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। আমরা খেলেই গোল দিতে চাই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, জাতিসঙ্গসহ আন্তর্জাতিক মহলকে রোহিঙ্গাদেরকে যেন মিয়ানমার তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়, সে বিষয়ে চাপ দিতে হবে। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বোরোচিত হামলা, হত্যা ও নিষ্ঠুরতায় সেখান থেকে ১০ লাখের বেশি নাগরিক প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মায়ের মমতা নিয়ে অর্থাৎ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের প্রাথমিকভাবে আশ্রয়, খাবার ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছেন। সেখানে আমরা নিয়মিত বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছি।

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা দিচ্ছে সরকার উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অনেক বিদেশিদেরকে আমরা দেখেছি মানবিব সাহায্যে করতে। কিন্তু রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত পাঠাতে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রোই ভালো ভূমিকা রেখেছে। মিয়ানমারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মোহাম্মদ নাসিম তাদের কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সনাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএমসিআরসি-এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. মো. রিদওয়ানুর রহমান। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপদেষ্টা এ কে এম জাফর উল্লাহ অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন।

গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, গত ২৫ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে ইউএমসিআরসি উখিয়া উপজেলার ৪টি ক্যাম্পে ১ হাজার ৬৩৪টি পরিবারের ৭ হাজার ৯০৩ জনের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, তারা মিয়ানমার ছেড়ে আসার আগের ছয় মাসে ছোট পরিবারের ১৮ দশমিক ৩ ভাগ সদস্য আহত হয়েছেন। প্রায় ৬৩ ভাগ আহত উত্তর দাতারা এখনও ওই হামলার কারণে ভুগছে। এখানে আসার পর প্রায় ৬৭ শতাংশ গর্ভবতী মা টিকা গ্রহণ করেছে এবং ৩৪ শতাংশ মা কমপক্ষে একবার প্রসবত্তোর সেবা পেয়েছে বলে এতে জানানো হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.