গ্রাহক তথ্যের অপব্যবহার রোধে ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ

আহমেদ ইফতেখার

বিভিন্ন সময় ফেসবুকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৪ সাল থেকে একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের পাঁচ কোটির মতো গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য পেয়েছে। যদিও ফেসবুক কতৃপক্ষ এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, ট্রাম্প শিবিরের প্রচারণার জন্য পরিচিত একটি ডাটা কোম্পানিকে তাদের বেশকিছু গ্রাহকের তথ্যে প্রবেশাধিকার দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এসব তথ্য এখনো মুছে ফেলেনি। এর আগে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া প্রভাব বিস্তারে ফেসবুকের প্লাটফর্ম ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
ফেসবুকের তথ্যমতে, গ্রাহক তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে সমস্যার মূলে রয়েছে গবেষক ও ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। এতে তাদের নীতিমালার অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার জন্য ফেসবুকের সমালোচকরা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। ফেসবুক জানায়, তথ্যের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, তবে তথ্য চুরি হয়নি। কারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এতে অনুমতি দিয়েছিল। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের এক কর্মকর্তা জানান, ভোটারের তথ্যের জন্য তারা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নয়, বরং রিপাবলিকান দলের তথ্য ব্যবহার করেছেন। ফেসবুক কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ও গবেষক উভয়ই তাদের নীতি ভেঙেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা জানায়, তারা সব তথ্য মুছে ফেলেছে। যারা এসব তথ্য সরবরাহ করেছে, তারাই মূলত এর জন্য দায়ী। ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ গ্রাহক তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে বেশকিছু পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ব্রিটেনের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ও ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ফেসবুকের তথ্য ব্যবহার নিয়ে তারা অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনার এলিজাবেথ ডেনহাম এক বিবৃতিতে জানান, তথ্য কিভাবে ব্যবহার করা হয়, আধুনিক রাজনৈতিক প্রচারাভিযানে তা কীভাবে শেয়ার করা হয় ও গোপনীয়তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সবকিছুই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.