ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

খুলনা

সৌন্দর্যের হাতছানি দিচ্ছে শেখ রাসেল ইকোপার্ক

শেখ শামসুদ্দীন দোহা, খুলনা ব্যুরো

২১ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ১৪:২০


প্রিন্ট

রূপসী রূপসার বুক চিরে খানজাহান আলী সেতু। সেতুতে দাড়ালেই দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ। পড়ন্ত বিকেলেই রূপসা সেজে উঠে বিনোদনপ্রেমীদের বর্ণিল সাজে। রূপসার মাতোয়ারা ঢেউ আর সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে শেখ রাসেল ইকোপার্ক। বর্তমান সরকারের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ এই ইকোপার্ক। বছর দেড়েক আগে পার্কটি স্থাপনের জন্য দেড়শ বিঘা জায়গাটি নির্ধারণ করে খুলনা জেলা প্রশাসন। গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সার্কিট হাউজে পার্কটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৯ সালের মধ্যে পার্কের কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে বিনোদনপ্রেমীদের।
খুলনা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সুত্র থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট থেকে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল শেখ রাসেল ইকোপার্কের অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর এর নকশা তৈরি ও অনুমোদন শেষে গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সার্কিট হাউজের জনসভার আগে পার্কটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সুত্রটি জানায়, জমি অধিগ্রহণের পর ৪৫০টি পিলার দিয়ে সীমানা ঘেরা হয়েছে। এখন বালি ভরাটের কাজ চলছে। নঁকশা অনুযায়ী তৈরী করা হয়েছে কাঠ-বাঁশের ঝুলন্ত ওয়াকওয়ে। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম এর দেখভাল করছেন। জানা গেছে, পার্কটি চারটি জোনে বিভক্ত থাকবে। যার একাংশে থাকবে প্রকৃতির অবিকল রূপ, একাংশে থাকবে সবার প্রবশাধিকার উম্মুক্ত এবং কিছু এলাকা থাকবে একেবারে প্রবেশ নিষিদ্ধ অর্থাৎ প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র সেখানে থাকবে উম্মুক্ত। এছাড়া থাকবে ফিশিং জোন, কিডস কর্ণার, সুইমিং পুল, মেরিন ড্রাইভ, ফুট ট্রেইল, ট্রেন, ঝুলন্ত ব্রীজ, ওয়াটার ব্রিজ, প্লে গ্রাউন্ড, ফুড জোন, এম্পি থিয়েটার, অবজারভেশন টাওয়ার। ফুড জোনে ভাসমান জাহাজে থাকবে হোটেল। নিরাপদ খাদ্যের জন্য থাকবে অর্গানিক পণ্য সামগ্রী। নয়নাভিরাম নান্দনিক এ পার্কটির এক স্থানে থাকবে নানা প্রজাতির গাছের ছায়াঘেরা সুশীতল পরিবেশ। থাকবে লেক, মিনি সুন্দরবন, পশুপাখির অভয়াশ্রম, শিশুপার্ক, রিসোর্ট। বিশেষ করে নদীর পাড়ে একটি অব্যবহৃত কার্গো, লঞ্চ বা পল্টুন স্থাপনের মধ্যদিয়ে ভাসমান ক্যান্টিন চালু করার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যেই একটি পত্র পাঠানো হয়েছে। এতে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটকসহ নদী থেকে যাতায়াতকারী অনেকেই সেখানে সাময়িক অবকাশের সুযোগ পাবেন। এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল-আল-মামুন বলেন, শেখ রাসেল ইকোপার্র্কের জন্য জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ড থেকে অর্থ বরাদ্দের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। যেটি অনুমোদন হলে পার্ক অভ্যন্তরে মিনি সুন্দরবনসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা হবে।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বলেন, প্রস্তাবিত পার্কটির স্থানে ১২৪টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিল। সরকারি খাস জমির ওপর তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও উচ্ছেদ না করে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। পার্শ্ববর্তী সরকারি জমিতে তাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারের নামে কমপক্ষে দু’শতক জমি দিয়ে তাদেরকে স্থানান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, চিত্তবিনোদনের জন্য একেবারেই জায়গা না থাকা খুলনায় এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এটি যেন শুধুমাত্র কাগুজে উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ না থাকে সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া উচিত। বিশেষ করে যেহেতু স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন সেহেতু যেসব মন্ত্রণালয়ে এজন্য এখনও কাজ আটকে আছে সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
খুলনার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, এটি একটি পিপিপি (পাবলিক পার্টনারশীপ প্রকল্প)। জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন হবে। তবে বন বিভাগ, পর্যটন কর্পোরেশন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। সব জায়গা থেকেই ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। পার্কের নির্দিষ্ট জায়গায় এখনও যেসব স্থাপনা রয়েছে তাদেরকে পুনর্বাসনের পরই নকশা অনুযায়ী এর স্থাপনাগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে। কাজটি শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য এটি হবে একটি মডেল পার্ক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫