ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

স্ম র ণ : কে এম ওবায়দুর রহমান

২১ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তিনি ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৯৮ সালে আওয়ামী সরকারের সময় টানা সাড়ে তিন বছরসহ মোট সাড়ে ১৩ বছর কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন। তিনি হচ্ছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী, এককালের কিংবদন্তি ছাত্রনেতা কে এম ওবায়দ্রু রহমান। ১৯৪০ সালের ৫ মে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম। ১৯৫২ সালে নগরকান্দা এম এন অ্যাকাডেমির ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫৬ সালে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ১৯৫৭-৫৮ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মেয়াদে ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এম এ পাস করেন। ১৯৬৬ থেকে ’৭১ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর নগরকান্দা থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ’৭০ ও ’৭৩ সালের নির্বাচনে যে তিনজন নেতা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরণার্থী ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনের জন্য ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকার তাকে পুরস্কৃত করে। ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ এবং পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠায় ও শক্তিশালী করতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নেও বিশাল অবদান রেখে গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিহিংসার কবলে পড়ে কারাগারে বন্দী থেকেও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের সহজেই আপন করে নেয়ার অসাধারণ গুণ তাকে সহকর্মীদের আপনজনে পরিণত করেছিল।
ওবায়দুর রহমান ছিলেন প্রাজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। যুক্তিতর্কে প্রতিপক্ষের বক্তব্য খণ্ডন এবং নিজের বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণে তিনি ছিলেন চৌকস। কিন্তু সে বক্তব্যে থাকত না শ্লেষ, থাকত না ব্যক্তিগত আক্রমণ। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি কলেজ, ডেইরি ফার্ম, সালথা উপজেলা বাস্তবায়ন, নগরকান্দা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেছেন। কে এম ওবায়দুর রহমানের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।
শওকত আলী শরীফ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫