অর্জন ধরে রাখতে দুর্নীতি অন্যতম চ্যালেঞ্জ : তারানা

বিশেষ সংবাদদাতা

তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্জন ধরে রাখতে দুর্নীতি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার বেশির ভাগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছে। তাই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে বর্তমান সরকারকে আরো একবার ক্ষমতায় আসতে হবে। এর জন্য তিনি জনগণের সমর্থন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণযোগাযোগ অধিদফতর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঐতিহাসিক সাফল্য জাতীয়পর্যায়ে উদযাপনের অংশ হিসেবে ৬২টি জেলা ও চারটি পার্বত্য উপজেলায় একযোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুয়াল হোসেন, গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের এই অর্জন ধরে রাখতে তিনটি চ্যালেঞ্জের বিষয় উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি হচ্ছে দুর্নীতি। আগে যে দুর্নীতিতে হ্যাট্রিকের নজির আছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। সবক্ষেত্রে যদি জিরো টলারেন্স দেখিয়ে সমূলে দুর্নীতি উৎপাটন করতে পারি তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তদারকির অভাবকে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের তদারকি জোরদার করতে হবে। এছাড়া সরকারের অর্জনকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের অংশীদার জনগণ। তাদের কাছে আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এজন্য আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বর্তমান সরকার বেশির ভাগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়াটাও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার একটা দৃষ্টান্ত।
ডিজিটাল বাংলাদেশ এ সরকারেরই অবদান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ২০২১ এবং ২০৪১-এর যে মিশন রয়েছে, সে মিশনের প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলো আমরা পেরিয়ে আসছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সবার সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত, যথোপযুক্ত পলিসি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণে বাংলাদেশের এই সাফল্য এসেছে। বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকার কারণে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে। আগামীতে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। আমাদের ২০০৫-০৬ সালের স্থবিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতিতে প্রচার-প্রচারণায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, জানতে চাইলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা বলেন, বাড়তি কোনো খরচ নেই। সরকারের তথ্য কর্মকর্তারা প্রচার-প্রচারণার কাজটিই করে থাকেন। ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমরা কৃপণতা অবলম্বন করে থাকি। আমরা শ্রমটা বেশি দিয়ে থাকি।
তারানা হালিম জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতে যে তিনটি সূচক রয়েছে, সব সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মানদণ্ড অনুযায়ী মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার হলেও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ ডলার। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচক মানদণ্ড অনুযায়ী, ৬৬ বা এর বেশি হলেও বাংলাদেশের সূচক ৭২ দশমিক ৯ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের মানদণ্ড ৩২ বা এর কম, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সূচক ২৪ দশমিক ৩। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী খাদ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, রিজার্ভসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.