ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

আইন ও বিচার

লন্ডনের সাবেক জজকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মার্চ ২০১৮,মঙ্গলবার, ১১:৫৫


প্রিন্ট
আদালতে খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)

আদালতে খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)

ব্রিটিশ আইনজীবী ও লন্ডন হাইকোর্টের সাবেক জজ লর্ড কারলাইনকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার ফাইয়াজ জিবরান মঈন নয়া দিগন্তকে এ তথ্য জানান।

তারা জানান, লর্ড কারনাইন লন্ডন হাইকোর্টে দীর্ঘ ২৮ বছর খণ্ডকালীন জজের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খালেদা জিয়ার সব মামলার ব্যাপারে আইনী পরামর্শ দেবেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে (পুরাতন) অন্তরীণ আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ দুদক ও রাষ্ট্রপরে লিভ টু আপিল (আপিলের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন) গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

একই সাথে আদালত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে আপিলের সারসংপে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দিতে হবে। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হলো। আগামী ৮ মে আপিলের শুনানি।

আদেশের পর আদালত থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, আমরা প্রত্যাশা করিনি, ভাবিনি, অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হবে। এটি নজিরবিহীন। আমরা মর্মাহত। অতীতে কখনো দেশের সর্বোচ্চ আদালত এমন আদেশ দেননি। যেহেতু এটি সর্বোচ্চ আদেশ, তাই এ আদেশ আমরা মানতে বাধ্য। তবে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো, যাতে বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হন।

অন্য দিকে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জমিরউদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে সিনিয়র আইনজীবীরা আবার আপিল বিভাগে যান। সবার পক্ষে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার আপিল বিভাগে বলেন, আদালতের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, সবার প থেকে করজোড়ে আবেদন করছি, খালেদা জিয়ার মামলা ভ্যাকেশনের আগেই শুনানির দিন ধার্য করা হোক। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ৮ মে দিন ধার্য করেছি। আমরা প্রথমে যে আদেশ দিয়েছিলাম আপনাদের অনুরোধে তা পুনর্বিবেচনা করেছি। আদেশ হয়ে গেছে এখন আর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এরপরও জমিরউদ্দিন সরকার অনুরোধ জানাতে থাকলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ৮ মে এই মামলা শুনানির জন্য তালিকায় শীর্ষে থাকবে। কোনো ধরনের মুলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে শুনানি হবে। ৮ মে না হলেও ৯ মের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করব। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালত ক থেকে বের হয়ে যান। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট অবকাশকালীন বন্ধ থাকবে।

এ সময় আদালতে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, নওশাদ জমির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদেশের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অন্য দিকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের আদেশ দেখতে হুইল চেয়ারে করে গতকাল সকালে আদালতে আসেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তিনি খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, আবদুর রেজাক খান, আমিনুল হক ও জয়নুল আবেদীনের সাথে একই বেঞ্চে বসেন।

বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে গতকাল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আদেশের শুরুতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, এটা আমাদের সবার ডিসিশন। চার সপ্তাহের মধ্যে মামলার সারসংক্ষেপ দিতে হবে। রাষ্ট্রপ ও দুদকের লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হলো। ২২ মে আপিলের শুনানি।

খালেদা জিয়ার এখন আর মুক্তি হবে না : অ্যাটর্নি জেনারেল
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজের অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, আদালত শুনানির জন্য ২২ মে দিন ধার্য করেছিলেন। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেেিত এগিয়ে এনে ৮ মে নির্ধারণ করেছেন। আজকের এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার এখন আর মুক্তি হবে না। তাকে কারাভোগ করতে হবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগের এই আদেশকে নজিরবিহীন উল্লেখ করেছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নিশ্চয়ই খুব একটি ভালো উচ্চারণ নয়। তারা জিনিসটাকে রাজনীতিকীকরণের চেষ্টা করছেন। এখানে খালেদা জিয়াকে সব রকম সুবিধা দিয়ে আদালত এ দণ্ড প্রদান করেছেন। এটাকে নিয়ে যারা রাজনীতি করতে চাইছেন, তারা নিশ্চয়ই সফল হবেন না। কারণ এটা কোনো রাজনীতির বিষয় না। এটা সাধারণ অপরাধের বিষয়।

সাজা বাড়াতে আপিল করবে দুদক
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে হাইকোর্টে আপিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, শিগগিরই খালেদার সাজা বাড়াতে আপিল করা হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ওই মামলায় মূল অপরাধী। কিন্তু অন্য আসামিদের তুলনায় তার কম সাজা হওয়ায় দুদক সাজা বাড়াতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগিরই এ আবেদন দাখিল করা হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। এ ছাড়া এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের নথি পৌঁছার পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। গত সোমবার চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫