‘আমার ছেলেকে জ্যান্ত এনে দাও, না হলে পোড়া ছাই দাও’
‘আমার ছেলেকে জ্যান্ত এনে দাও, না হলে পোড়া ছাই দাও’

‘আমার ছেলেকে জ্যান্ত এনে দাও, না হলে পোড়া ছাই দাও’

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আমার সোনার মতো ছেলের জন্য সবাই অপো করছে। এপ্রিল মাসে তার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। ফুলের মতো বউ দেখেছি। তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। জ্যান্ত ছেলেকে এনে দাও। যদি না পারো, তাহলে লাশ দাও। যদি লাশ না পাও তাহলে তার পোড়া ছাই এনে দাও। আমি আমার বাবার পোড়া ছাই বুকে নিয়েই ঘুমিয়ে থাকব।’
নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত আফিলুজ্জামানের মা মনিকা বেগম গতকাল সোমবার আর্মি স্টেডিয়ামে ছেলের লাশ খুঁজে না পেয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে যাকে পাচ্ছেন তাকেই ধরে আহাজারি করছেন আর ছেলেকে না পাওয়ার কষ্ট ও বেদনার কথাগুলো বলছেন।
নিহত আলিফুজ্জামান খুলনা বিএল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ব্যবসাও করতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে আলিফ ছিলেন দ্বিতীয়। ভ্রমণপিপাসু আলিফ ইতোমধ্যে বাহরাইন, সৌদি আরব ও ভারত ঘুরেছেন। সর্বশেষ ঘোরার শখ জেগেছিল নেপালের হিমালয় দেখার।
জানা গেছে, নেপালে নিহত ২৬ বাংলাদেশীর মধ্যে হতভাগা যে তিনজনের লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়নি আলিফ তাদের একজন। এপ্রিল মাসেই তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। মেয়েও দেখা আছে। আর এখন সবই স্মৃতি হয়ে গেল আলিফের পরিবারে।
আলিফের মামা শাহাবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পরপরই নেপালে ছুটে গিয়েছিলেন আলিফকে খুঁজতে। কিন্তু চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ টেস্ট করার পরই হয়তো লাশ শনাক্ত করা যাবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.