স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

বাসস

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের শত্রু। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সবার মধ্যে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামেই এখানকার মানুষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারছে।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই স্বাধীনতাযুদ্ধে কার কী অবদান রয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে হবে। খণ্ডিত ইতিহাস কোনো জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে না। তিনি বলেন, বিগত দিনে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতি হয়েছে। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। তারা সবকিছু জেনে শুনেই করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভয় পায় বলেই এ সব করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের যন্ত্রণা ভুলতে পারেনি। ফলে এই অশুভ শক্তি যখনই সুযোগ পায়, তখনি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা তার ভাষণে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। ভাষণে তার অবর্তমানে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও তিনি পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে ৭ মার্চের ভাষণ হচ্ছে বাঙালির মুক্তিসনদ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এবং স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় দিন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জয়দেবপুরে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে শহীদ নেয়ামত, মনু খলিফা, হরমতসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, মো: জাহিদ আহ্সান রাসেল এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ্ খান এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান এম হুমায়ন কবির।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.