ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

বর্ষায় ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা

খাল-ড্রেনে বাড়ছে মশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মার্চ ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:২৭


প্রিন্ট

খাল-ড্রেন মশার বংশ বিস্তারের অন্যতম ক্ষেত্র হলেও সেসব স্থান ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। খাল-ড্রেন পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব থাকলেও তারা সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। এ কারণে মশার উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে। সভায় মশার ওষুধের মান নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তোলেন। মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহবান জানান তারা।
গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) গুলশান নগরভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে করণীয় ঠিক করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অংশ নিয়ে মিরপুর উত্তর পীরেরবাগ বাড়ি মালিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার বলেন, গত বছর আমার স্ত্রীর চিকুনগুনিয়া রোগ হয়। এরপর অনেক চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু এখনো তিনি সুস্থ হননি। মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ রোগ যে কত ভয়াবহ যার হয়েছে তিনিই বুঝতে পেরেছেন। এ বছরও যাতে এ রকম রোগ ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আগে থেকেই সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। খাল-ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। সেগুলো পরিষ্কার করা উচিত। মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, জাপান গার্ডেন সিটির ২৬টি ভবনে প্রায় ১০ হাজার লোক বসবাস করে। এখানে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। কিন্তু সিটি করপোরেশন সেখানে প্রয়োজনমতো ওষুধ দেয় না। এ কারণে আমরা নিজেরাই ওষুধ ও ফগার মেশিন কিনে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি বলেন, জাপান গার্ডেন সিটির পাশেই রামচন্দ্রপুর খাল। এ খাল নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এখানে প্রচুর মশা জন্মাচ্ছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেয়া উচিত। ডিএনসিসির ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, খালগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব ওয়াসার থাকলেও সেগুলো তারা নিয়মিত পরিষ্কার করে না। এ কারণে মশা বাড়ছে।
সভায় গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, উত্তরা, মোহাম্মদপুরের বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতি, হাউজিং সোসাইটির কর্মকর্তারা মশা নিয়ে তাদের অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তাদের বেশির ভাগের বক্তব্যেই উঠে এসেছে খাল-ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করার কথা। এ কারণে এসব খাল-ড্রেনে মশার বংশ বিস্তার হয়ে তা বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন নিয়মিত ওষুধ ছিটায়না বলেও তারা অভিযোগ করেন। এ ছাড়া মশার ওষুধের মান নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তোলেন।
সভায় ডিএনসিসির সমন্বয় সভার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, মশা নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ১৮ জুলাই থেকে গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত আট মাসে ছয় দফা বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হয়েছে। ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই। মেশিনও আছে যথেষ্ট। চালু করা হয়েছে হটলাইন। তারপরও মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আসন্ন বর্ষায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে বলা হয়, এমনকি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
সভায় ডিএনসিসির পক্ষ থেকে গত জানুয়ারি মাসে ঢাকার দুই সিটির ৯৩টি ওয়ার্ডে দুই হাজার বাসায় পরিচালিত এক জরিপ তুলে ধরে বলা হয়, ১৯টি এলাকায় মশার উৎপাত বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে উত্তরের ১১টি এবং দক্ষিণের রয়েছে ৮টি এলাকা।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, মশা নিধনের ওষুধ খারাপ এটা বলা যাবে না। কারণ তিন স্তরে পরীা-নিরীা চালানোর পর ওষুধ মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ওসমান গনি বলেন, আমাদের জনবল কম। তারপরও যে জনবল ও যন্ত্রপাতি আছে তা দিয়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করে যাবো। জনবল আরো বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ সময় তিনি আজ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত সেবা সপ্তাহ ঘোষণা করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র-২ ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা, প্যানেল মেয়র-৩ কাউন্সিলর আলেয়া সরোয়ার ডেইজী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জাকির হাসান, মশক নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা: জিনাত আলী, প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নৌবাহিনীর কমোডর ড. আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫